
প্রিয় বন্ধুরা, আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছো|
এ মাসেই শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ| বিশ্বকাপ মানেই যেনো পৃথিবীজুড়ে এক অন্যরকম উত্তেজনা| ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের মাঝেই ফুটবল নিয়ে থাকে আলাদা উন্মাদনা| তোমাদের মধ্যেও নিশ্চয়ই অনেকেই আছো, যারা প্রিয় দল আর প্রিয় খেলোয়াড়কে নিয়ে ইতোমধ্যেই নানা পরিকল্পনা করে ফেলেছো! অবশ্য খেলাধুলা ও অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে অনেক সময় নানা আলোচনা ও প্রশ্নও ওঠে| আমরা আজ সেই বিতর্কে যাচ্ছি না| আশা করি তোমরা নিশ্চয়ই খেলা দেখা নিয়ে অনেক বেশি সময় নষ্ট করো না| তবে একটি বিষয় সত্য— শরীরচর্চা হিসেবে ফুটবলের কিন্তু জুড়ি মেলা ভার|
স্মার্টফোনের এই যুগে, আগের মতো বিকেলে মাঠে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার দৃশ্য যেনো ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে| কখনো ডিভাইস আসক্তি, কখনো ব্যস্ততা, আবার কোথাও খেলার মাঠের অভাব— সব মিলিয়ে পাড়ার মাঠের সেই প্রাণবন্ত বিকেলগুলো আজ অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে| অথচ বিকেলের এক ঘণ্টার ফুটবল খেলা শরীরকে যেমন সুস্থ রাখে, তেমনি মনকেও করে তোলে প্রাণবন্ত| যাই হোক, এবার মূল আলোচনায় আসা যাক|
তোমরা যারা ফুটবল খেলা দেখো, তারা নিশ্চয়ই অনেক ধরনের শট দেখেছো| কিছু ঐতিহাসিক ফুটবল শটের শর্টক্লিপ অনেক সময় স্ক্রল করতে করতে আমাদের সামনে আসে| এর মাঝে অনেক শট আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়| যেমন, বাতাসের মাঝে বল বাঁক নেয়া| মনে হয় যেনো ফুটবলার জাদুর মতো বলকে বাতাসে বাঁকিয়ে দিচ্ছেন| আমরা নিউটনের প্রথম সূত্র থেকে জেনেছি যে, বাইরের কোনো বল প্রয়োগ না করা হলে গতিশীল বস্তু সরলরেখায় চলতে থাকে| কিন্তু ফুটবলে অনেক সময় দেখা যায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এমনভাবে বলে কিক করেন, এতে বলটি নিখুঁতভাবে বাঁক নেয়| অনেকটা বৃত্তচাপের মতো পথ অনুসরণ করে| অনেক সময় দেখা যায় কর্নার কিক থেকে সরাসরি গোল হয় বল বাঁক নেয়ার কারণে| যদিও কর্নার কিক করার জায়গা ও গোলপোস্ট একই সরলরেখায়| এধরনের নিখুঁত বাঁক নেয়ার কারণ বলের ঘুর্ণন| ঘুর্ণনের কারণে বলের দুইপাশে চাপের তারতম্য হয়| যেদিকে কম চাপ থাকে বল সেদিকে বেঁকে যায়| যদিও এমনভাবে কিক করার জন্য অনেক বেশি অনুশীলনের প্রয়োজন| আর এই ইফেক্টকে বলা হয় ম্যাগনাস ইফেক্ট| যা আমরা আগের একটা পর্বে আলোচনা করেছিলাম|
তোমাদের অনেকেই হয়ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অনেক ফ্রি-কিকে দেখেছো, বল আসলে বাতাসের মাঝে নিখুঁত ভাবে বাঁক না নিয়ে বাতাসের মাঝে এলোমেলোভাবে বাঁক নেয়| এতে করে গোলকিপার আগে থেকে বলের গতিপথ বুঝতে পারে না এবং গোল হয়| ম্যাগনাস ইফেক্টে দেখেছি নিখুঁতভাবে বাঁক নেয়| তা ঠিক আছে| কিন্তু এলোমেলো বাঁক নেয়া এটা আবার কেমন? মনে হতে পারে এটা হয়তো কাকতালীয় ব্যাপার| কিন্তু না| আসলে এর পেছনে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণও আছে| কিক করার পর বল যখন একটা নির্দিষ্ট গতিতে যায় তখন এর পাশের বাতাস তার গতির বিপরীত দিকে যায়| অর্থাৎ বলের চারপাশে বাতাসের প্রবাহ থাকে| এ বাতাস বলের গতিকে বাঁধাও দেয়| যাকে আমরা বলি ড্র্যাগ ফোর্স (Drag Force)| বলের যখন স্পিন থাকে তখন এর চারপাশে নিয়মিত বাতাসের প্রবাহ থাকে তাই বল একদিকে বাঁক নেয়| এখানে যখন স্পিন থাকে না তখন এর চারপাশের প্রবাহ হয় অনিয়মিত বা Turbulant Flow। ফলে কখনো বলের ডান পাশে বেশি ড্র্যাগ ˆতরি হয়, কখনো বাম পাশে| আবার কখনো উপরে বা নিচে চাপ বেশি পড়ে| ফলে বলের উপর অসম বল কাজ করতে শুরু করে এবং বলটি একেঁবেঁকে গিয়ে গোলকিপারকে ধোঁকায় ফেলে| একে নাকলবল ইফেক্ট বলা হয় (Knuckleball Effect)| আর এধরনের কিককে বলা হয় নাকলবল কিক (Knuckleball kick)|
ম্যাগনাস ইফেক্টে বল নির্দিষ্ট দিকে সুন্দরভাবে বাঁক নেয়, কিন্তু নাকলবল ইফেক্টে বল অনিয়মিতভাবে দিক পরিবর্তন করে| ফুটবলের প্রতিটি অসাধারণ শটের পেছনেই লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের দারুণ সব রহস্য|
আজ এ পর্যন্তই| আল্লাহ হাফিজ|



