প্রশ্ন : ১
আসসালামু আলাইকুম সবজান্তা ভাইয়া। আশা করি
ভালো আছো; কিন্তু প্রশ্ন দেখার পর হয়তো চিন্তিত
থাকবে। তো আমি প্রশ্নগুলো বলছি
১। তুমি কি মানুষদের সকল প্রশ্নের উত্তর নিজ
থেকে দাও নাকি অন্য কিছু দেখে?
২। তুমি মানুষ হলে তোমার আসল নাম কী?
৩। কান্না পেলে চোখ থেকে যে পানি পড়ে এই
পানির ট্যাঙ্কটা কোথায়? আর ট্যাঙ্কে লবণ দিয়েছে
কে?
৪। আমি যদি কোনো কাজ শুরু করি, তবে সেই
কাজ শেষ করেই ছাড়ি। কিন্তু লেখাপড়া যখন ধরি
তখন এমনটা হয় না কেন?
৫। আমি যদি আমার প্রিয় সবজান্তা ভাইয়াটাকে
দেখতে চাই তাহলে আমাকে কী করতে হবে?
-মাইশা মালিহা
সপ্তম শ্রেণি, শেখ হাসিনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, গোপালগঞ্জ।
সবজান্তার উত্তর : ১
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। অনেক ধন্যবাদ তোমার
প্রশ্নের জন্য।
১। প্রশ্নটা দেখলেই উত্তর পেয়ে যাই।
২। ওরে ভায়া, কতবার বলবো ‘সবজান্তা’ই আমার
আসল নাম।
৩। চোখের পানির ট্যাঙ্কের নাম ‘ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড’।
ওখানেই পানির সাথে লবণ মিশে।
৪। তাহলে তুমি লেখাপড়া ঠিকমতো ‘ধরতে’ পারো
না। আরও মনোযোগী হতে হবে। তাহলেই কম
সময়ে নির্ধারিত পড়া পড়তে পারবে।
৫। খুব সহজ। বাড়িতে মজার খাবারের আয়োজন
করে সবজান্তাকে ‘দাওয়াত কার্ড’ পাঠিয়ে দাও।
প্রশ্ন : ২
ঈদটা কেমন কাটলো তোমার
জান্তা ভায়া বলো,
ঈদের শেষে জান্তা-খেলা
শুরু করি চলো।
আকাশ কেন লাল না হয়ে
হলো বলো নীল?
চিলের নাম কাক না হয়ে
হলো কেন চিল?
গাছকে কেন মাছ না বলে
গাছই বলে ডাকি?
ডানাওয়ালা উড়ুক্কুদের
কেন বলি পাখি?
নামের নাম নাম না হয়ে
অন্য কিছু হলে,
দোষটা ছিলো কোথায় ভায়া
যাও না এবার বলে।
‘কেন’কে ভাই কেন বলে
ডাকছি সবাই কেন?
ভাষাটাকে ভাষা বলে
কেন তুমি চেনো?
অদ্ভুতুড়ে প্রশ্ন যে সব
করছি কেন আমি?
কিলবিলায় যে প্রশ্নগুলো
মাথায় দিবস-যামী।
-আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, নবম শ্রেণি, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা
সবজান্তার উত্তর : ২
ফিরনি, সেমাই, লাচ্ছা, পায়েস
ঈদটা ছিল দারুণ আয়েস।
দাওয়াত তুমি দাওনি, তাতে
কী আসে যায়! পান্তা ভাতে
মরিচ পোড়া, খাও তুমি রোজ
আমরা তো খাই নবাবী ভোজ।
এবার চলো ভাষার খেলায়
কিংবা বলো-ধ্বনির মেলায়
আকাশ ভরা আকাশী রঙ
নীল, বেগুনী? বাদ রাখো ঢঙ!
গাছকে যদি মাছ ডাকো আর
মাছকে ডাকো গাছ, তবে কার
লাভ কী হবে? বলতে পারো?
এরচে গড়ো, শব্দ আরো।
বাংলা নতুন শব্দ আসুক
অনুভূতির বহর ভাসুক
এতেই ভাষা ঋদ্ধ হবে
বিশ্বে রবে সগৌরবে।
(সবজান্তাকে ছন্দে ছন্দে ইচ্ছেমতো প্রশ্ন করতে পারো তুমিও! তোমার প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত আছে সবজান্তা।)
প্রকাশকাল: এপ্রিল ২০২৫

