শব্দ নিয়ে কথা : ২

0
0

প্রিয় বন্ধুরা, কেমন আছো? আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক বেশি ভালো আছো। আজকের পর্বে আমরা শব্দ নিয়ে জানার চেষ্টা করবো। বেশ আগে আমরা শব্দ নিয়ে অল্প কিছু জেনেছিলাম। চলো তাহলে শুরু করা যাক।
তোমরা অনেকেই হয়তো স্টেডিয়ামে গিয়ে ক্রিকেট খেলা দেখেছো। সে সময় হয়তো খেয়াল করেছো, ব্যাটার যখন বলে আঘাত করে তার কিছু সময় পরে আমরা সেই শব্দ শুনতে পাই। কেনো এমন হয়? কী মনে হয়? এমন কোনো ঘটনা কি খেয়াল করেছো অন্য কোথাও? এটা আরও বেশি বোঝা যায় বজ্রপাতের সময়। বজ্রপাতের সময় নিশ্চয়ই খেয়াল করেছো, আমরা প্রথমে আলোর ঝলকানি দেখতে পাই। এর কিছু সময় পর শব্দ শুনতে পাই। কিন্তু কেনো এমন হয়?
যদিও ব্যাট দিয়ে বলে আঘাত করার ঘটনা ও শব্দ একই সময়ে ঘটে। বজ্রপাতের সময়ও আলো এবং শব্দ একই সময়ে উৎপন্ন হয়। এখানে কারণ হচ্ছে আলো আর শব্দের বেগের পার্থক্য। আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। তাই ঘটনা ঘটার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তা দেখতে পাই। অর্থাৎ, বজ্রপাতের আলো বা ক্রিকেট বলে আঘাত করার দৃশ্য আমরা প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দেখতে পাই। কিন্তু শব্দের গতি আলোর মতো এত বেশি নয়। শব্দের গতি আবার মাধ্যমের ওপরও নির্ভর করে। মাধ্যম নিয়ে আমরা পরে আলাপ করবো। বাতাসে শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৫০ মিটার। তাই বুঝতেই পারছো, স্বাভাবিকভাবেই শব্দ আলোর চেয়ে দেরিতে আমাদের কাছে পৌঁছায়।
আমরা জানি, শব্দ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার জন্য একটি মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল কিংবা গ্যাসীয়। বাতাস শব্দ সঞ্চালনের একটি মাধ্যম। বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৫০ মিটার/ সেকেন্ড। এটি আবার মাধ্যমের তাপমাত্রার ওপরও নির্ভর করে। প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৫০ মিটার/ সেকেন্ড থাকে। তাপমাত্রা কমলে বেগও কমে যায়। আবার তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, সাধারণভাবে কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ গ্যাসীয় মাধ্যমের তুলনায় বেশি এবং তরল মাধ্যমে তার মাঝামাঝি। তাই বাতাসে শব্দের বেগ সবচেয়ে কম, তরলে তার চেয়ে বেশি এবং কঠিন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি।
কখনো রেললাইনের পাশে গেলে খেয়াল করবে, ট্রেন আসার অনেক আগে যদি রেললাইনে কান লাগাও, তাহলে ট্রেনের শব্দ আগে থেকেই শোনা যায়। কারণ লোহার মধ্যে শব্দের বেগ প্রায় ৫,০০০ মিটার/ সেকেন্ড। তাই শব্দ বাতাসের তুলনায় অনেক দ্রুত আমাদের কানে পৌঁছে যায়। যদিও স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে তখনো ট্রেনের শব্দ শোনা যায় না।
একইভাবে, তোমরা তোমাদের ক্লাসেও একটি ছোট পরীক্ষা করে দেখতে পারো। কাঠে শব্দের বেগ প্রায় ৩,০০০ মিটার/ সেকেন্ড। ক্লাসের কাঠের ডেস্কের এক প্রান্তে হালকা করে টোকা দাও। দেখবে, এমনিতে শব্দটি খুব জোরে শোনা যাচ্ছে না। এবার তোমার বন্ধুকে বলো ডেস্কের অন্য প্রান্তে কান লাগিয়ে শুনতে। দেখবে, একই হালকা টোকার শব্দ সে অনেক জোরে শুনতে পাচ্ছে।
তাহলে আজ আমরা দেখলাম, মাধ্যমের ওপর শব্দের সঞ্চালন কীভাবে নির্ভর করে। শব্দ নিয়ে আরও অনেক মজার পরীক্ষা করা যায়। তোমরাও সেগুলো করে তার বিবরণ আমাদের লিখে পাঠাতে পারো।
তাহলে আজ এ পর্যন্তই। আল্লাহ হাফিজ।

প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০২৬