শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ

পদ্মা বিধৌত রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজশাহী মহানগরীর পশ্চিমাঞ্চলে শিক্ষার উন্নতিকল্পে রাজশাহী পুলিশ লাইন চত্বরে অবস্থিত ১.৬৫ একর জমির উপর ১৯৫৯ সালের ১৭ জুলাই তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর কর্তৃক একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সূচনাফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়টি উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয় এবং ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তদানীন্তন রাজশাহী অঞ্চলের ডি.আই.জি. মরহুম মামুন মাহমুদ এর নামে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়। বিদ্যালয়টি ১ জানুয়ারি ১৯৮০ সালে নিম্ন মাধ্যমিক এবং ১ জানুয়ারি ১৯৮১ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯৫ সালে এটিকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উন্নীত করা হয় এবং এর নামকরণ করা হয় ‘শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ।’
শিক্ষা কার্যক্রম : শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ একটি স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শাখায় পাঠদান বাংলা মাধ্যমে পরিচালিত হয়। উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাঠদান করা হয়। বর্তমানে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মিলে বিদ্যালয়ে মোট ১৮০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম : শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্যও পরিচিত। প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা সফর, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সামাজিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম অর্জন করে।

বিদ্যালয়ের সাধারণ তথ্য
স্কুলের নাম : শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রতিষ্ঠাকাল : ১৯৫৯
ঠিকানা : রাজশাহী পুলিশ লাইন, রাজশাহী
পোস্ট অফিস : রাজশাহী
পোস্ট কোড : ৬০০০
উপজেলা : রাজপাড়া
জেলা : রাজশাহী
বিভাগ : রাজশাহী
ফোন : ০২৫৮৮৮৫২৯৪৩
প্রধান শিক্ষকের নাম : এমডি শফিকুল ইসলাম
মোবাইল : ০১৭১৬৬২৭৮০০
মোট ছাত্র/ছাত্রী : ১৮০০
মোট জমির পরিমাণ (একর) : ১.৬৫ একর
ভবন সংখ্যা : ৩টি
মোট শ্রেণিকক্ষ সংখ্যা : ৪৫টি
বিজ্ঞানাগার এর জন্য কক্ষ সংখ্যা : ৪টি
পাঠাগার এর জন্য কক্ষ সংখ্যা : ১টি
অডিটোরিয়াম আছে কি না : আছে।
সীমানা প্রাচীর আছে কি না : আছে।

প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য:

শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজটি ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রাথমিক শাখা নিয়ে স্থাপিত হয়। তৎকালীন রাজশাহীর পুলিশ সুপার জনাব বুরহানুল ইসলাম সিদ্দিকী ১.৬৫ একর জমি দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠানের নাম যেহেতু ‘শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস্ স্কুল অ্যান্ড কলেজ’, প্রশ্ন হলো এই শহীদ মামুন মাহমুদ কে?
‘শহীদ মামুন মাহমুদ’ ১৯৭১ সালে রাজশাহী রেঞ্জ-এর উওএ ছিলেন এবং শহিদ হন। ব্যস, এটুকুর বাইরে আর কোনো ছবি বা লিখিত ডকুমেন্ট পেলাম না। পরে স্ব-উদ্যোগে খোঁজ নিয়ে শহীদ মামুন মাহমুদের দুই সন্তান-এর সন্ধান পাই। শহীদ মামুন মাহমুদের কন্যা ডাক্তার যেবা মাহমুদ আমাকে সার্বিকভাবে ছবি ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন। বর্তমানে শহীদ মামুন মাহমুদের ছবি অধ্যক্ষ এবং শিক্ষক কমনরুমে টানানো রয়েছে এবং প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের ডায়েরিতে তাঁর জীবনী ছাপানো হয়।
পরবর্তীতে ডাক্তার যেবা মাহমুদ বিদ্যালয়ের জন্য অনুদান দেন এবং তাঁর মায়ের নামে রবীন্দ্রভবনের দোতলায় মুশফিকা মাহমুদ স্মৃতি মিলনায়তন তৈরি করা হয়।
শহীদ মামুন মাহমুদের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে মজার কিছু তথ্যও খুঁজে পেয়েছিলাম। যেমন- ৫ বছর বয়সে শহীদ মামুন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কাছে চিঠি লিখেছিলেন এবং কবি তাঁর চিঠির উত্তরও দিয়েছিলেন।

প্রিয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অতিথিবৃন্দ, শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজশাহীতে স্বাগতম! আমাদের প্রতিষ্ঠানে, আমরা একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রদানের জন্য নিবেদিত যা শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করে। উদ্ভাবন এবং ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করে যে প্রতিটি শিক্ষার্থী একাডেমিক এবং ব্যক্তিগতভাবে উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়।
একসাথে, আসুন সমৃদ্ধি এবং অর্জনের এই যাত্রাকে আলিঙ্গন করি। আমাদের স্কুল পরিবারের অংশ হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। উষ্ণ শুভেচ্ছা।
শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ি শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস্ স্কুল নিয়ে ফিচার করতে যাচ্ছে জেনে আনন্দিত হয়েছি। মাসিক ফুলকুঁঁড়ি শিশুদের মেধা ও সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। আমি শিশুকিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ির বহুল প্রচার ও উত্তরোত্তর সাফল্য প্রত্যাশা করি।

মাসিক ফুলকুঁড়ির সাথে কথা হয় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জুলফিকার আলী জুয়েল-এর আলোচনার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো –

মাসিক ফুলকুঁড়ি : এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে তোমার অনুভূতি কেমন?
জুলফিকার : আমি এখানে খুব ভালো অনুভব করি, কারণ শিক্ষকরা সহায়ক এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক ভালো। শিক্ষকরা আমাদের বিভিন্নভাবে পড়ালেখার ব্যাপারে উৎসাহিত করে থাকেন। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন যেন আমরা বিশ্বমানের সুনাগরিক হতে পারি।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমার বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি তোমার কেমন লাগে?
জুলফিকার : শিক্ষকরা খুব যত্নসহকারে পাঠদান করেন এবং যে কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে সদা প্রস্তুত। এছাড়া শিক্ষকরা দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখেন।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : কেউ তোমার বিদ্যালয়ে পড়তে চাইলে তুমি তাকে কী পরামর্শ দিবে?
জুলফিকার : আমি তাকে বলবো যে এখানে শিক্ষার পরিবেশ অনেক ভালো এবং শিক্ষকরা খুব সহায়তা করেন, তবে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি আরো উন্নত করতে তোমার পরামর্শ কী?
জুলফিকার : আমি মনে করি পাঠদান পদ্ধতিতে কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করলে আরও কার্যকরী হবে, যেমন অনলাইন ক্লাস বা মাল্টিমিডিয়া উপকরণ ব্যবহার।
মাসিক ফুলকুঁড়ি : তোমার বিদ্যালয় নিয়ে একবাক্যে তোমার মন্তব্য বলো।
জুলফিকার : আমার বিদ্যালয় খুব ভালো, শিক্ষকরা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে অনেক সহায়তা করেন এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ খুবই সহায়ক। আমি আমার বিদ্যালয়কে খুব ভালোবাসি।

প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৫