আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছো? আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক বেশি ভালো আছো। এ মাসে নিশ্চয়ই অনেকের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার জন্য অবশ্যই মন দিয়ে লেখাপড়া করবে। দু’আ থাকলো যাতে তোমাদের পরীক্ষা অনেক বেশি ভালো হয়।
আজকের পর্বে আমরা চুম্বক নিয়ে আরও কিছু জানবো। চলো তাহলে, শুরু করা যাক। একটা পরীক্ষা করা যাক, যাদের বাসায় কোনো দণ্ড চুম্বক আছে, তারা একটু লোহার গুঁড়া নিয়ে এই পরীক্ষা করতে পারো। আজকাল বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞান বিষয়ক উপকরণের সেট কিনতে পাওয়া যায়। এতে তোমরা সহজেই দণ্ড চুম্বক পেয়ে যাবে। বা বাজার থেকে দণ্ড চুম্বক কিনে নিতে পারো। এবার কিছু লোহার গুঁড়া কাগজের উপর ছড়িয়ে দাও। এবার দণ্ড চুম্বকটি কাগজের নিচে নিয়ে আসো। এবার দেখবে, লোহার গুঁড়াগুলো পাশের ছবির মতো সুন্দর একটা নকশা তৈরি করেছে। একে আমরা বলি চৌম্বক বলরেখা। এখানে দেখলে, তোমরা সহজেই বুঝতে পারবে যে, লোহার প্রতি এই আকর্ষণ বল চুম্বকের প্রান্তে অর্থাৎ মেরুতে বেশি। আর মাঝখানে সবচেয়ে কম। এই রেখার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। এই রেখাগুলো যদি বেশি ঘন থাকে তাহলে আমরা বুঝতে পারি, চৌম্বকক্ষেত্র বেশি শক্তিশালী। তোমরা আবার এখানে প্রশ্ন করতে পারো চৌম্বকক্ষেত্র কী? আসলে যে জায়গা জুড়ে চুম্বকের প্রভাব থাকে মানে আকর্ষণ থাকে তাই চৌম্বকক্ষেত্র।
গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম, চুম্বকের দুইটি মেরু থাকে। মজার বিষয় হলো চুম্বকের এই দুই মেরুকে চাইলেও আমরা আলাদা করতে পারি না। তুমি যদি এই দণ্ড চুম্বককে ভেঙে ফেলো তাহলে দেখবে ভাঙা দুটো অংশেরই আবার উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু থাকবে। আমরা একে ভাঙতে ভাঙতে যত ছোটই করি না কেন প্রতিটি অংশেরই দুটো মেরু থাকবে, উত্তর ও দক্ষিণ। এটা চুম্বকের একটা বৈশিষ্ট্য।
এবার আসা যাক চুম্বকের প্রকারভেদে। চুম্বক দুই প্রকার- স্থায়ী ও অস্থায়ী।
স্থায়ী চুম্বক যেমন লোহা বা কোনো সংকর ধাতুর তৈরি। এর চুম্বকত্ব সাধারণ অবস্থায় নষ্ট হয় না। অপরদিকে তুমি যদি একটি লোহার দণ্ডকে একটি চুম্বক দিয়ে কিছুক্ষণ ঘষতে থাকো তাহলে দেখবে লোহার দণ্ডটি অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হয়েছে। কিছুক্ষণ পর আবার এর চুম্বকত্ব হারিয়ে যায়।
আরও এক ধরনের চুম্বক রয়েছে যা সাধারণত অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়, তা হলো বৈদ্যুতিক চুম্বক। চলো তাহলে তোমাদেরকে বৈদ্যুতিক চুম্বক কীভাবে তৈরি করতে হয় শিখিয়ে দেই। আবরণসহ কিছুটা তামার তার নাও। এবার একটি লোহার পেরেকের উপরটা পেঁচিয়ে নাও। এবার তামার তারের দুই প্রান্ত ঘষে এর আবরণ সরিয়ে নাও। এবার তামার তারের দুই প্রান্তে ব্যাটারি যুক্ত করলে দেখা যাবে লোহার পেরেকটি চুম্বকের মতো কাজ করছে। তবে সাবধান থাকবে, কারণ কিছুক্ষণের মাঝেই তামার তারটি অনেক গরম হয়ে যাবে। এটিই হচ্ছে বৈদ্যুতিক চুম্বক। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে এ ধরনের চুম্বক ব্যবহার করা হয়। যেমন ইলেকট্রিক বেল বা বিভিন্ন ধরনের ক্রেন, যা দিয়ে লোহার ভারি যন্ত্রপাতি উত্তোলন করা হয়। তাছাড়া বৈদ্যুতিক মোটরেও এই চুম্বক ব্যবহার করে হয়ে থাকে।
এই ছিলো চুম্বক নিয়ে আজকের মতো। চুম্বক নিয়ে আরও গল্প থাকছে সামনের কোনো পর্বে। আল্লাহ হাফিজ।
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৫



