আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছো? আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক বেশি ভালো আছো। শীতের এই সময়ে তোমাদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে পড়াশোনার চাপ নিশ্চয় অনেকটাই কম। এ অখণ্ড অবসরে তোমাদের আসরে ছোট পরিসরে আয়োজন করতে পারো বিজ্ঞানমেলা বা বিজ্ঞান প্রদর্শনীর। আসরের ভেতরে কোনো স্কুল বা কারো বাসার রেলিংযুক্ত ছাদ কিংবা আঙিনা হতে পারে বিজ্ঞান মেলার জন্য ভালো জায়গা। আর নিজেদের তৈরি বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও বিজ্ঞান পোস্টার নিয়ে আয়োজন করে ফেলো বিজ্ঞানমেলার। আর কথা না বাড়িয়ে আজকের বিষয়ে যাওয়া যাক।
আমরা আগের অনেক পর্বে শব্দ নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা জানি কীভাবে শব্দ তৈরি হয়। কোনো জিনিসের কম্পনের ফলে শব্দ তৈরি হয়। আমাদের সবচেয়ে পরিচিত শব্দের উৎস হলো আমাদের গলা। যেখানে রয়েছে ভোকাল কর্ড। এর নিয়ন্ত্রিত কম্পনের মাধ্যমে আমরা শব্দ তৈরি করি। আবার ধরো আমাদের স্কুলের ঘণ্টা। এটিও আরেকটা শব্দের উৎস। কাঠের হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে পিতলের ঘণ্টায় কম্পন তৈরি হয়। আর এ কম্পন বাতাসের মাধ্যমে আমাদের কানে পৌঁছালে আমরা শুনতে পাই। এখানে ঘণ্টা হলো শব্দের উৎস। বাতাস হচ্ছে মাধ্যম। আর আমাদের কান হলো রিসিভার। যেকোনো শব্দ শোনার জন্য এই তিনটি জিনিসের দরকার হয়। যেকোনো একটি বাদ পড়লে আমরা শব্দ শুনতে পাবো না। আর শব্দ কেমন হবে তা নির্ভর করে শব্দের উৎসের উপর। যেমন, আমাদের স্কুলের ঘণ্টা যেমন শব্দ করে বাসার কলিং বেল কিন্তু একই রকম শব্দ করে না। শব্দ কেমন হবে তা নির্ভর করে তার কম্পাংকের উপর। যেমন, ছেলেদের গলার কম্পাংক কম তাই তাদের আওয়াজ মোটা আর মেয়েদের গলার কম্পাংক বেশি, তাই গলার স্বর তীক্ষ্ম। আর মাধ্যমের উপর নির্ভর করে শব্দের গতি কেমন হবে। যেমন, বাতাসে শব্দের বেগ একরকম আর কঠিন মাধ্যমে তার চেয়ে বেশি। আর শব্দ শোনা যাবে কি না তা রিসিভারের উপর নির্ভরশীল। যেমন, আমাদের কান কিন্তু সব ধরনের শব্দ শুনতে পায় না। একটা নির্দিষ্ট পরিসরের কম্পাংকের শব্দ শুনতে পায়। আমাদের কান সর্বনিম্ন ২০ হার্জ থেকে সর্বোচ্চ ২০,০০০ হার্জ কম্পাংকের শব্দ শুনতে পারে। কি? বিশ্বাস হচ্ছে না, যে আমরা সব শব্দ শুনতে পাই না। তাহলে নিজেই পরখ করে দেখো।
পাশের QR কোডটি স্ক্যান করে এখনই দেখে নাও তুমি কত হার্জ থেকে কত হার্জ পর্যন্ত শুনতে পাও। যদিও মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০-২০,০০০ ঐ। তবুও ব্যক্তিভেদে এ সীমা ভিন্ন ভিন্ন। দেখো তো তুমি কতটুকু শুনতে পাও।
২০ হার্জের চেয়ে কম কম্পাংকের শব্দকে বলে শব্দেতর শব্দ। শব্দেতর শব্দ আমরা শুনতে পাই না। অন্যান্য প্রাণী যেমন, হাতি, জলহস্তী, তিমি ইত্যাদি এই শব্দেতর শব্দ নিজেদের মাঝে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করে থাকে।
অন্যদিকে, ২০,০০০ হার্জের চেয়ে বেশি কম্পাংকের শব্দকে বলে শব্দোত্তর শব্দ। শব্দোত্তর শব্দও আমরা শুনতে পাই না। একে ইংরেজিতে আল্ট্রাসাউন্ড বলে। প্রাণিজগতের অনেকেই এ শব্দ শুনতে পায় ও কাজে লাগায়। যেমন, কুকুর শব্দোত্তর শব্দ শুনতে পায়, তাই বিভিন্ন কাজে কুকুর প্রশিক্ষণের জন্য আল্ট্রাসনিক বাঁশি ব্যবহার করা হয়। তোমরা অনেকেই হয়তো জানো যে বাদুড় চোখে দেখে না। চলাচলের জন্য শব্দোত্তর শব্দ ব্যবহার করে থাকে। এই ছিলো শব্দেতর ও শব্দোত্তর শব্দ নিয়ে। আজ এ পর্যন্তই। আল্লাহ হাফিজ।
প্রকাশকাল: ডিসেম্বর ২০২৪



