সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ

0
4

১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডের রানী ভিক্টোরিয়া সিংহাসনে বসেন। তাঁর ক্ষমতা গ্রহণের ৫০ বছর পূর্তি (Golden Jubilee) উদযাপন উপলক্ষে ১৮৮৭ সালে উপমহাদেশে ১৪টি স্কুল ‘জুবিলী’ নামে প্রতিষ্ঠা করেন। সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ এর মধ্যে একটি। স্কুলটি অবশ্য ১৮৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিলো ‘হাসন মিডল ইংলিশ স্কুল’ বা হাসন এম ই স্কুল।

স্কুলটির অবস্থান সুনামগঞ্জ জেলার পৌরভবন সংলগ্ন ডিএস রোডে। স্কুলটি জাতীয়করণ করা হয় ১৯২৮ সালে। বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ১৭০০ শিক্ষার্থী আছে। এটি একটি বয়েজ স্কুল বা বালক বিদ্যালয়। স্কুলটিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ মোট ৫৯টি পদ অনুমোদিত আছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ সমাদৃত।
বিদ্যালয়টিতে প্রভাতি ও দিবা দুইটি শিফটে ৩য় শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রভাতি শিফট সকাল ৭:১৫ থেকে বেলা ১১:৪০ পর্যন্ত এবং দিবা শিফট বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত পরিচালিত হয়। স্কুলটিতে চমৎকার একটি খেলার মাঠ ও স্কুলের চারপাশে সীমানা প্রাচীর বিদ্যমান। স্কুল আঙিনা প্রায় ৬.৬ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। দালান এবং টিনশেডসহ মোট ৬টি আলাদা আলাদা ভবন এবং পাঠদানের জন্য ৩২টি শ্রেণিকক্ষ আছে। বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞানাগারের জন্য ৩টি ও পাঠাগারের জন্য বড় একটি কক্ষ আছে যেখানে বহুসংখ্যক বই সংরক্ষিত আছে। ছোট-বড় বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য আছে একটি অডিটোরিয়াম।

স্কুলটি যেহেতু ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের নামকরা অনেক গুণিজন ছিলেন, আছেন যারা এই বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত গীতিকার মনিরুজ্জামান মনির, একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত প্রচ্ছদ শিল্পী ও লেখক ধ্রুব এষ এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়াও বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাদিক, সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরীসহ বিভিন্ন সময়ের এমপি-মন্ত্রী, সরকারি অনেক সচিব, কর্মকর্তা এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ-বিদেশের অধ্যাপক, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, সুপ্রীমকোর্টের স্বনামধন্য আইনজীবীসহ বিভিন্ন গুণিজনদের সন্ধান পাওয়া যায়।

অধ্যক্ষের মন্তব্য :
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ নিয়ে স্বনামধন্য শিশুকিশোর পত্রিকা ‘মাসিক ফুলকুঁড়ি’ ফিচার করতে যাচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশ কর্মঠ এবং মেধাবী। আমরা চেষ্টা করি, পড়াশুনার পাশাপাশি তাদেরকে কো-কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিজে যুক্ত করাতে। এক্ষেত্রে ফুলকুঁড়ি আসর আমাদের স্কুলে বেশ ভালো ভূমিকা রাখছে। আমি ফুলকুঁড়ি আসর এবং মাসিক ফুলকুঁড়ির উত্তরোত্তর মঙ্গল কামনা করছি।

বিদ্যালয়ের সাধারণ তথ্য

স্কুলের নাম     : সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ
প্রতিষ্ঠাকাল     : ১৮৮৭ খিষ্টাব্দ
ঠিকানা          : ডিএস রোড, সদর, সুনামগঞ্জ
পোস্ট অফিস  : সুনামগঞ্জ
পোস্ট কোড    : ৩০০০
উপজেলা       : সদর, সুনামগঞ্জ
জেলা            : সুনামগঞ্জ
বিভাগ           : সিলেট
ফোন            : ০৮৭১-৬১৩৪০
প্রধান শিক্ষক   : (ভারপ্রাপ্ত)
নাম              : মো. হাফিজুর রহমান খান
মোবাইল         : ০১৭৯১৯৪৭৬৯২
মোট ছাত্র       : ১৭৫৭
বিদ্যালয়ের ধরন : বালক
বিজ্ঞানাগার এর জন্য কক্ষ সংখ্যা : ৩
পাঠাগার এর জন্য কক্ষ সংখ্যা : ১
অডিটোরিয়াম আছে কি না : আছে
সীমানা প্রাচীর আছে কি না : আছে
ই-মেইল         :sg.jubilee1887@gmail.com
ওয়েবসাইট      : www.gjhs.edu.bd

মাসিক ফুলকুঁড়ি স্কুলের দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী মুনতাসির ফাহাদ সিকদার-এর সাথে কথা বলে। কথোপকথনের অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো :

মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমার বিদ্যালয় সম্পর্কে সংক্ষেপে বলো
মুনতাসির : এটি আমাদের শহরের অন্যতম প্রাচীন এবং পরিচিত একটি বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর পরিবেশে অবস্থিত। এখানে অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে এবং ফলাফলও বেশ ভালো।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে তোমার অনুভূতি কেমন?
মুনতাসির : আমি গর্বিত এবং আনন্দিত এখানে পড়তে পেরে, কেননা এখানে পড়ালেখার পাশাপাশি নানা সহপাঠ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাই, যা আমাকে আরও উন্নত হতে সাহায্য করে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি তোমার কেমন লাগে?
মুনতাসির : আমাদের শিক্ষকরা অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। তারা পাঠ্যবিষয়গুলো সহজভাবে বুঝিয়ে দেন। অনেকেই প্রজেক্টর ব্যবহার করেন এবং বাস্তব উদাহরণ দিয়ে পড়ান, যা আমাদের বুঝতে অনেক সাহায্য করে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : তুমি তোমার বিদ্যালয়ের কোন বিষয়টির পরিবর্তন দেখতে চাও?
মুনতাসির : কখনো কখনো কিছু টয়লেট বা ক্লাসরুম যথেষ্ট পরিষ্কার থাকে না, যা আমাদের অসুবিধায় ফেলে। আমি এই বিষয়টির পরিবর্তন দেখতে চাই।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : কেউ তোমার বিদ্যালয়ে পড়তে চাইলে তুমি তাকে কী পরামর্শ দিবে?
মুনতাসির : আমি বলব, যদি তুমি নিয়মিত পড়াশুনা করতে চাও এবং একজন ভালো মানুষ হতে চাও, তবে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হও। এখানকার পরিবেশ, শিক্ষক এবং পাঠদান পদ্ধতি তোমার অবশ্যই উপকারে আসবে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমার বিদ্যালয় নিয়ে তোমার মন্তব্য কী?
মুনতাসির : আমার বিদ্যালয় আমার গর্ব। এখান থেকে আমি শুধু বইয়ের জ্ঞানই না, জীবনের শিক্ষাও পাচ্ছি। আমি আশা করি এই বিদ্যালয় ভবিষ্যতেও এর সুনাম ধরে রাখবে এবং আরও উন্নত হবে।

প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২৫