প্রিয় বন্ধুরা! কেমন আছো? আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক বেশি ভালো আছে। গত পর্বে আমরা জেনেছি বৃষ্টি নিয়ে। আজ আমরা জানবো চোখে দেখা যায় না এমন একটি জিনিস নিয়ে। কিন্তু এটি আমাদের খুবই পরিচিত। আর তা হলো বাতাস। বাতাস চোখে দেখা যায় না ঠিকই কিন্তু বাতাসের অস্তিত্ব আমরা টের পাই। যেমন- গাছের পাতা নড়তে দেখলে আমরা বুঝতে পারি, বাতাসের কারণে তা নড়ছে। আবার ঝড়ে বাতাসের সাথে ধুলাবালি, খড়কুটো, ঘরের চাল ইত্যাদি উড়ে যায়। আমরা বুঝতে পারি বাতাসের কারণেই তা উড়ে যাচ্ছে।
আচ্ছা বাতাস তো চোখে দেখা যায় না। তাহলে এবার তোমরা বল তো বাতাস কি কোনো পদার্থ? তোমরা নিশ্চয়ই জানো পদার্থ বলতে কী বুঝায়। যার ভর আছে, যা স্থান দখল ও বল প্রয়োগে বাধা দেয় তাই পদার্থ। এ সব বেশিষ্ট্য বাতাসের আছে। একটা পরীক্ষা করলেই সহজে বোঝা যায় বাতাসের ভর আছে।
দুটো বেলুন নাও। সমানভাবে ফুলিয়ে বেলুন দুটি একটা লাঠি বা স্কেলের দুই প্রান্তে বেঁধে নাও। এবার লাঠির ঠিক মাঝ বরাবর সুতা বেঁধে ঝুলিয়ে দাও। দেখবে বেলুন দুটো ভারসাম্য অবস্থায় সমানভাবে ঝুলছে। এবার যদি আলপিন দিয়ে একটা বেলুন ফুটো করে এর ভেতরের বাতাস বের করে দাও, তাহলে দেখবে ফুলানো বেলুন নিচের দিকে নেমে যায় আর খালি বেলুন উপরের দিকে উঠে যায়। অর্থাৎ বাতাস ভর্তি বেলুন খালি বেলুনের চেয়ে ভারী। তার মানে বাতাসের ভর আছে। এবার আরেকটি কাজ করা যাক, একটা বালতিতে পানি ভরে নাও, এখন এই বাতাস ভর্তি বেলুন পানিতে ডুবানোর চেষ্টা করো। দেখবে, বালতির পানি উপচে পড়বে। অর্থাৎ বেলুনের বাতাসকে জায়গা দেওয়ার জন্য বালতির পানি কিছুটা উপচে পড়ে। অর্থাৎ বাতাস স্থান দখল করে। এবার বাতাস ভর্তি বেলুনটিকে দুই হাত দিয়ে চাপ দাও। দেখবে বেলুনটি চুপসে যাচ্ছে না। বরং তুমি যে বল দিচ্ছো তার বিপরীতে বাধা দিচ্ছে। অর্থাৎ বাতাস বল প্রয়োগে বাধা দেয়। আমরা তাহলে বুঝতে পারছি বাতাস এক ধরনের পদার্থ।
তাহলে এখন প্রশ্ন হলো বাতাস কী দিয়ে গঠিত? বাতাস আসলে অনেক গ্যাসের মিশ্রণ। বাতাসের প্রধান উপাদান হলো নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, আরগন, কার্বন ডাই অক্সাইড ইত্যাদি। তাছাড়া, হিলিয়াম নিয়ন, মিথেন, ক্রিপটোন, হাইড্রোজেন ওজোন, ও কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস অল্প পরিমাণে থাকে। বাতাসে জলীয় বাষ্পও থাকে কিছু পরিমাণ।
পৃথিবীর আকর্ষণের কারণে এই বাতাস চাদরের মতো পৃথিবীর চারপাশে আবরণের সৃষ্টি করে। একেই আমরা বলি বায়ুমণ্ডল। পৃথিবীতে প্রাণীজগতের অস্তিত্ব এই বায়ুমণ্ডলের উপর নির্ভর করে। এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস থেকে শুরু করে গাছের খাদ্য তৈরি সব কিছুতে ভূমিকা রয়েছে বায়ুমণ্ডলের। এখন তোমাদের মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে, পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে কত উপর পর্যন্ত এই বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত? অর্থাৎ কত উপরে গেলে এই বাতাসের আবরণ শেষ হয়ে যায়? পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই বায়ুমণ্ডল যা বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ভর করে বায়ুমণ্ডলের উপর। বায়ুদূষণের কারণে আমাদের জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়াসহ অনেক প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে। তাই আমাদের সকলের বায়ুদূষণসহ সর্বোপরি পরিবেশ দূষণ নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বাতাস নিয়ে এই ছিল আজকের মতো। আল্লাহ হাফিজ।
প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২৫



