খুলনা পাবলিক কলেজ

0
0

সাদমান একটি পাবলিক কলেজে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ে। কি, অবাক হচ্ছো তাই না? কলেজে আবার ৪র্থ শ্রেণিতে কীভাবে পড়ে? সাদমানের সমবয়সী ঢাকায় বসবাস করা তার কাজিন উমারও প্রথমবার শুনে অবাকই হয়েছিল। অবাক হওয়ারই কথা। সে বিভিন্ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাম শুনেছে, সেখানে না হয় ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়ন সম্ভব। কিন্তু একটি কলেজে কীভাবে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়া সম্ভব সেটা সে প্রথমে বুঝে উঠতে পারেনি।

বলছিলাম ‘খুলনা পাবলিক কলেজ’ এর কথা। বিভাগীয় শহর খুলনার প্রাণকেন্দ্র বয়রা এলাকায় কলেজটি অবস্থিত।
খুলনা পাবলিক কলেজ, খুলনা শহরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি ১৯৮৭ সালের ২০ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত এই কলেজটি একটি স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
নামে খুলনা পাবলিক কলেজ হলেও এটি মূলত একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রায় সাড়ে পাঁচ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এ কলেজে তৃতীয় শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এখানে শুধু বালকেরা পড়ার সুযোগ পায়। অর্থাৎ, এটি একটি বয়েজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২৬০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং তাদের সঠিক শিক্ষাদানের জন্য ৮৮ জন দক্ষ শিক্ষক নিয়োজিত আছেন।

কলেজটিতে বর্তমানে একটিমাত্র শিফটে পাঠদান হয়। তবে, ইতোপূর্বে প্রাতঃ এবং দিবা- দুই শিফটে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হতো। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ৭০টি শ্রেণিকক্ষ, ৮টি আধুনিক গবেষণাগার এবং একটি হোস্টেল, যার নাম কাজী আজহার আলি হাউস।
কলেজের একটি গ্রন্থাগার আছে- যেখানে ৭৩৫২টি মূল্যবান বই রয়েছে, যা ছাত্রদের জ্ঞানচর্চায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৯টি ভবন এবং একটি চমৎকার অডিটোরিয়াম রয়েছে।
স্কুল এবং কলেজ উভয় সেকশন একইসাথে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হয়ে থাকেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল। বর্তমান অধ্যক্ষের নাম লে. কর্নেল মুনীর আব্বাস, পিএসসি, পদাতিক।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের জন্য কলেজের ছাত্রদের চারটি হাউসে বিভক্ত করা হয়েছে- রূপসা, ইছামতি, কপোতাক্ষ এবং ভৈরব। প্রতি বছর কলেজ থেকে একটি সুন্দর বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘প্রত্যাশা’ প্রকাশিত হয়, যেখানে ছাত্রদের লেখা কবিতা, গল্প, প্রবন্ধসহ নানা সৃজনশীল কাজসমূহ স্থান পায়।
কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে স্কুল এবং কলেজ সেকশনে আলাদা আলাদা ছাত্র প্রতিনিধি নিযুক্ত আছে যা শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হওয়া এবং নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ করে দেয়।

প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে কলেজ ডিবেটিং ক্লাব বেশ সুখ্যাতি ছড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানীয়, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এখানকার শিক্ষার্থীরা চমৎকার নৈপুণ্যতা দেখিয়েছে। এছাড়াও, প্রতিবছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে শিক্ষার্থীরা ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করে থাকে এবং উচ্চ মাধ্যমিকের পর শিক্ষার্থীদের বড় একটা সংখ্যা মেধার ভিত্তিতে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের স্থান দখল করে।

‘আমরা পাবলিক কলেজের শত শত প্রাণ’ শিরোনামে কলেজটির নিজস্ব একটি কলেজ সংগীতও আছে যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও কলেজপ্রেম জাগিয়ে তোলে।

বিদ্যালয়ের সাধারণ তথ্য

নাম : খুলনা পাবলিক কলেজ
ঠিকানা : বয়রা, খুলনা
পোস্টকোড : ৯০০০
প্রতিষ্ঠা : ২০ জানুয়ারি ১৯৮৭
মর্যাদা : শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
অধ্যক্ষ : লে. কর্নেল মুনীর আব্বাস, পিএসসি, পদাতিক।
শিক্ষক : ৮৮
জমির পরিমাণ : প্রায় সাড়ে পাঁচ একর
ছাত্রসংখ্যা : ২৬০০
শিক্ষার স্তর : ৩য় থেকে ১২শ (শুধু বালক)
শিফট :
গ্রন্থাগারে বইয়ের সংখ্যা : ৭৩৫২টি
ভবন : ৯টি
অডিটোরিয়াম : ১টি
শ্রেণিকক্ষ : ৭০টি
গবেষণাগার : ৮টি
হোস্টেল : ১টি (কাজী আজহার আলি হাউস)
হাউস : ৪টি (রূপসা, ইছামতি, কপোতাক্ষ, ভৈরব)
বার্ষিক ম্যাগাজিন : প্রত্যাশা
EIIN : 117111
Contact : 024777-01339
ওয়েবসাইট : www.kpcbd.edu.bd

মাসিক ফুলকুঁড়ি অত্র কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জাবির সাথে কথা বলে। কথোপকথন এর অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো:

মাসিক ফুলকুঁড়ি : এ প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে তোমার অনুভূতি কেমন?
জাবির : এ কলেজে ভর্তির জন্য আমি বেশ উদগ্রীব ছিলাম। বলা যায়, এখানে ভর্তি হতে পেরে আমার জীবনের একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমার কলেজের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকগণ কেমন?
জাবির : আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীরা বেশ বন্ধুসুলভ। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরাও বেশ আন্তরিক। আমাদের গড়ে তুলতে এবং প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে তাঁরা সদা তৎপর।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : কলেজের কোন বিষয়টি তোমার বেশি ভালো লাগে?
জাবির : আমাদের কলেজের কো-কারিকুলার দিকটি বেশ সমৃদ্ধ। একজন শিক্ষার্থী তার প্রতিভার বিকাশের যথেষ্ট সুযোগ পায়। যেমন আমার বিতর্ক ভালো লাগে। আমার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিচ্ছে কলেজ ডিবেটিং ক্লাব।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : কলেজের মান আরও উন্নতির লক্ষ্যে তোমার কোনো মতামত বা পরামর্শ আছে?
জাবির : বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার কারণে প্রায়ই আমাদের দীর্ঘদিনের জন্য ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। এ সময়টুকুতে আমাদের পড়াশোনার গ্যাপ ˆতরি হয়।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমার কলেজ নিয়ে তোমার মন্তব্য কী?
জাবির : আমার কলেজকে আমি খুব ভালোবাসি। আমাদের সাফল্যের মাধ্যমে আমাদের কলেজের নাম ছড়িয়ে পড়ুক দেশ হতে দেশান্তরে, এই প্রত্যাশাই করি।

প্রকাশকাল: জুলাই ২০২৫