পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর

0
0

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি বিভাগীয় শহর রংপুর। অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমৃদ্ধ এই রংপুর শহর। তন্মধ্যে অন্যতম প্রতিষ্ঠান পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় শিক্ষা প্রদান করা হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, এখানে মোট ৬,২৩৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১৯৮৬ সালে রংপুর জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) মোমিনুল্লাহ পাটোয়ারীর তত্ত্বাবধানে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৮৯ সালে স্কুলের একজন শিক্ষার্থী রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মানবিক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তবে স্কুলের যাত্রা ১৯৫৪ সালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে শুরু হয়। শুরুতে একটি টিনশেড ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় দাতাদের সহায়তায় এটি সম্প্রসারিত হয়। ১৯৮৭ সালে এখানে উচ্চ বিদ্যালয় বিভাগ চালু করা হয়, যা ১৯৮৮ সালে সরকারি অনুমোদন লাভ করে। ১৯৮৯ সালে এসপি সৈয়দ সিরাজুল ইসলামের প্রচেষ্টায় একটি কেজি বিভাগ যুক্ত করা হয়। ১৯৯৬ সালে এসপি এম.এ. মাবুদের উদ্যোগে উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ চালু হয়, যা প্রতিষ্ঠানটির পরিসর আরও বৃদ্ধি করে। সময়ের সাথে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো উন্নত হয়েছে। ২০০৬ সালে এসপি হাসানুল হায়দার কলেজ ভবন নির্মাণ করেন। ২০২০ সালের জুলাই মাসে রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একটি নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক স্তর এবং ১৯৯৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর এমপিওভুক্তিকরণ হয়।
শিক্ষা কার্যক্রম :
এ বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সহশিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। প্রত্যেক শ্রেণিতে কয়েকটি করে শাখা আছে। এখানে নবম-দশম শ্রেণিতে ও উচ্চ মাধ্যমিকে মানবিক, ব্যবসা শিক্ষা এবং বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চলে। বিদ্যালয়টি অনাবাসিক। এ বিদ্যালয়টির শ্রেণির শাখাগুলো বিভিন্ন ফুলের নাম এ নামকরণ করা হয়েছে। যেমন: জবা, বেলি, জুঁই, গোলাপ, শাপলা, পদ্ম ইত্যাদি।

বিদ্যালয়ের সাধারণ তথ্য
স্কুলের নাম : পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর
প্রতিষ্ঠাকাল : ১৯৮৬
ঠিকানা : পুলিশ লাইন রোড, রংপুর
উপজেলা : রংপুর সদর
জেলা : রংপুর
বিভাগ : রংপুর
ফোন : ০৫২১-৬৩৫৩২
অধ্যক্ষ : প্রফেসর ড. কে. এম. জালাল উদ্দিন আকবর
শিক্ষক সংখ্যা : ১৩৭
কর্মচারী সংখ্যা : ৭৩
মোট শিক্ষার্থী : ৬২৩৭ জন (প্রায়)
শ্রেণি কার্যক্রম : ১ম থেকে ১২শ
মোট জমির পরিমাণ : ১১ একর
মোট শ্রেণিকক্ষ সংখ্যা : ১৪৭
EIIN : ১২৭৫০১

অধ্যক্ষের মন্তব্য :
রংপুরের পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ উত্তর জনপদের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। রংপুর শহর একটি শিক্ষানগরী। এখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনেক ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। হায়ার সেকেন্ডারি লেভেলের স্কুল পর্যায়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি একটি সুখ্যাত প্রতিষ্ঠান। কারণ, আমাদের পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে উত্তর অঞ্চলের দূরদুরান্ত থেকে ছেলেমেয়েরা এখানে পড়তে আসে এবং সংখ্যাটা বিপুল। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ছাত্রছাত্রী এখানে পড়াশোনা করে। আমাদের এখানকার পড়াশোনার মান ভালো। অন্যান্য এক্সট্রা অ্যাকাডেমিক অ্যাক্টিভিটিজেও যথেষ্ট ভালো। লোকাল পর্যায়ে তো বটেই, জাতীয় পর্যায়েও আমরা যথেষ্ট নাম করি। এখানে শিক্ষার ভালো একটি পরিবেশ বিরাজ করে। আমাদের এখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আনুপাতিক হারটাও সন্তোষজনক। এখানে একটা জিনিস খুবই ভালো যে, শিক্ষকগণ যথেষ্ট দক্ষ, যোগ্য এবং আন্তরিক। স্কুল পর্যায়ে আমাদের কম্পিটিশনটা বেশি। কারণ এখানে জিলা স্কুল, গভমেন্ট গার্লস স্কুল, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের কম্পিটিশন করতে হয়। সেই হিসেবে আমরা যথেষ্ট ভালো করি। করোনার পরবর্তী সময় থেকে আমরা লক্ষ করেছি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় কিছুটা অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারটাতে আমরা খুবই সচেতন। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের পূর্বের ধারায় ফিরিয়ে আনতে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানটিকে আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।

মাসিক ফুলকুঁড়িকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের স্কুল পরিবারের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য। আমি এবং আমরা আনন্দিত যে শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ি রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিয়ে ফিচার প্রকাশ করতে যাচ্ছে। মাসিক ফুলকুঁড়ি শিশুদের মেধা ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। এই কাজের ধারা অব্যাহত থাকুক। আমি শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ির উত্তরোত্তর সাফল্য প্রত্যাশা করি।

 

মাসিক ফুলকুঁড়ির সাথে কথা হয় বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীর জিহাদ আক্তার এর সাথে। কথোপকথনের অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো ।

মাসিক ফুলকুঁড়ি : এখানে পড়াশোনা করতে কেমন লাগে তোমার?
জিহাদ : অনেক ভালো। আমাদের স্কুলের পরিবেশ খুবই সুন্দর। এখানে ক্যান্টিনের ব্যবস্থা আছে, লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, নামাজের ব্যবস্থা আছে, খেলাধুলার জন্য মাঠ আছে। মজার ব্যাপার হলো বিকেলে খেলাধুলার জন্য মাঠ উন্মুক্ত থাকে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় সকল উপকরণই আমাদের স্কুলে আছে। ভালো লাগার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের এখানে শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক এবং অনেক ভালো পাঠদান করেন।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমাদের স্কুলের নিয়মকানুন তোমার কেমন লাগে?
জিহাদ : আমার নিয়মকানুনের মধ্যে থাকতে ভালো লাগে। আমি চেষ্টা করি স্কুলের সকল নিয়মকানুন মেনে চলতে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : একজন শিক্ষার্থী তোমাদের স্কুলে কেন ভর্তি হবে?
জিহাদ : আমাদের স্কুল অনেক সুন্দর, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। এখানে নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং পড়াশোনা সবকিছুই অনেক ভালো। সবদিক থেকে ভালো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে চাইলে ভর্তি হতে হবে পুলিশ লাইন্স স্কুল রংপুরে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : একবাক্যে তোমার বিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করো।
জিহাদ : রংপুরে একাধিক ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও- সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা, পড়াশোনা সবকিছু মিলিয়ে আমার বিদ্যালয়ই আমার কাছে সেরা।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমাকে ধন্যবাদ।
জিহাদ : মাসিক ফুলকুঁড়িকেও ধন্যবাদ।

প্রকাশকাল: এপ্রিল ২০২৫