ক্লাসে ফার্স্ট বয় বাবু। পড়ালেখায় সবার সেরা। স্কুলের শিক্ষকদের আদরের মণি। নাম তার বাবু। কখনো সে কারো সাথে ঝগড়া করে না। শান্ত স্বভাবের বাবু। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছে করে ঝগড়া বাঁধায় তখন কী করা যায় বলতো ছোট্ট বন্ধুরা?
বেচারা সব পারলেও ঝগড়া একদম করতে পারে না। একদম ভীতু।
বাবুর ক্লাসমেট রাতুল। সে বাবুকে খুব হিংসে করে। বাবুর সব কিছুতেই তার মাথা নষ্ট। ইচ্ছে করে হলেও সে তার সাথে ঝগড়া বাঁধায়। একদিন স্কুলের পিটি শুরু হতে দশ মিনিট বাকি। বাবু তাড়াতাড়ি ক্লাস রুমে ব্যাগ রেখে পিটিতে চলে যায়। কিন্তু পিটি শেষ করে ক্লাস রুমে এসে দেখে তার ব্যাগ নেই। খুব ভয় পেয়ে গেল সে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সে ব্যাগ পেল না। বাড়ির কাজ দিতে পারেনি বলে শিক্ষক খুব বকলেন তাকে। কিন্তু সে নিশ্চিত এই কাজ রাতুলের।
স্কুল থেকে আসার পথে বাবু মাথা চুলকায় আর ভাবে কী করা যায়। এদিকে কয়েকদিন যাবত তার বাবা, বাবুকে খেয়াল করছিলেন। খেলতে, পড়তে মুখটা শুকনো থাকে তার। একদিন.. দুইদিন… তিনদিন….।
তৃতীয় দিন মাকে ডেকে বাবা বললেন, ছেলেটা হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গেল। কথা কম বলে, খেলে না। তুমি কি কিছু জানো?
– নাহ, আমি খেয়াল করিনি ঘরের কাজে। তুমি একটু দেখো, কী হয়েছে।
মায়ের সঙ্গে কথা শেষ করে বাবা বাবুর পড়ার টেবিলে গিয়ে বসলেন।
– বাবা বলেন, কী করছো তুমি?
– ছবি আঁকি আব্বু।
– বাহ! বেশ তো দেখি। বাবা তার আঁকা ছবিটা দেখে চমকে গেলেন। দেখে একটা ছেলে আরেকটা ছেলেকে মারছে। বাবা তখন ছেলের মুখ থেকে কথা বের করতে একটু চালাকি করলেন। বললেন, বাহ অনেক সুন্দর হয়েছে ছবিটা। রঙ করবে না?
– করবো আব্বু।
– এই ছেলেটা এতো মার খায় কেন, ইশশ! এদের কি কোনো নাম রেখেছ?
– হ্যাঁ, এখানে যে মারছে তার নাম বাবু।
– ওমা!
– আর যে মার খাচ্ছে সে হলো তার বন্ধু রাতুল।
– ওহ বুঝেছি। রাতুল খুব খারাপ বুঝি?
– হ্যাঁ, আব্বু।
– আচ্ছা, এইবার চট করে বলে ফেলো তো, কী চলে তোমার মনে? স্কুলে কি কিছু হয়েছে বাবা?
– ইয়ে না, মানে কিছু না। বাবু আমতা আমতা করে।
বাবা বলেন, আচ্ছা আমিই রাতুলকে বকে দেবো। আমার সোনা ছেলেটাকে সে কষ্ট দেয় কীভাবে? কিন্তু তার আগে তো আমাকে সব বলতে হবে তোমার। না হলে আমি জানবো কী করে?
– তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে তো আব্বু?
– কী বলে বোকা ছেলে! অবশ্যই বিশ্বাস করবো। আমি তো তোমার আব্বু। তুমি তো আমাকে কখ&খনো মিথ্যা বলবে না, তাই না?
– জানো আব্বু, আমার ক্লাসমেট রাতুল খুব দুষ্ট। রোজ সে কোনো না কোনোভাবে আমাকে বিরক্ত করে। ঝগড়া করতে চায়। আমাকে হিংসে করে। আমি তাকে খুব ভয় পাই। কয়েকদিন আগে কী করেছে জানো?
– কী করেছে?
– আমার ব্যাগ লুকিয়ে রেখে স্কুলের মাঠের এক কোণে ফেলে রেখেছে। অনেক খোঁজার পর ব্যাগ মাঠে পেয়েছি।
– ইশশ!
– আমাকে স্যার বকেছে, আর আমি খুব কেঁদেছি।
বাবা সব শুনে বললেন, এটা খুব খুবই খারাপ ব্যাপার। খুব অন্যায়। তোমাকে কিছু কথা বলি শোনো, যখন কেউ সবসময় বিরক্ত করবে তখন তুমি কয়দিন চুপ থাকবে? বুকে সাহস নিয়ে তার সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। তুমি যেমন মানুষ সেও মানুষ। তোমার চাইতে তার শরীরের কোনো অংশ বেশি দেখেছো?
– না আব্বু ।
তাহলে কেন ভয় পাবে? একটু ভাবো তুমি। তোমার বড় ভুল ছিল তুমি কাউকে এসব জানাওনি।
তোমার উচিত ছিল আমাদের জানানো। স্কুলের শিক্ষককে জানানো। আজ থেকে তোমার সাথে কেউ কোনো খারাপ আচরণ করলে তুমি প্রথমে বাসায় বলবে। পরে আমরা তা সমাধান করবো। ঠিক আছে?
– হ্যাঁ আব্বু, আজ থেকে তাই করব।
বাবা বাবুকে কোলে নিয়ে বলেন, সাবাস! আমার সাহসী ছেলে।
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৫



