বর্ষার বৃষ্টিমাখা কদম ফুল ফোটা শেষে নতুন শুভ্রতা নিয়ে শরতের কাশফুল ফুটছে। আকাশ যেন সাজছে কালো মেঘ থেকে শুভ্র রঙে। নদীর ধারে মিলেমিশে একাকার হচ্ছে আকাশ ও মাটির সাদা সাদা মেঘ। তালপাকা গরম থাকলেও আছে স্বস্তিদায়ক বৃষ্টি আলোকোজ্জ্বল ভোরসহ সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ।
আশা করছি কুঁড়ি বন্ধু, তুমি এই সুন্দর পরিবেশে আনন্দের সাথেই দিনাতিপাত করছ।
প্রিয় কুঁড়ি বন্ধু, তুমি কি নিজেকে কখনো প্রশ্ন করেছ, তুমি আসলে কী? তুমি কোথা থেকে এলে? কেনইবা তুমি এলে? প্রশ্ন করলেও তুমি কি উত্তরগুলো ঠিকঠাক পেয়েছিলে? কিছু সময় দেয়া হলে তুমি কি সেই উত্তরগুলো খুঁজে বের করতে পারবে?
কিংবা তুমি যদি এই উত্তরগুলো জানতে চাও তোমার কি কোনো গ্রন্থের সহযোগিতা নেয়া লাগবে? বা তুমি কী মনে করো? তুমি নিজে থেকেই এই উত্তরগুলো করতে পারবে?
আচ্ছা- তুমি ভাবতে থাকো…
আচ্ছা! তোমার বা তোমার অভিভাবকের কাছে কি স্মার্টফোন আছে? হয়তো তুমি ভাবছো, এও কি জিজ্ঞেস করার মতো? আছেই তো!
হুম! তুমি কি কখনো লক্ষ করেছো, নতুন কেনা স্মার্টফোনটি যখন বক্স থেকে খোলা হয়, তার সাথে কী কী পাওয়া যায়?
তুমি হয়তো ভাবছো, এ আবার এমন কী? স্মার্টফোন, চার্জার এই তো…
হ্যাঁ, এগুলো তো থাকেই। তবে এর সাথে স্মার্টফোন পরিচালনার একটা ম্যানুয়ালও থাকে। স্মার্টফোন কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, কী করলে স্মার্টফোনের জন্য ভালো হবে আর কী করলে মন্দ- তা লেখা থাকে এ ম্যানুয়ালে।
এ ম্যানুয়ালটি কে লিখেছে, জানো?
হয়তো বলবে- এই স্মার্টফোনটি যিনি তৈরি করেছেন, তিনিই।
হ্যাঁ বন্ধুরা! তোমরাই সঠিক।
এবার এসো, প্রথম প্রশ্নের উত্তর আমরা খোঁজার চেষ্টা করি।
প্রথম প্রশ্নটা যেন কী ছিলো? আচ্ছা, মনে পড়েছে। তুমি আসলে কী?
তুমি হয়তো উত্তরে এটাই বলবে, আমি একজন মানুষ।
দ্বিতীয় প্রশ্ন- কোথা থেকে তুমি এলে?
তোমার উত্তর হয়তো হবে- মহান স্রষ্টা আমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, তাই আমি রুহের জগৎ থেকে পৃথিবীতে এসেছি।
এবার এসো মূল প্রশ্নে- কেনই বা তুমি এলে? সৃষ্টিই বা কেন তোমাকে করা হলো? কিংবা কী করলে তোমার ভালো হবে আর কী করলে হবে খারাপ?
এসব কি তুমি এমনিতেই বুঝতে পারো? হয়তো ভাবছো, না তো!
যেমনটা স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে দেখলাম, যিনি এটি তৈরি করেছেন, তিনিই এর ভালো-মন্দ বুঝতে পারছেন। মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা কি এরকমই? আমার জন্মের সাথেও কি একটা ম্যানুয়াল এসেছিলো? তাহলে আমার ম্যানুয়ালটা কই?
