বুকের মানিক বিলিয়ে দেয়া রত্নগর্ভা হে মা
তোমার কাছে চাইছি কেবল স্বনির্বন্ধ ক্ষমা
তোমার ছেলে নয়তো কেবল মেধাবী আর খাঁটি
জীবন ছিলো স্বর্ণে গড়া শুদ্ধ পরিপাটি।
আকাশ জয়ের স্বপ্ন ছিলো দুই চোখে মা যে তার
দয়াতে নয় যুদ্ধ করে আকাশসীমা জেতার
মেধার সঙ্গে সাহস এবং স্বপ্ন নিয়ে বুকে
বাংলাদেশে আগ্রাসনের শত্রু দেবে রুখে।
কে ভেবেছে শত্রু ছিলো দেশেই
পেছন থেকে করবে গুলি শেষেই
কে ভেবেছে ন্যায্য চাইতে গেলে
বক্ষ জুড়ে কেবল বুলেট মেলে!
রাত্রি ছিল অন্ধকারে ঠাসা
বাঁকে বাঁকে সাপ শকুনের বাসা
হিংস্রতা আর হিংসা সর্বনাশা
কেউ করেনি সকাল হবার আশা।
কেউ ভাবেনি আসবে নতুন ভোর
শুনবে আজান প্রভাত পাখির শোর
কেউ ভাবেনি হাসবে হৃদয় খুলে
স্বাধীন দেশে হাঁটবে দুলে দুলে!
তোমার ছেলে তোমাকে না বলে
ভোর না হতেই যুদ্ধে গেছে চলে
আঁকতে গিয়ে সবার মুখে হাসি
বাজিয়েছিল হার না মানা বাঁশি।
তোমার ছেলে ভয় করেনি মাগো
পথে নেমে ডাক দিয়েছে, জাগো
জেগেছে দেশ এবং দেশের লোক
দেশটা আবার জনগণের হোক!
আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও তানভীর
এই বিজয়ের প্রথম সারির বীর
এই বিজয়ের স্থপতি তারা
বাংলাদেশের জ্বলজ্বলে সব তারা!
তাদের জন্য আজকে দুহাত তুলে
মহান প্রভুর কাছে হৃদয় খুলে
শাহাদাতের জন্য চাইছি দোয়া
হোক পরলোক জ্যোৎস্না আলোয় ধোয়া।
[শহিদ জাহিদুজ্জামান তানভীন ছিলেন একজন উদীয়মান বিজ্ঞানী। ২০২২ সালে তিনি গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে স্নাতক শেষ করে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ড্রোন সেবা প্রতিষ্ঠান অ্যান্টস গড়ে তুলেন। ফুলকুঁড়ি আসরের চৌকস শহিদ তানভীন ১৮ই জুলাই উত্তরায় শহিদ হন।
(কবিতাটি শহিদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের আম্মুকে নিবেদন করে লেখা)]
প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২৫



