প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছো? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো। তোমাদের অনেকেরই হয়তো বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে বা হবে। এখন তোমাদের অখণ্ড অবসর। এ সময়গুলো অবশ্যই ভালো কাজে ব্যয় করবে। তার সাথে শীতের পিঠাপুলি, গ্রামে নানুবাড়ি দাদুবাড়িতে বেড়াতে যাওয়া তো আছেই। তো আর দেরি না করে আজকের মতো শুরু করা যাক। আমরা প্রতিদিনই কিছু না কিছু পড়তে দেখি। হাত থেকে কলম পড়ে যায়, টেবিল থেকে বল গড়িয়ে নিচে পড়ে, কিংবা গাছের ডালে ঝুলে থাকা পাকা আম হঠাৎ মাটিতে পড়ে যায়। আবার, আমরা যখন খেলার সময় বল ছুঁড়ে মারি তাও উপরে উঠে আবার এক সময় নিচের দিকে পড়তে থাকে। এ সবই হচ্ছে পড়ন্ত বস্তু। আজকে আমরা পড়ন্ত বস্তু নিয়েই জানব।
এখানে একটা গল্প বলি, যে গল্পটা আমরা সকলেই জানি। বিজ্ঞানী নিউটন একদিন আপেল গাছের নিচে বসে ছিলেন। হঠাৎ একটা আপেল, গাছ থেকে তার মাথায় পড়ে। তখন তিনি চিন্তা করেন এই আপেলটা নিচের দিকেই কেন পড়লো। কেন অন্য দিকে বা উপরের দিকে গেল না। এই নিয়ে চিন্তা করতে করতে তিনি আবিষ্কার করেন মহাকর্ষ সূত্র। এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজের দিকে আকর্ষণ করছে। এই আকর্ষণ বলের মান বস্তু দুটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক আর তাদের দুরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। আর এই বল তাদের সংযোজক সরলরেখা বরাবর কাজ করে।
এটিই হচ্ছে নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র। আচ্ছা এই সূত্র কঠিন মনে হলে, এখনই পুরোটা বুঝার দরকার নেই। যারা উপরের ক্লাসে আছো তারা নিশ্চয়ই এই সূত্র পড়ছো। এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি পৃথিবীও অন্য বস্তুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করছে। তাই আমরা কোনো কিছু হাত থেকে ছেড়ে দিলে তা নিচের দিকে পড়ে। কিংবা গাছের পাকা আম বা ক্রিকেট বল সব একই কারণে নিচের দিকে পড়ে। ঠিক একই কারণে অর্থাৎ পৃথিবীর আকর্ষণ বলের কারণে আমরা হাঁটতে পারি, উড়ে চলে যাই না। সব কিছু সুন্দরভাবে পৃথিবীর পৃষ্ঠে লেগে থাকে।
আচ্ছা এবার একটা প্রশ্ন করি। ধর বাসার ছাদ থেকে তুমি একটা বল আর একটা পাখির পালক হাতে নিয়ে এক সাথে ছেড়ে দিলে, মানে মুক্তভাবে পড়তে দিলে। তো কী মনে হয়, কোনটা আগে মাটিতে পড়বে? বল নাকি পালক? তুমি চাইলে এই পরীক্ষা করে দেখতে পারো। দেখবে বলটি আগে মাটিতে পৌঁছেছে। আর পালকটি অনেকটা হেলে দুলে ধীরে ধীরে নিচে পড়েছে।
কিন্তু কেনো এমন হলো?
আমরা জানি, পৃথিবীর আকর্ষণের জন্য যে ত্বরণ যাকে আমরা অভিকর্ষজ ত্বরণ নামে জানি তার মান ৯.৮ মি/সে২। এর মানে হলো মুক্তভাবে কোনো বস্তুকে পড়তে দিলে তার বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড করে বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ কোনো বস্তু মুক্তভাবে পড়তে দিলে এক সেকেন্ড পরে তার গতি হবে ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড পর ১৯.৬ মিটার/সেকেন্ড, এভাবে ক্রমেই বাড়তে থাকবে যতক্ষণ না সেটা মাটিতে পড়ে। যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণের মান একই জায়গায় সকল বস্তুর জন্য একই তাহলে বল বা পালকের একই সাথে মাটিতে পড়ার কথা। আসলে এখানে বাতাসের বাধার কারণে বল ও পালক একই সাথে মাটিতে পড়ে না। বল ভারী তাই তা বাতাসের বাধা সহজেই ভেদ করে নিচে চলে আসছে। যদি আমরা বাতাস নেই এমন জায়গায় এই পরীক্ষাটি করি তাহলে দেখব বল আর পালক একই সাথে মাটিতে নেমে আসে। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও পড়ন্ত বস্তু নিয়ে তিনটি সূত্র প্রদান করেন। এর প্রথম সূত্রে এমন বলা আছে, স্থির অবস্থান এবং একই উচ্চতা থেকে একই সময়ে বিনা বাধায় পড়ন্ত সকল বস্তু সমান সময়ে একই পথ অতিক্রম করবে।
এই ছিলো পড়ন্ত বস্তু নিয়ে আজকের মতো। আল্লাহ হাফিজ।
প্রকাশকাল: ডিসেম্বর ২০২৫



