বিচার

0
0

ছোট্ট আবদুল্লাহ। মাতৃভূমি গাজা।
আশ্রয় কেন্দ্রের তাঁবুতে চলে এসেছে দুই দিন হলো। মা এবং বোনের সাথে। মিষ্টি একটা বোন আছে তার। ফাতেমা।
তার বাবা, দাদা-দাদি পৃথিবীতে আর নেই। হানাদার বাহিনীর বোমা হামলায় সব শেষ। তাদের স্বপ্নের বাড়িটা ধ্বংস করে ফেলেছে হানাদার বাহিনী।
ফাতেমা বিমান দেখলেই ভীষণ ভয় পায়। বিমান পেটপুরে বোমা নিয়ে আসে যখন তখন। পুরো গ্রাম বিরান হয়ে গেছে। তাদের ইশকুল ছিল। একদিন ইশকুলেও ওরা বোমা ফেলেছে। ওরা বুঝি মানুষ নয়, দানব। মানুষগুলো অন্যরকম।
তাদের ভীষণ খাবারের কষ্ট। খাবারের পানির কষ্ট। মায়ের মুখে হাসি নেই। বোনের মুখে হাসি নেই।
কবে আলোর দেখা পাবে তারা?

একদিন সকালবেলা। ঝলমলে আলো খেলা করছিল চারদিকে।
হঠাৎ করে একটা বিমানের শব্দ শুনতে পেল তারা।
ভয় শঙ্কা আতঙ্কে ঘাপটি মেরে বসে থাকে সবাই। আরশের মালিককে ডাকতে থাকে। দোয়া পড়ে, দরুদ পড়ে। কোনো বোমারু বিমান নয় তো?
বিমান তাঁবুর কাছেই শব্দ করে থেমে যায়। ত্রাণ নিয়ে এসেছে। খুশির বন্যা বয়ে যায় তাঁবুবাসীর মধ্যে। যে যতটুকু পারে ত্রাণ নিয়ে তাবুতে ফেরে। অনেকদিন পরে পেটপুরে খেতে পারবে তারা। মহান রবের শুকরিয়া আদায় করে।
এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল।
তাদের অনিশ্চিত এক জীবন। কোথায় যাবে তারা? ভিটেমাটিতে ফেরার উপায় নেই। তাঁবুতে আর কতদিন থাকতে হবে আল্লাহ ভালো জানেন।
মাঝে মাঝে ত্রাণবাহী বিমান ত্রাণ নিয়ে আসে। তখন তারা খুশি হয় ভীষণ।

হঠাৎ একদিন আকাশে বিকট শব্দ শুনতে পেলো তারা। দানব আকৃতির একটা বিমান।
আব্দুল্লাহ ভাবলো দানব আকৃতির বিমান অনেক ত্রাণ নিয়ে এসেছে। দৌড়ে গেল তাঁবুর বাইরে ভাই আর বোন।
আরে, এই বিমানটা অন্যরকম। শত্রু দলের বিমান নয় তো! হঠাৎ করে একটা বিকট শব্দ হলো।
বিমানটা বোমা ফেলেছে তাদের তাঁবুতে। দূরে বালিতে ছিটকে পড়লো ভাই আর বোন। আশ্রয় কেন্দ্রে বোমা ফেলেছে হানাদার বাহিনী। কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে চারপাশ!
হইচই, চিৎকার, কান্নায় নিমিষেই বাতাস ভারী হয়ে গেল। তাঁবুতে তাদের মা ছিলেন!
আব্দুল্লাহ চিৎকার করে কাঁদতে থাকে মা মা বলে। ফাতেমা তখনও বিশ্বাস করতে পারছে না নিমিষেই কী ঘটে গেল।
আব্দুল্লাহ আকাশের দিকে চেয়ে শুধু বলল, হে আরশের মালিক, তুমিই সাক্ষী, তুমিই বিচারক। তোমার কাছে বিচার দিলাম।

প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৫