রেফ্রিজারেটরের কলকব্জা

পর্ব-৩৫

0
0

আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছো? আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক বেশি ভালোই আছো। নতুন বছরে তোমাদের জানাই অনেক অনেক ভালোবাসা ও শুভকামনা। গত বছরের সব গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে আমরা ‘নিজকে গড়া’র কাজ শুরু করবো। আর আমাদের মজার বিজ্ঞান পাতা তোমাদের কেমন লাগে তা জানাতে পারো সড়হঃযষুঢ়যঁষশঁৎর@মসধরষ.পড়স এই ঠিকানায়। মজার বিজ্ঞান নিয়ে তোমাদের কোনো পরামর্শ বা প্রশ্ন থাকলে তাও জানাতে পারো আমাদের। তো আর দেরি নয়। আজকের বিষয় শুরু করা যাক।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ সবসময় খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের চেষ্টা করে আসছে। আমাদের দাদি-নানিরা যে কত ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি জানতেন খাবার সংরক্ষণের, তার হিসাব নেই। এই যেমন ধরো, আচার, মোরব্বা তোমরা নিশ্চয়ই খেয়ে থাকবে। এগুলো মুলত খাবার সংরক্ষণেরই পদ্ধতি। বর্তমানে এই প্রযুক্তির যুগে খাবার সংরক্ষণের অনেক পদ্ধতি রয়েছে। তার মাঝে আমরা সবাই যে জিনিসটা ব্যবহার করি তার নাম হলো রেফ্রিজারেটর। মোটামুটি এখন প্রায় সবার হাতের নাগালেই রয়েছে এই রেফ্রিজারেটর। আমাদের আধুনিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে এ যন্ত্রটি।

খাবারে পচন ধরার জন্য দায়ী হলো ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করতে পারলেই খাবারের পচন রোধ করা সম্ভব। দেখা গেছে, ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর নিচে খাবারে পচন ধরার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলো বংশ বিস্তার করতে পারে না। তাই, যেকোনো খাদ্যদ্রব্যের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর নিচে রাখতে পারলেই খাবার টাটকা রাখা সম্ভব। শীতপ্রধান দেশে সহজেই এটা করা সম্ভব। কিন্তু আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে তাপমাত্রা কমিয়ে খাবার সংরক্ষণ করা বেশ কঠিন।

আমরা আগের বেশ কিছু পর্বে তাপ নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আমরা জেনেছি যে তাপ উচ্চ তাপমাত্রার স্থান থেকে নিম্নতাপমাত্রার স্থানের দিকে প্রবাহিত হয়। এবং এটি স্বতঃস্ফুর্তভাবে ঘটে থাকে। কিন্তু নিম্ন তাপমাত্রার স্থান থেকে উচ্চ তাপমাত্রার স্থানের দিকে নিজে নিজে তাপ প্রবাহিত হয় না। এজন্য কাজ করতে হয়। আমরা আরও জানি যে, কোনো বস্তু তাপ গ্রহণ করলে তা গরম হয় আর তাপ সরিয়ে নিলে তা ঠান্ডা হয়।

এখন আমরা যে রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করি, তার যে প্রকোষ্ঠে খাবার রাখি সেখান থেকে তাপ সরিয়ে নিলেই তা ঠান্ডা হয়ে যায়। রেফ্রিজারেটর মূলত আমাদের রাখা খাদ্যদ্রব্য থেকে তাপ সরিয়ে নেয়। এর ফলে তাপমাত্রা কমে গিয়ে খাদ্যদ্রব্য ভালো থাকে। চলো তাহলে দেখা যাক, রেফ্রিজারেটর কীভাবে তাপ সরিয়ে নেয়।

রেফ্রিজারেটরের খাবার রাখার প্রকোষ্ঠের চারপাশে ফাঁপা নলের কুণ্ডলী থাকে। এর মাঝে থাকে হিমায়ক তরল। আর এ নলের সাথে কম্প্রেসর পাম্প যুক্ত থাকে। কম্প্রেসর চালু হলে নলের ভেতরের চাপ কমে যায়। ফলে হিমায়ক তরল বাষ্পীভূত হতে শুরু করে। আমরা জানি, পদার্থে অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সুপ্ততাপ প্রয়োজন। হিমায়ক তরল এ সুপ্ততাপ নিয়ে থাকে প্রকোষ্ঠের ভেতর রাখা খাদ্যদ্রব্য থেকে। এই বাষ্পীভূত হিমায়ক পদার্থকে কম্প্রেসরের সাহায্যে সংকুচিত করে ঘনীভবন কুণ্ডলীতে আনা হয়। ফলে তা বাইরে সুপ্ততাপ বর্জন করে আবার তরলে পরিণত হয়। এ সুপ্ততাপ ঘনীভবন কুণ্ডলীর থেকে পরিবেশে চলে যায়। তখন শীতল হওয়া হিমায়ক আবার বাষ্পীভবন কুণ্ডলীতে পাঠানো হয়। বার বার এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছানো পর্যন্ত। এরপর তা আপনা-আপনি বন্ধ হয় স্বয়ংক্রিয় সুইচের মাধ্যমে। যাকে বলে থার্মোস্টেট। এই হলো রেফ্রিজারেটর-এর সরল কার্যপ্রণালী। আজ এ পর্যন্তই । আল্লাহ হাফিজ।

প্রকাশকাল: জানুয়ারি ২০২৫