প্রিয় বন্ধুরা, কেমন আছো? আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক বেশি ভালো আছো। আজকে প্রথমেই একটা গল্প দিয়ে শুরু করছি।
প্রাচীনকালে, এশিয়া মাইনরে ম্যাগনেশিয়া নামে এক প্রদেশ ছিলো। সেখানে ম্যাগনাস নামে এক রাখাল বালক ছিলো। সে প্রতিদিন লাঠি নিয়ে মেষ চরাতে যেত। মেষকে গুঁতা দেবার জন্য তার লাঠির মাথায় একটা লোহা লাগানো ছিল। হঠাৎ একদিন বাড়ি ফেরার সময় পাহাড়ের গা বেয়ে নামতে নামতে সে খেয়াল করলো, তার লাঠির মাথা বারবার পাথরের কোনো অংশে আটকে যাচ্ছে। যেন লাঠির মাথা মাটির ভেতর থেকে টেনে ধরছে কেউ! ম্যাগনাস অবাক হয়ে গেল। ম্যাগনাস বুঝতে পারলো লোহা এই অচেনা পাথরকে আকর্ষণ করছে। পরে জানা গেল, সেই পাহাড়ে ছিলো এক বিশেষ ধরনের পাথর যাকে আমরা আজকে চুম্বক পাথর বলি। ম্যাগনাসের নামানুসারে এই পাথরের নাম রাখা হয় ম্যাগনেট। এটাই হচ্ছে চুম্বক আবিষ্কারের প্রচলিত গল্প।
উপরের গল্পে আমরা দেখলাম, চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে। আকর্ষণ হচ্ছে একপ্রকার বল। এই বল দিয়ে কাজ করা যায়। অর্থাৎ চুম্বক এক প্রকার শক্তি। তাহলে আমরা বলতে পারি, চুম্বক হচ্ছে এমন জিনিস যার আকর্ষণ ক্ষমতা আছে। চুম্বকের এই ধর্মকে বলা হয় চুম্বকত্ব। চুম্বক আসলে সব ধরনের জিনিসকে আকর্ষণ করতে পারে না। কিছু নির্দিষ্ট জিনিসকে আকর্ষণ করতে পারে। যেমন – লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ধাতু। এদেরকে বলা হয় চৌম্বক পদার্থ। এদের যে শুধু চুম্বক আকর্ষণ করে তা নয়। তাদেরকে কৃত্রিমভাবে চুম্বকে পরিণত করা যায়। তাহলে দেখা যাচ্ছে চুম্বক দুই প্রকার। প্রাকৃতিক চুম্বক ও কৃত্রিম চুম্বক। প্রকৃতিতে লোহা ও অক্সিজেন মিলে যে ম্যাগনেটাইট পাথর পাওয়া যায়, তাই হচ্ছে প্রাকৃতিক চুম্বক। প্রাকৃতিক চুম্বকের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এর আকর্ষণ ক্ষমতাও অনেক কম হয়। ব্যবহারের জন্য এ চুম্বক উপযোগী নয়। তাই কাজের সুবিধার জন্য বিভিন্ন আকারের ও শক্তিশালী কৃত্রিম চুম্বক ব্যবহার করা হয়। এই কৃত্রিম চুম্বক বিভিন্ন ধাতুর বা সংকর ধাতুর তৈরি হয়ে থাকে।
তোমরা হয়তো বিভিন্ন খেলনা ভেঙে বা এমনিতে কিনতে পাওয়া এমন চুম্বক নিয়ে খেলা করেছো। তোমরা দুইটি চুম্বক নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় দেখে থাকবে, একটা চুম্বকের একপ্রান্ত আরেকটা চুম্বকের আরেক প্রান্তকে বিকর্ষণ করছে। আবার ঠিক অপর প্রান্তকে আকর্ষণ করছে। কেনো এমন হয়? আসলে চুম্বকের দুই প্রান্তে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ সবচে বেশি থাকে। আমরা একে বলি চুম্বকের মেরু। একপ্রান্ত হলো উত্তর মেরু আরেক প্রান্ত হলো দক্ষিণ মেরু। দুটি চুম্বকের বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে আর সমান মেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে।
এখন তোমরা বলতে পারো দুই প্রান্তকে উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরু কেনো বলবো? পূর্ব-পশ্চিম মেরুও তো বলতে পারি। আসলে তুমি যদি একটা দণ্ড চুম্বককে মাঝ বরাবর সুতা দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে দাও। তাহলে দেখবে দণ্ড চুম্বকের একপ্রান্ত উত্তর দিকে আরেক প্রান্ত দক্ষিণ দিক বরাবর গিয়ে স্থির হয়। এজন্য দুইপ্রান্তকে আমরা উত্তর দক্ষিণ মেরু বলছি।
তোমরা যারা ক্যাম্পে হাইকিং করেছো তারা নিশ্চয়ই কম্পাস দেখে থাকবে। কম্পাস আসলে একটা চুম্বক শলাকা। এর দুই প্রান্তে N ও S লিখা থাকে। অর্থাৎ North pole ও South pole। মানে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু। কম্পাসের কাটা মুক্তভাবে থাকলে উত্তর দক্ষিণ বরাবর গিয়ে স্থির হয়। এভাবেই প্রাচীন দিনে জাহাজের নাবিকগণ চুম্বক শলাকা ব্যবহার করে দিক ঠিক করতেন। এথেকেই এসেছে আজকের দিনের আধুনিক কম্পাস।
এই ছিলো চুম্বক নিয়ে আজকের মতো। চুম্বক নিয়ে আরও গল্প থাকছে সামনের কোনো পর্বে। আল্লাহ হাফিজ।
প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৫



