ছোট্ট বন্ধুরা, আশা করি ভালো আছ। বাংলা হোক বা ইংরেজি হোক কীভাবে সুন্দর করে কথা বলতে হবে সেটা নিয়ে কথা বলেছিলাম এর আগে। বলেছিলাম, ইংরেজিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলতে চাইলে ইংরেজিতে চিন্তা করা শিখতে হবে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি কঠিন শব্দ হয়ে গেল।
জেনে নিই এর মানে কী? স্বতঃস্ফূর্ত অর্থ হচ্ছে আপনা হতে, নিজ থেকে (অর্থাৎ পরের চেষ্টা ছাড়াই) প্রকাশিত এমন। যেমন স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ বা ধর্মঘট। আরো অর্থ হচ্ছে, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, সাবলীল, স্বয়ংপ্রবৃত্ত, সহজ। ইংরেজিতে কথা বলতে গেলে বা ফ্লুয়েন্ট হতে গেলে নিজ থেকে ভাবতে শিখতে হবে। ফ্লুয়েন্ট হচ্ছে সাবলীলভাবে বা অনর্গল কথা বলার ধরন। স্বতঃস্ফূর্ত এর ইংরেজি হচ্ছে – Spontaneous
আমরা বাংলায় যেমন অনায়াসে কথা বলি কিন্তু ইংরেজিতে পারি না। সেই ক্ষমতাটা অর্জন করা দরকার। এটাকে ভয় করলে চলবে না।
কথা হচ্ছে ইংরেজিতে চিন্তা করা শিখব কীভাবে? চিন্তার ইংরেজি কী?
চিন্তা- এর ইংরেজি হচ্ছে thought বা worry বা think। নির্দিষ্ট প্রসঙ্গের উপর ভিত্তি করে এর অনুবাদ ভিন্ন হতে পারে। আমাদের যা শিখতে হবে তা হচ্ছে ইংরেজিতে ভাবা। থট বা থিংক।
আমরা আমাদের জীবনে অনেক মানুষকে দেখেছি যারা অনেক জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের সঠিকভাবে উপস্থাপন ও প্রকাশ করতে পারেন না। এমনকি শিক্ষা জীবনে এমন অনেক শিক্ষক দেখেছি যাঁদের পড়া আমাদের বুঝতে বেশ কষ্ট হয়ে যেত। নিঃসন্দেহে তারা অনেক জ্ঞানী কিন্তু ঘাটতি ছিল তাদের উপস্থাপনের।
সুন্দর করে কথা বলা হচ্ছে একটি আর্ট। স্মার্টনেসের প্রথম শর্ত সুন্দর করে কথা বলার কৌশল জানা। অনেকেই দেখা যায় অনেক জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও কথা বলার কৌশল না জানায় সঠিকভাবে নিজের মনেরভাব প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে শ্রোতারা অল্পতেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। নিজেকে প্রকাশ করতে কে না চায়? বাহ্যিক সৌন্দর্যের মধ্যে ভাব প্রকাশের সৌন্দর্য হচ্ছে অন্যতম একটি উপাদান। আর এজন্যই প্রয়োজন স্মার্টভাবে ইংরেজি ও বাংলা কথা বলার উপায় জানা।
এই কথা বলা জানার ক্ষেত্রে ইংরেজিতে ভাবতে শেখা বা চিন্তা করতে শেখা জরুরি।
ফুলকুঁড়ি বন্ধুরা তোমরা একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু ইংরেজিতে ভাবতে শিখতে পার। কীভাবে করবে কিছু টিপস-
১. ছোট বাক্য দিয়ে শুরু কর : যেমন তুমি ভাবতে পার আজ সকালটা কেমন। ইংরেজিতে ভাবলে কী বলবে?
It’s a beautiful morning today. The sun is shining brightly.
আজকের সকালটা খুব সুন্দর। চমৎকার রোদ উঠেছে। ব্যস হয়ে গেল। আরো কিছু ভেবে আরো কয়েক লাইন যোগ কর।
২. আশপাশের জিনিসগুলোর ইংরেজিতে নামকরণ কর। এটা সহজ কাজ। মনে কর তোমার বাসায় বিড়াল আছে, ভাব ক্যাট। বাড়ির সামনে রাস্তা- ভাব রোড। আরো কত কিছু ভাবতে পার।
৩. নিজের সাথে কথা বল (মনে মনে) : এটা একটু চেষ্টা করলেই পারবে।
৪. কোনো কাজ করার সময় বর্ণনা কর : যেমন সকালে বাজার করতে গেলে। ভাব- সকালে বাজারে গেলাম, বাজার থেকে মাছ, তরি-তরকারি কিনে আনলাম।
I went to market in the morning and bought fish,vegetables and spices from the market.
৫. ইংরেজি কনটেন্ট পড় এবং শুন : এটা ভাবতে শেখাবে।
৬. ইংরেজিতে ডায়েরি লিখ : এটা তোমাকে ছোট ছোট বাক্য লেখায় সহায়ক হবে। দেখবে এক সময় ডায়েরির পাতা ভরে গেছে আর তুমিও ইংরেজি বুঝা, ভাবা ও বলা শিখে গেছ।
৭. ভুল নিয়ে চিন্তা করবে না : কারণ ভুল তো হবেই। ভুল করতে করতে এক দিন দেখবে তোমার ভাষায় দখল এসে গেছে। আগেই বলেছি, একটি ছোট্ট শিশু কিন্তু ব্যাকরণ নিয়ে ভাবে না। সে শুধু তার মনের ভাব প্রকাশ করার চেষ্টা করে।
৮. নিজেকে ইংরেজিতে প্রশ্ন কর ও উত্তর দাও : এটাই খুব উপকারী। জানতে চাও-
When did you wake up? Answer: At 6:30 in the morning.
তুমি কখন ঘুম থেকে উঠেছ? উত্তর : ভোর সাড়ে ছয়টায়।
কোন একটা আলোচনায় যোগ দিতে গেলে আগে শোন কে কী বলছে। হুট করে কোন মন্তব্য করা বোকামির কাজ। মূল বিষয়টি নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা কর। কেউ যদি অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করে তবে তাকে অনুসরণ করা যেতে পারে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার কৌশল। আজ এ পর্যন্তই।
প্রকাশকাল: জানুয়ারি ২০২৬

