বাতাস

0
2

প্রিয় বন্ধুরা, সবাইকে ফুলকুঁড়ি আসরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা। গত পর্বে আমরা বাতাস নিয়ে কিছু জানার চেষ্টা করেছি। এ পর্বেও আমরা বাতাস নিয়ে আরও কিছু জানার চেষ্টা করবো। চলো তাহলে শুরু করা যাক।
আজকে আমরা জানবো বাতাসের চাপ নিয়ে। আমরা তো আগে থেকেই জানি, কোনো পৃষ্ঠের একক ক্ষেত্রফলের উপর যে বল লম্বভাবে প্রযুক্ত হয়, তা হচ্ছে তার চাপের পরিমাপ। চোখে দেখা না গেলেও আমরা আগেই জেনেছি বাতাসের ভর আছে, বল প্রয়োগে বাধা দেয়, বাতাস স্থান দখল করে। অর্থাৎ বাতাসের আয়তন আছে। কিন্তু বাতাসের যে চাপ আছে সেটা আমরা আলাদাভাবে খেয়াল করি না। আমরা আসলে বাতাসের সমুদ্রে বাস করি। আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে- বাতাসের সমুদ্রের একেবারে তলদেশে বাস করি। কিন্তু বাতাসের এই চাপ আমরা কেনো অনুভব করি না। কারণ আমাদের শরীরের ভেতর থেকে ও সমান পরিমাণ চাপ দেয়া হচ্ছে তাই ভেতরের আর বাইরে চাপ একটা আরেকটা কাটাকাটি হয়ে যায়। তাই যদি আমরা বাতাস নেই এমন জায়গায় চলে যাই তাহলে আমাদের শরীর ভেতরের চাপে সাথে সাথে বিস্ফোরিত হয়ে যাবে। এজন্য মহাকাশচারীরা স্পেস স্যুট পরে থাকেন যাতে চাপের ভারসাম্য থাকে।

আচ্ছা বুঝলাম বাতাসের চাপ আছে। কিন্তু তোমরা হয়তো ভাবছো বাতাসের চাপ খুব বেশি নয়। বাতাস যেমন হালকা বাতাসের চাপও তেমন কম হবে। কিন্তু আসলে বাতাসে চাপ অনেক বেশি। আচ্ছা এক মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের কোনো জায়গায় বাতাস যে চাপ দেয় তার পরিমাপ কত হতে পারে? অর্থাৎ ১m^২ ক্ষেত্রফলের ছোট জায়গায় বাতাস যে চাপ দেয় তার পরিমাপ ১০^৫ N তা আসলে একটা হাতির ওজনের সমান। বাতাসের এই চাপটি আসে তার উপরের বায়ুস্তম্ভের ওজন থেকে। পৃথিবী পৃষ্ঠে বাতাসের চাপ সবচেয়ে বেশি। বায়ুমণ্ডলের যত উপরের দিকে ওঠা যায় বাতাসের চাপ তত কমতে থাকে। কারণ উপরের বায়ুস্তম্ভের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে তার মানে বায়ুস্তম্ভের ওজন কমতে থাকে। আচ্ছা এখন তুমি বলতে পারো, আমাদের শরীরের কথা না হয় বাদ দিলাম, ভেতরে চাপ আছে তাই আমরা চাপ অনুভব করি না। কিন্তু একটা টেবিলের উপর তো বাতাসের চাপ কার্যকর হওয়ার কথা। যদি এক বর্গমিটার জায়গায় বাতাস একটা হাতির ওজনের সমান বল দেয় তাহলে তো যেকোনো টেবিল বা যেকোনো জিনিস ভেঙে পড়ার কথা, কিন্তু এমন তো হয় না। আসলে যেকোনো তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের মাঝে কোনো বল প্রযুক্ত হলে বল সবদিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয়। অর্থাৎ একটা টেবিলের চারদিকে সমান মানের বল প্রযুক্ত হয়। তাই মোট বল শূন্য হয়।

বাতাসের চাপ বোঝার জন্য জার্মানির ম্যাগডেবার্গ শহরে ১৭ শতকে অটো ভন গুয়েরিক (Otto von Guericke) এক বিখ্যাত পরীক্ষা করেন। তামার দুটি অর্ধগোলক একসাথে লাগিয়ে ভেতর থেকে বাতাস বের করে নেয়া হয়। ফলে বাতাসের চাপের কারণে অর্ধগোলক দুটি এমনভাবে লেগে থাকে যে দুই দল শক্তিশালী ঘোড়া দুদিক থেকে টেনেও ছোট অর্ধগোলক দুটিকে আলাদা করতে পারেনি। বাতাসের চাপের কারণেই যখন প্লাস্টিকের বোতলের ভেতর থেকে বাতাস বের করে নেয়া হয় তখন তা দুমড়েমুচড়ে যায়।
বাতাসের চাপ মাপার জন্য বিজ্ঞানী টরিসেলি একমুখ বন্ধ নল পারদ ভর্তি করে পারদ ভর্তি পাত্রে, নলের খোলামুখ পারদে ডুবিয়ে রাখেন দেখা যায় পারদ কিছুটা নিচে নেমে ৭৬ সেন্টিমিটারে এসে স্থির হয়। মূলত বাতাস পাত্রে রাখা পারদে চাপ দেয় এবং এই চাপের কারণে পারদ ৭৬ সেন্টিমিটার উচ্চতায় স্থির হয়। বাতাসে চাপ কমে গেলে পারদের উচ্চতা কমে যায়। এভাবেই টরিসেলি বাতাসের চাপ পরিমাপ করেন। বন্ধুরা বাতাসের চাপ নিয়ে আজ এই পর্যন্তই। আল্লাহ হাফিজ।

প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০২৫