বন্ধুরা, আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই অনেক ভালো আছো। আগের বেশ কিছু পর্বে আমরা গতি নিয়ে জেনেছি। আজকেও আমরা গতি নিয়ে জানার চেষ্টা করবো। কী? শিরোনাম দেখে কঠিন মনে হচ্ছে? সমস্যা নেই, আমরা বরাবরের মতই সহজভাবে জানার চেষ্টা করবো। চলো তাহলে, শুরু করা যাক।
বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই ক্রিকেট খেলা দেখে থাকবে। ব্যাটসম্যান যখন ছক্কা হাঁকায়, তখন বলের গতিপথ কেমন হয়? খেয়াল করেছো? বল যখন ব্যাটে আঘাত লাগে তখন তা উপরের দিকে উঠতে থাকে এবং এক সময় আর উপরে না উঠে ধীরে ধীরে নিচে নামতে থাকে। এই উপরে ওঠা ও নিচে নামার সময় বল সামনের দিকে এগিয়ে যায়। অতঃপর এক সময় বাউন্ডারি অতিক্রম করে। তোমরা খেয়াল করছো বলটি বাঁকা পথে যায়। এই বাঁকা গতিপথ অনেকটা ইংরেজি, উল্টো ‘U’ অক্ষরের মত। জ্যামিতির ভাষায় একে বলে প্যারাবলিক গতিপথ। এধরনের গতিকে আমরা বলে থাকি, প্রক্ষেপণ গতি বা Projectile Motion.
কিন্তু, কেনো এমন হয়? যখন ব্যাটসম্যান ব্যাট দিয়ে বলে আঘাত করে তখন এর গতির দুইটা অংশ থাকে। একটা হলো আনুভূমিক অংশ যা পুরো গতিপথব্যাপী সমান থাকে। এ অংশটি বলটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আরেক অংশ হলো উলম্ব অংশ, যা উপরের দিকে কাজ করে। বেগের এই উলম্ব অংশের জন্যই বলটি উপরে ওঠে। অভিকর্ষজ ত্বরণের জন্য, মানে পৃথিবীর আকর্ষণের জন্য এই উপরে ওঠা এক সময় থেমে যায়। এই বিন্দুতে বলটির উলম্ব বেগ, মানে বেগের উপরের দিকের অংশ শূণ্য হয়। এর পর আর বলটি উপরে ওঠে না। এরপর পৃথিবীর আকর্ষণের ফলে নিচে নামা শুরু হয়। আর বেগের উলম্ব ও আনুভূমিক অংশের জন্যই এর গতিপথ এমন বাঁকা হয়ে থাকে। এখানে আমরা হিসাবের সুবিধার জন্য বাতাসের বাঁধাকে উপেক্ষা করে থাকি।
এমন গতি আমরা আরও বিভিন্ন জিনিসে দেখে থাকি। যেমন গাছ থেকে আম পাড়ার জন্য আমরা যে ঢিল ছুঁড়ি, তার গতি এমন। নিক্ষিপ্ত তীর, কামানের গোলা, কিংবা ব্যালাস্টিক মিসাইল, সবকিছুই এমন প্যারাবলিক গতিপথ অবলম্বন করে থাকে। তোমাদের স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যে তোমরা গোলক নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ কিংবা বর্শা নিক্ষেপ করে থাকো, এর সবগুলোই এই প্রক্ষেপণ গতির উদাহরণ। কিংবা ক্রিকেট বল দিয়ে তোমরা যে ক্যাচ-ক্যাচ খেলে থাকো তাও এর উদাহরণ।
যেকোনো বস্তু ভূমির সাথে কৌণিকভাবে নিক্ষেপ করলে তা প্রক্ষেপণ গতি লাভ করে। এমনভাবে নিক্ষিপ্ত বস্তুকে আমরা বলি প্রাস। এই প্রাস আনুভূমিকভাবে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে বলে এর পাল্লা। এই পাল্লা নির্ভর করে কত কোণে আমরা নিক্ষেপ করছি তার উপর। মানে তুমি একটা বল নিক্ষেপ করলে তা কত দূরে যাবে তা নির্ভর করে কত কোণে তা তুমি নিক্ষেপ করছো তার উপর। ধরো, একটা বলকে খাড়া উপরের দিকে নিক্ষেপ করলে তা কিন্তু ঠিক একই জায়গায় ফিরে আসে। এখানে ভূমির সাথে তুমি ৯০ ডিগ্রি কোণে মানে উলম্বভাবে নিক্ষেপ করেছিলে। তাই বলটি আনুভূমিকভাবে কোনো দূরত্ব অতিক্রম করেনি। আর বলটি যদি ভূমির সাথে ৪৫ ডিগ্রি কোণে নিক্ষেপ করো তাহলে বলটি সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করবে। যেকোনো বস্তু ৪৫ ডিগ্রি কোণে নিক্ষেপ করলে তা সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে।
প্রক্ষেপণ গতি নিয়ে এই ছিলো আজকের মতো। আশা করি, প্রক্ষেপণ গতি সম্পর্কে জানতে পেরেছো। দেখা হবে নতুন কোনো মজার বিষয় নিয়ে।
প্রকাশকাল: জুন ২০২৫



