রাজু, রাফি, মিনহাজ তিন বন্ধু। ওরা সবাই পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। সামনে পিএসসি পরীক্ষা। একদিন ওরা সবাই মিলে আলোচনা করে ঠিক করল পরীক্ষার পর ছুটি কাটাতে তিনজন একসাথে কোথাও যাবে। কারণ প্রত্যেক বছর সব ছুটিগুলোতেই তারা বাবা-মার সাথে আলাদাভাবে বেড়াতে যায়। এবার তা হবে না। তাই তারা এই পরিকল্পনা করল। কিন্তু সমস্যা হলো, ওরা কোথায় বেড়াতে যাবে? রাজু বলল- আগে পরীক্ষাটা ভালোভাবে দিয়ে তারপর ভাবা যাবে। সবাই রাজি হয়ে গেলো। তাছাড়া রাজু তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী। আবার অনেক চালাক। তাই ওরা সবসময় রাজুর সিদ্ধান্তই গ্রহণ করে।
স্কুল থেকে টানা একমাস পরীক্ষা হওয়ার পর এক সপ্তাহের ছুটি দিলো। তিন বন্ধু হাফ ছেড়ে বাঁচল। পরীক্ষার সময় সবার উপরই অনেক ধকল গেছে।
মিনহাজদের বাড়ির ছাদে ওরা সবসময় আলোচনা করত। আজকেও সবাই এসে আলোচনা করছে।
রাফি : পরীক্ষার আগে তো বললি পরে ভাবা যাবে। এখন মাথায় কিছু আসছে না তোর? ধুর! এরচেয়ে মা-বাবার সাথে গ্রামে যাওয়াই ভালো ছিল।
মিনহাজ : চুপ থাক। গাধা কোথাকার! এখনো ছয় দিন বাকি আছে। এভাবে বলছিস যেনো তুই ছয় দিনই আমাদের সাথে থাকতে পারবি। সেবার আমার বোনের বিয়েতে গিয়ে কী কাণ্ডটাই না করলি! পারিস না একদিন বাড়ির বাহিরে থাকতে, এসেছে জ্ঞান দিতে!
রাজু : এই তোরা থামবি! এভাবে ঝগড়া করলে আমার মাথায় কিছু আসবে না। আর কোথাও যাওয়া লাগবে না।
এবার রাফি আর মিনহাজ অবশ্য থামল। এভাবে আরও কিছুক্ষণ ভাবার পর রাজু বলল- হ্যাঁ, পেয়েছি! আমার নানাবাড়ি যেই গ্রামে, তার পাশে একটা গ্রাম আছে। সেই গ্রামের নাম বনফুল। ওখানে অনেক বেড়ানোর জায়গা আছে। শোন, আমরা বলব যে তিনজন মিলে আমার নানাবাড়ি যাচ্ছি। আর ওখানে গিয়ে যা করতে হবে তা আমার ওপর ছেড়ে দে।
শেষ পর্যন্ত তাই সিদ্ধান্ত হলো। ওরা সবাই বাসায় সবাইকে রাজি করাল। তারপর ব্যাগ গোছাল। রাজু ফোন দিয়ে বলল কাল সকালে ওর বাসায় যেতে। সকালে ওরা রওয়ানা হবে।
পরেরদিন সকালে ওরা বাসে করে রওয়ানা দিলো। রাজুর বাবা ওদেরকে বাসে তুলে দিলেন।
ওরা যখন গ্রামে পৌঁছালো তখন বিকাল হবে হবে। রাজুর নানা ওদেরকে নিতে এসেছিলেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে ওদের গ্রাম একটু দূরে। তাই তারা একটি ভ্যান ঠিক করল। ভ্যান গ্রামে পৌঁছানোর আগে তিন বন্ধু শুধু চোখের ইশারায় কথা বলেছে। রাজুর নানা অবশ্য ওদের সাথে অনেক কথাবার্তা বলেছেন।