হ্যাঁ। হয়তো, তোমার জন্মের সাথে সাথে সৃষ্টিকর্তা ম্যানুয়াল পাঠাননি। কিন্তু তুমি নিশ্চয়ই জানো- আল্লাহ তায়ালা তুমি-আমি, আমাদের সবার জন্য একটি ম্যানুয়াল রাসুল (স.) এর উপর অবতীর্ণ করেছিলেন। ম্যানুয়ালটির নাম নিশ্চয়ই জানো- ‘আল কোরআন’।
তাহলে বন্ধুরা- আমরা যা করবো, তা ম্যানুয়াল অনুযায়ীই হতে হবে। নয়তো আমরা নিজেরাই ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাবো। বুঝতেই পারবো না। তাহলে আমাদের কী করণীয় হতে পারে? আমরা নিয়মিত ধর্মীয়গ্রন্থ অর্থসহ বুঝে পড়ে তা বাস্তবে মেনে চলার চেষ্টা করলেই আমরা সঠিকভাবে পরিচালিত হবো। এবং একজন সফল মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো।
এখন আসো-
সফলতার মূলমন্ত্র কী, তুমি কি জানো?
তুমি হয়তো বলবে- আত্মবিশ্বাস।
হ্যাঁ বন্ধুরা, সফলতার পূর্বশর্ত আত্মবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস থাকলে তুমি দাঁড়াতে পারবে পৃথিবীর সকল প্রতিকূলতার বিপরীতে, এমনকি তুমি একা হলেও। গ্রেটা থুনবার্গের নাম শুনেছো নিশ্চয়ই। গ্রেটা টিনটিন এলিওনোরা এর্নম্যান থুনবার্গ যখন জলবায়ু নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর, হয়তো তোমাদের অনেকের বয়সের সমান। তাঁর Skolstrejk för klimatet (জলবায়ুর জন্য স্কুল ধর্মঘট) আন্দোলন তিনি একাই শুরু করেন। কিন্তু তাঁর সোজাসাপ্টা কথা বলার ভঙ্গি এবং অনমনীয়তা দ্রুতই তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। ২০১৯ সালে কপ-২৫ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে তাদেরকে বকুনি দেয়ার দৃশ্য অভাবনীয়ই বটে। এ বছর তাঁর ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে যাত্রাও ছিলো পুরো পৃথিবীর অক্ষমতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার মতো।
এই যে পুরো পৃথিবীকে চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতা, তার পেছনে কী ছিলো বলো তো? হ্যাঁ, আত্মবিশ্বাস। গ্রেটার আত্মবিশ্বাসই তাঁকে পুরো পৃথিবীর সামনে একা দাঁড়ানোর সাহস, শক্তি ও সক্ষমতা যুগিয়েছে।
বন্ধুরা, ফুলকুঁড়ি আসর কী চায় বলো তো? ফুলকুঁড়ি আসর পৃথিবীকে গড়তে চায়। পৃথিবীকে যদি আমাদের স্বপ্নের মতো সুন্দর করে সাজাতে হয়, তাহলে আমাদেরকে অনেক প্রতিকূলতার সামনে দাঁড়াতে হবে। এজন্য আমাদের প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস- নিজের শক্তি ও সামর্থের ওপর দৃঢ় আস্থা। আর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য কী করতে হবে? সহজ উত্তর, নিজেকে গড়তে হবে। নিজেকে গড়ার জন্য আগে নিজেকে চিনতে হবে, নিজেকে ভেঙেচুরে নতুনভাবে গড়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে।
১৯৭৪ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে ফুলকুঁড়ি আসর অগণিত কুঁড়িকে নিজেকে চিনতে শিখিয়েছে, নিজকে গড়তে অনুপ্রাণিত করেছে। পৃথিবীকে গড়ার এ দীর্ঘ যাত্রায় তুমিও কি ফুলকুঁড়ি আসরের সঙ্গী হতে চাও? তোমাকে সাদর আমন্ত্রণ।
সবাইকে ফুলকুঁড়ি আসরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা।
প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০২৫



