ফুটবল বিশ্বকাপ : জানা-অজানা

0
3

বন্ধুরা, ১১ই জুন থেকে শুরু হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আর উত্তেজনার খেলা—ফুটবল বিশ্বকাপ! মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার সাথে সাথে চলো আমরা টাইম মেশিনে চড়ে ঘুরে আসি ফুটবলের ইতিহাস থেকে| জেনে নেই এমন ৬টি ফ্যাক্ট, যা রূপকথার চেয়ে কম কিছু নয়!

১. উরুগুয়ের জার্সিতে রহস্যময় চারটি তারা
নিয়ম হলো, একটা দেশ যতবার বিশ্বকাপ জিতবে, তাদের জার্সির লোগোর উপর ততটা তারা থাকবে| মজার ব্যাপার হলো, উরুগুয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে মাত্র ২বার (১৯৩০ ও ১৯৫০), অথচ তাদের জার্সিতে ৪টি তারা! কেনো জানো? কারণ বিশ্বকাপের আগে ১৯২৪ আর ১৯২৮ সালের অলিম্পিক ফুটবলকেও ফিফা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সমান মর্যাদা দিয়েছিলো| আর সেই দুই আসরেও চ্যাম্পিয়ন ছিলো উরুগুয়ে| তাই তাদের গর্ব ৪টি তারা!

২. ফুটবল না রেসলিং?
২০০৬ সালের কথা| পর্তুগাল আর নেদারল্যান্ডসের মধ্যে যেনো রেসলিং হয়ে গেল! রেফারি ভ্যালেন্টিন ইভানভ পকেট থেকে কার্ড বের করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন| তিনি সেই ম্যাচে মোট ১৬টি হলুদ কার্ড আর ৪টি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন! ইতিহাসে এই ম্যাচটিকে বলা হয় ‘ব্যাটল অফ নুরেমবার্গ’ বা নুরেমবার্গের যুদ্ধ|

৩. খালি পায়ে ফুটবল বিশ্বকাপ?
১৯৫০ সালে ভারত বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েও খেলতে যায়নি| কারণ হিসেবে অনেকে বলে, তারা জুতো ছাড়া খালি পায়ে খেলতে চেয়েছিলো আর ফিফা তা মেনে নেয়নি| ঘটনাটা পুরোপুরি সত্যি নয় অবশ্য| আসলে তখন জাহাজ দিয়ে এতো দূরে যাওয়াও অনেক খরচ ছিলো, আর ভারতের কাছে তখন অলিম্পিক গেমসের গুরুত্ব ছিল বেশি| তাই জুতো একটা কারণ হলেও অর্থাভাব আর গুরুত্ব না দেওয়াটাই ছিলো আসল কারণ|

৪. মান্দজুকিচের অদ্ভুত গোলের রেকর্ড
২০১৮ সালের ফাইনাল ম্যাচ| ক্রোয়েশিয়ার তারকা ফুটবলার মারিও মান্দজুকিচ এক অদ্ভুত রেকর্ড করে বসলেন| ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে মনের ভুলে তিনি বল নিজের জালেই ঢুকিয়ে দিলেন! বিশ্বকাপের ফাইনালে এটিই ছিলো প্রথম আত্মঘাতী গোল| পরে তিনি ফ্রান্সের জালেও একটি গোল করেছিলেন, কিন্তু তার দল আর জিততে পারেনি|

৫. দুই রূপেই রাজা যারা
খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা কঠিন, আর কোচ হিসেবে জেতা তো আরও কঠিন| কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে এমন ৩ জন ভাগ্যবান মানুষ আছেন যারা খেলোয়াড় হিসেবেও ট্রফি হাতে নিয়েছেন, আবার কোচ হয়েও দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন! তারা হলেন ব্রাজিলের মারিও জাগালো, জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার এবং ফ্রান্সের বর্তমান কোচ দিদিয়ে দেশম|

৬. টাইব্রেকার যখন ছিলো না
এখন খেলা ড্র হলে পেনাল্টি শ্যুট-আউটে জয়ী নির্ধারণ হয়| কিন্তু ১৯৭৮ সালের আগে নিয়মটা ছিল অন্যরকম| তখন নকআউট পর্বে ড্র হলে আবার নতুন করে ম্যাচ হতো (রিপ্লে), এমনকি মাঝে মাঝে কয়েন টস বা লটারির মাধ্যমেও বিজয়ী ঠিক করার নিয়ম ছিলো! ভাবো তো, টসে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়াটা কতটা কষ্টের হতো!

কেমন লাগলো এই ফুটবল-গল্পগুলো? এবার বন্ধুদের সাথে এই মজার তথ্যগুলো শেয়ার করো আর মেতে ওঠো ফুটবল জ্বরে!