অপূর্ব সততা

0
2

পড়স্ত বিকেল। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। সন্ধ্যা কাছাকাছি, আজ সারাদিন ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করল ইফাজ। স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র সে। এই ভেবে স্বস্তি অনুভব করছে যে, আব্বুর ঔষধটা শেষ পর্যন্ত কিনতে পেরেছে। আজ ঔষধ কেনা না হলে আব্বুকে আবার প্রথম দিন থেক ঔষধের কোর্স শুরু করতে হতো, এ কারণে স্কুলের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষ করে আবার ছুটতে হয়েছে তাকে। মূলত এই অনুষ্ঠানটি ঘিরে ছাত্রদের অনেক ব্যস্ততা থাকে। তাছাড়া, ইফাজ ছিল অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম ছাত্র প্রতিনিধি। এ জন্য সব কাজ শেষ করে সন্ধ্যার আগেই ঔষধ কিনে বাড়ি ফিরতে পারবে কি না, এ ব্যাপারে সন্দেহ ছিল তার। আব্বুর এ ঔষধটি স্থানীয় ফার্মেসিতে পাওয়া যায় না, যেতে হয় উপজেলা সদরের বড় ফার্মেসিতে।
যাই হোক, অবশেষে সে ঔষধটি কিনতে পারলো। ঔষধ কিনে বাসায় ফিরার পথে মানিব্যাগ খুলে টাকার হিসেব মেলাতেই ইফাজ অনেকটা হকচকিত হয়ে উঠলো। এত টাকা তো থাকার কথা নয়! তার কাছে সব মিলিয়ে যত টাকা থাকার কথা ছিল তার চাইতে ৩০ টাকা বেশি রয়েছে, অনেক হিসেব মেলানোর পর সে বুঝতে পারল, ফার্মেসি থেকেই ভুলে এই অতিরিক্ত টাকাটা ফেরত দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বড়ি ফেরার তাড়াহুড়োর কারণে সেও আর অতিরিক্ত টাকাটা খেয়াল করতে পারেনি।
এখন কী করবে সে? এদিকে সন্ধ্যাও ঘনিয়ে আসছে, টাকাটা ফেরত দিতে হলে তাকে উল্টো ৫০ টাকা খরচ করে বাড়ি ফিরতে হবে। আর তাছাড়া সে সন্ধ্যার পর তেমন একটা ঘর থেকে বের হয় না। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিল টাকাটা সে ফেরত দিয়ে আসবে। উল্টো পথ ধরে সে টাকাটা ফেরত দিয়ে আসে, দোকানদার আঙ্কেল তার সততা দেথে আনেক খুশি হন। এবার বাড়ি ফেরার পথ ধরেছে সে। সন্ধ্যার প্রশান্তিময় বাতাস এসে তার গায়ে যেন বাহবার পরশ দিয়ে যাচ্ছে। সত্যিই, সততার আনন্দ যেন এক অপূর্ব অনুভূতি।
প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২৫