কাজ

0
1

প্রিয় বন্ধুরা, কেমন আছো? ফেব্রুয়ারি শুরুর কদিন পরই বসন্তেরও শুরু। তাই তোমাদের জানাই বসন্তের শুভেচ্ছা। এতদিন তো আমরা বিজ্ঞানের অনেক বিষয় নিয়ে জানার চেষ্টা করলাম। আজ আমরা আমাদের জানা এমন একটি বিষয় নিয়ে আরও ভালোভাবে জানার চেষ্টা করবো। আজ আমরা জানবো কাজ নিয়ে। চলো তাহলে শুরু করা যাক।

কাজ নিয়ে আমরা সকলেই জানি। যেমন, এই যে তুমি এখন আমার লেখা পড়ছো। এটা এক ধরনের কাজ। বা ধরো, তুমি সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছো, এটাও কাজ। আবার আমাদের স্কুলের দারোয়ান, সারাদিন স্কুলের গেটে বসে থাকেন। এটা তার কাজ। সাধারণভাবে বললে আমরা যা কিছু করি তাই কাজ। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে গোসল করা এমনকি ঘুমানোও একধরনের কাজ। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানে কাজের অর্থ ভিন্ন। কাজের রয়েছে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা। যেকোনো কিছু করলেই তাকে কাজ বলা যাবে না। এই ধরো দারোয়ান যিনি বসে আছেন, পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় তিনি কোনো কাজ করছেন না। কারণ, পদার্থবিজ্ঞানে কাজ মানে বস্তুর উপর বল দেয়া হলে যদি বলের দিকে যদি বস্তুর সরণ হয়। তাহলে বলা যায় বস্তুটির উপর কাজ হয়েছে। সরণ মানে হলো নির্দিষ্ট দিকে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন। তাহলে কোনো বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করা হলে বলের দিকে যদি বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন হয় মানে বস্তুটি সেদিকে সরে যায় তাহলে আমরা তাকে কাজ বলবো।

তাহলে তুমি যদি একটি ফুটবলের উপর লাথি দাও, তুমি যেদিকে লাথি দিয়েছো বলটি সেদিকে সরে যায়। এখানে আমরা বলবো, ফুটবলের উপর বল প্রয়োগ করায় ফুটবলটি যেদিকে বল প্রয়োগ করা হয়েছে সেদিকে সরে গিয়েছে। মানে কাজ হয়েছে। আবার ধরো, তুমি একটি দেয়ালে অনেক সময় ধরে জোরে ধাক্কা দিচ্ছো। তাহলে কাজ হলো? না এখানে কাজ হয়নি। কারণ, তুমি ধাক্কা দেওয়ায় দেয়াল একটুও সরে যায়নি। তাই এখানে কাজ হয়নি। যদিও তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়ো। বল প্রয়োগের সময় পেশির সংকোচন-প্রসারণের কারণে তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়ো। পেশির ভেতর কাজ হলেও, দেয়ালে বল প্রয়োগ করায় কোনো কাজ হয়নি। আবার তুমি যখন কোনো বক্স বা অন্য কিছু ধাক্কা দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা সরাও, সেটা কাজ। কারণ বল প্রয়োগে বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে।

এখন আসো কাজের ধরন সম্পর্কে জানা যাক। আমরা সাধারণভাবে কথাবার্তায় বলে থাকি কাজ এবং অকাজ। পদার্থবিজ্ঞানেও কাজ দুই ধরনের। ধনাত্মক কাজ ও ঋণাত্মক কাজ। ধরো তুমি, কিছু বই নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠলে। তুমি বল প্রয়োগ করে বই উপরে উঠালে মানে অবস্থানের পরিবর্তন হলো। অর্থাৎ ধনাত্মক কাজ হলো। আবার অন্যদিকে, তোমার দিকে ভারী কোনো বস্তু এগিয়ে আসছে। তুমি তা থামানোর জন্য বল প্রয়োগ করলে। কিন্তু বস্তুটি তোমাকে ঠেলে পেছনে নিয়ে আসলো। তাহলে তোমার প্রয়োগ করা বলের বিপরীতে সরে আসলে। এটিই ঋণাত্মক কাজ। মানে সরণ বা অবস্থানের পরিবর্তন বলের দিকের বিপরীতে হলে তা ঋণাত্মক কাজ।
কাজ নিয়ে আজ এটুকুই। আল্লাহ হাফিজ।

প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৫