বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয় জানো যে, কিডনির কাজ হলো আমাদের শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়া। পাশাপাশি শরীরের পানি ও ইলেকট্রোলাইটের (সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি) ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এর রয়েছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এ ছাড়া বিশেষ হরমোন উৎপাদনের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ ভূমিকা পালন করে কিডনি। শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও কিডনির গুরুত্ব অনেক এবং এর ফলে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হয়। তাই কিডনি ভালো রাখতেই হবে।
কিডনি সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। পানীয় থেকেও মেটে শরীরের পানির চাহিদা। অনেকেই বিভিন্ন ধরনের পানীয় খায়। বিশেষত গরমে বাহারি পানীয় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন, সব পানীয়ই কিডনির জন্য ভালো নয়। অনেক পানীয় দীর্ঘ মেয়াদে কিডনির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পানীয় সুস্বাদু করে তুলতে লবণ কিংবা চিনির মতো উপাদান মেশানো হয়। দীর্ঘদিন এসব উপাদান গ্রহণ করার কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাজারে এমন অনেক পানীয় পাওয়া যায়, যা সংরক্ষণের সুবিধার্থে কিংবা আকর্ষণীয় রঙের জন্য বিভিন্ন রাসায়নিক মেশানো হয়। এসবের প্রভাবেও কিডনির ক্ষতি হয়। এমনটাই বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তোফায়েল আহম্মদ।
বন্ধুরা, তোমরা কি জানো, কোন পানীয় কখন সুস্থ ব্যক্তির কিডনির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে? কোমল পানীয় কারও জন্যই স্বাস্থ্যকর নয়। এতে মেশানো চিনির কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ে। এভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিডনির কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়। প্রায়ই গ্রহণ করলে এনার্জি ড্রিংকও কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
প্যাকেটজাত জুস : জুস সংরক্ষণের জন্য রাসায়নিক যোগ করে প্যাকেটজাত করা হয়। চিনি ও অন্যান্য রাসায়নিক থাকার কারণে এসব জুস স্বাস্থ্যকর নয়। প্রায়ই যদি কেউ এ ধরনের পানীয় খায়, তাহলে এসবের কারণে তার কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়বে।
শরবত : সাধারণত শরবতে চিনি, লবণ বা বিট লবণের মতো উপাদান যোগ করা হয়। চিনি তো ক্ষতিকর বটেই, যেকোনো ধরনের লবণ অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। লবণ নিঃসন্দেহেই দেহের জন্য উপকারী, তবে তা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায়। রোজকার প্রয়োজনীয় লবণ অর্থাৎ সোডিয়াম আমরা পেয়ে যাই রান্না করা খাবার থেকেই। পানীয়ে বাড়তি লবণ মিশিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সোডিয়াম গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়বে। বাড়বে কিডনির রোগের ঝুঁকিও। লবণ বা বিট লবণের মতোই অন্য যেকোনো লবণের বেলায় এ কথা প্রযোজ্য। এমনকি, বাড়িতে বানানো হলেও শরবত কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে যখন শরীর থেকে প্রয়োজনীয় সোডিয়াম বেরিয়ে যায়, তখন লবণ মেশানো পানীয় তোমার কিডনির উপকার করে। যেমন গরমের সময় অতিরিক্ত ঘাম হলে সামান্য লবণ মেশানো পানীয় পান করলে উপকার পাওয়া যায়। এমনিতে ফলের রস খেতে চাইলে চিনি-লবণ ছাড়াই খাবে।
ওরস্যালাইন, ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংক, স্পোর্টস ড্রিংক ও গ্লুকোজ : এসব পানীয় নির্দিষ্ট পরিস্থিতির জন্য তৈরি করা হয়, যেমন ওরস্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইট ড্রিংকে যে সোডিয়াম থাকে, সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় তা নিয়মিত গ্রহণ করলে তোমার জন্য অতিরিক্ত হয়ে দাঁড়াবে। অতিরিক্ত ঘাম হলে আবার ওরস্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক থেকে উপকার পাবে। স্পোর্টস ড্রিংকের উপাদানগুলোও অ্যাথলেটিকস বা অন্যান্য খেলাধুলার সময়ই প্রয়োজন হয়। তাই, খেলাধুলার মতো শারীরিক পরিশ্রম ছাড়া এসব স্পোর্টস ড্রিংক গ্রহণ থেকেও বিরত থাকবে। আবার ধরো, যখন তুমি পর্যাপ্ত খাবার খেতে পারছো না কিংবা যখন অন্য কোনো কারণে তোমার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেছে, তখন গ্লুকোজের পানিতে তোমার জীবন বাঁচতে পারে। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়মিত গ্লুকোজের পানি গ্রহণ করলে তোমার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাবে। একসময় এই কারণে ঝুঁকিতে পড়বে তোমার কিডনি। আরও মনে রাখবে, ডায়রিয়ার সমস্যায় স্যালাইন খাওয়া প্রয়োজন। গ্লুকোজের পানি কিন্তু স্যালাইন নয়।
বন্ধুরা, কিডনি ভালো রাখতে চলতি মৌসুমে হাতের কাছেই বেশ কিছু ফল পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো খেলে মিলবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফাইবার বা আঁশ, পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। আর এসব ফল খেলে কিডনি থাকবে সুস্থ। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তরমুজ, লেবু, আনারস, আপেল, ডালিম, পেঁপে ও আঙ্গুর। এসব ফল শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। কিডনির কার্যক্রম সহজতর করে। কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে বেশ সহায়তা করে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিডনির প্রদাহ কমায়। হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
প্রকাশকাল: জুন ২০২৫


