শিশুশ্রম চাই না

0
11

ঢাকার কর্মব্যস্ত দু’টি এলাকা ফার্মগেট ও বড় মগবাজার। গবেষণায় দেখা গেছে, এ দু’টি এলাকায় ১০ শতাংশ শিশু ও কিশোরদের পড়ালেখার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। যে বয়সে তাদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা, সে বয়সে তারা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। যেমন কেউ সবজি বিক্রেতা, কেউ হোটেলের কাজ, বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ, দোকানে বিক্রেতার কাজ করছে, আবার কেউ শিল্পকারখানায় শ্রমিকের কাজ করছে। কেউবা ভিক্ষা করছে ফুটপাতে, কেউ ফুল বিক্রি করছে। দেশের সব পথশিশুর একই চিত্র।শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে আমাদের নগর বা শহরে সভ্যতা অনেক দূর এগিয়ে গেলেও শোষিত মানুষের সংখ্যা কমেনি। প্রতি বছর মে মাস এলেই শ্রমিকের কথা ভাবতে বসি আমরা। আসে পথশিশুদের কথা।
আসো, আমরাও জেনে নেই দিবসটির কথা। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস মে দিবস নামেও পরিচিত। প্রতি বছর পহেলা মে বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয় দিবসটি। এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উদ&যাপন দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠনসমূহ রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে পহেলা মে জাতীয় ছুটির দিন। আরও অনেক দেশে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও এটি পালিত হয়।

মে দিবসের ইতিহাস :
১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকারে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে দিবসটি পালিত হয়। সেদিন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। ফলে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল নামক শ্রমিক ফেডারেশনের কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে। ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনালের দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজুড়ে পহেলা মে তারিখে মিছিল ও শোভাযাত্রা আয়োজন করতে সকল সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল এবং শ্রমিক সংঘের (ট্রেড ইউনিয়ন) প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সেই সম্মেলনে শ্রমিকদের হতাহতের সম্ভাবনা না থাকলে বিশ্বজুড়ে সকল শ্রমিক সংগঠন মে মাসের ১ তারিখে বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

বলছিলাম পথশিশুদের কথা। তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে, তাদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি করা আমাদেরই দায়িত্ব। তাদের পুনর্বাসনসহ, পথশিশুদের জন্য হাইস্কুল পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ালেখার পরিবেশ তৈরি করা। প্রয়োজনে বাজেট বরাদ্দ দিয়ে তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে আমরা তাদের একটা উন্নত জীবন দিতে পারি। পাশাপাশি কম্পিউটার চালনা, ড্রাইভিং ইত্যাদি বহুমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি।

শিশুশ্রম :
বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাজে নিয়োগ করা নিষিদ্ধ। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য কিছু শর্তসাপেক্ষে কাজ করার অনুমতি রয়েছে। যেমন— হালকা কাজ এবং শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ। ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পথশিশুদের বিষয়ে সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোকে ভাবতে হবে। তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বালানো জরুরি। তবেই তারা সমাজের বোঝা না হয়ে সাধারণের মতোই বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।

আমাদেরকে সামগ্রিক উন্নয়নের চিন্তা মাথায় রেখে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশটা আমার, আপনার, আমাদের সবার। পথহারা, পথশিশু তারা আমাদেরই অংশ। তাদের স্বাভাবিক জীবন দান করা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা আমাদের সবার দায়িত্ব।