রাজুর নানা বাড়িতে ওরা চারদিন থাকতে পারবে। তারপর ওদের স্কুল খুলে যাবে। গ্রামে আসার দিন ওরা বাড়িতেই কাটিয়েছে। আজকে থেকে ওরা মিশন শুরু করবে।
সবাই অবাক হয়েছো, তাই না? অবাক হওয়ারই কথা। কারণ প্রথমে বলেছি ওরা এসেছে বেড়াতে। এখন বলছি মিশন। কারণ ওরা তিন বন্ধু গোপনে একট মিশনে এসেছে। তা হলো গুপ্তধন মিশন। আসলে ওরা স্কুলের পুরোনো স্টোররুমে একটি গুপ্তধনের নকশা পায়। নকশাতে বনফুল গ্রামের একটি জায়গায় ক্রস আঁকা। তাই তারা আগেই পরিকল্পনা করেছিল। আর ছাদে ওরা যেসব কথাবার্তা বলেছিল তাও পরিকল্পিত ছিল। মিনহাজের আম্মু আড়াল থেকে সব কথা শুনতেন। মিনহাজ তা জানত। তাই এসব করেছে ওরা।
প্রথম দিন
সকাল আটটায় ওদের সবার ঘুম ভাঙল। ওরা সবাই একসাথে নাশতা করল। সুযোগ খুঁজতে থাকল বাইরে যাওয়ার। নানা এবং নানি ওদেরকে বাইরে যেতে দেবে না। কারণ ইদানিং গ্রামে ছেলেধরা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভয়তেই তারা ওদের বের হতে দেবে না। সকাল, দুপুর, বিকাল হয়ে গেল। কিন্তু ওরা বাইরে বের হতে পারল না। সন্ধ্যার আজান দিলেই ওদের একদিন শেষ। শেষ পর্যন্ত ওরা বের হতে পারল না। রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে গেল ওরা।
দ্বিতীয় দিন
আজকেও ওরা আটটার দিকে ঘুম থেকে উঠেছে। নাশতা করার পর এক ফাঁকে ওরা বেরিয়ে গেলো। যেই বাইরের গেট পার হলো ওমনি ওই সময়ই কুকুর ডেকে উঠল। ভয়ে রাফি পিছলে গিয়ে কাদায় পড়ে গেল। ততক্ষণে নানা নানি এসে হাজির। তারা জিজ্ঞেস করলে মিনহাজ মিথ্যা বলল, রাফি কুকুর অনেক ভয় পায়। আমরা বারান্দায় বসে ছিলাম। হঠাৎ একটা কুকুর ডেকে ওঠে। আমি আর রাজুও ঘেউ করে ডাক দেই। তাতেই রাফি দৌড়ে গিয়ে কাদায় পড়ল।
যাহোক পরিস্থিতি সাধারণ হলো। বেচারা রাফি মনে মনে লজ্জিত। ওর জন্যই প্ল্যানটা ভেস্তে গেল। হঠাৎ কেউ ডেকে উঠল- এই নয়ন ওঠ। আর কত ঘুমাবি!
ধড়ফড় করে উঠে বসল নয়ন। তার মানে স্বপ্ন দেখছিল এতক্ষণ! রাত্রে বেশি পড়লে যা হয়! মনে মনে বলল সে। আসলে গতকাল রাত্রে একটি গুপ্তধনের বই পড়েছিল। তাই স্বপ্নে দেখেছে। হাত-মুখ ধুয়ে নাশতার টেবিলে গেলো সে। মনে মনে ভাবলো ইস! স্বপ্নে তো ওরা অনেক দামি গুপ্তধনের খোঁজ করছিল। আমিও যদি ওরকম গুপ্তধনের সন্ধান পেতাম! তাহলে তো…
হ্যাপি বার্থডে নয়ন! নয়ন দেখলো পরিবারের সকলে দাঁড়িয়ে ওকে উইশ করছে। সে ভাবল স্বপ্নের গুপ্তধন বাদ দেই। আজই কত গুপ্তধন পাব। এই বা কম কীসে…।
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৫



