আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছো? আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক বেশি ভালো আছো। বিগত বেশ কিছু পর্বে আমরা আলো নিয়ে জানার চেষ্টা করেছি। এপর্বে আমরা নতুন অন্য কিছু নিয়ে জানার চেষ্টা করবো। আজকের শিরোনাম দেখে একটু কঠিন মনে হচ্ছে? চিন্তার কিছু নেই। চলো তাহলে শুরু করা যাক।
কোনো জিনিস যখন আমাদের হাত থেকে মেঝেতে পড়ে যায় তখন শব্দ হয়। আমরা জানি যে কম্পনের ফলে শব্দ তৈরি হয়। শক্ত মেঝের সাথে ধাক্কা লাগার কারণে বস্তুতে কম্পন তৈরি হয়, এর ফলে তৈরি হওয়া শব্দ আমরা শুনতে পাই। এখন তোমরা হয়তো খেয়াল করেছো যে কখনো হাত থেকে ধাতব কোনো জিনিস পড়লে কেমন শব্দ হয়। আবার কাঠের তৈরি কোনো জিনিস পড়লে কেমন শব্দ হয়। যেমন ধাতব বাসনপত্র মেঝেতে পড়লে ঝনঝন শব্দ হয় আবার কাঠের তৈরি তোমার ক্রিকেট ব্যাট পড়লে নিশ্চয়ই একই রকম শব্দ হয় না। আবার কয়েন হাত থেকে পড়লে ভিন্ন রকম শব্দ। যদিও তা ধাতুর তৈরি। অর্থাৎ প্রত্যেকটি জিনিসের শব্দ আলাদা। আমরা শব্দ শুনেই বুঝতে পারি তা কেমন জিনিস। এর কারণ, প্রত্যেকটি জিনিসের একটি স্বাভাবিক কম্পাংক বা Natural Frequency রয়েছে। তাকে আঘাত করলে তা ঐ কম্পাংকে কম্পিত হয়। এবং তা একটি নির্দিষ্ট শব্দ তৈরি করে যা অন্য বস্তুর শব্দ থেকে আলাদা। এই স্বাভাবিক কম্পাংক বস্তুর স্থিতিস্থাপকতা ও আকারের উপর নির্ভর করে থাকে। একেবারে পরমাণু থেকে শুরু করে সকল জিনিসের নিজস্ব স্বাভাবিক কম্পাংক রয়েছে।
এবার অন্য আরেকটি উদাহরণ দেখা যাক, তোমরা নিশ্চয়ই দোলনা চড়েছো। এরকম হয়তো খেয়াল করে থাকবে যে তোমার বন্ধু যখন দোলনায় দোল খাচ্ছে তখন তুমি তাকে দোল দিয়ে সাহায্য করছো। তখন একটা নির্দিষ্ট সময়ে দোলনায় হালকা বল প্রয়োগ করলেও দোলনার দোলন অনেক বেশি বেড়ে যায়। এটি করতে হয় নির্দিষ্ট সময় পর পর আর দোলনার স্বাভাবিক কম্পাঙ্কের সাথে তাল মিলিয়ে। এর কারণ হলো যখন দোলনার স্বাভাবিক কম্পাংকের সাথে মিলিয়ে একে দোল দেয়া হয় তখন তাতে অনুনাদ সৃষ্টি হয়। এজন্য এর দোলনের বিস্তার বেড়ে যায়।
ঠিক একই জিনিস ঘটে সুর শলাকার বেলায়। ধরো, একটি সুর শলাকার কম্পাংক ৫১২ঐু। এটি কম্পনরত অবস্থায় আশেপাশে যদি একই কম্পাংকের অন্য কোনো শব্দ তৈরি হয় ,তখন এই সুর শলাকার আরও বেশি জোরে বাজতে থাকে । তার মানে এর কম্পনের বিস্তার বেড়ে গিয়ে শব্দের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এটিই অনুনাদ।
একই জিনিস অন্য যেকোনো জিনিসের ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। যেমন কোনো ভবন যদি তার স্বাভাবিক কম্পাংকের সমান কোনো কম্পন পায় তখন তা ধ্বসে পড়তে পারে। এজন্য অনুনাদ থেকে যাতে ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এজন্য মার্চ করার সময় সৈন্যদলকে ব্রিজের উপর এলোমেলোভাবে হাঁটার নির্দেশ দেয়া হয়। বাতাসের তৈরি অনুনাদের কারণে ব্রিজ ধ্বংস হওয়ার বিখ্যাত ঘটনা রয়েছে। ১৯৪০ সালে ওয়াশিংটনে নির্মিত Tacoma Narrows Bridge মাত্র কয়েক মাসের মাথায় বাতাসের কারণে সৃষ্ট অনুনাদের প্রভাবে ধ্বসে পড়ে।
আজ এ পর্যন্তই। আল্লাহ হাফিজ।
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৪



