সাহসী কোয়ালা

0
0

অনেক অনেক দিন আগের কথা। অস্ট্রেলিয়ার গভীর জঙ্গলে নদীর ধারে একটি বড় গাছ ছিলো। একজোড়া কবুতর সেই গাছটিতে বাসা বানিয়েছিলো। সেখানে তাদের দুটো ছানা নিয়ে বাস করতো। ছানারা যত বড় হচ্ছিলো, তাদের তত বেশি খাবারের প্রয়োজন হচ্ছিলো। তাই একদিন মা ও বাবা কবুতর মিলে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে গেল।

ঠিক তখনই একটি সুন্দর চড়ুই পাখি উড়ে এসে বসলো ছানাদের পাশে। ছানারা তাদের মা-বাবার বাইরে অন্য কোনো পাখিকে আগে কখনো দেখেনি, তাই ভয়ে তারা নিজেদের ডানা দিয়ে মাথা ঢেকে ফেললো অর্থাৎ তারা ভাবলো যে তারা নিজেদেরকে লুকিয়ে ফেলেছে।
চড়ুইটি বললো,‘তোমরা আমাকে দেখে ভয় পাচ্ছো কেনো? আমার নাম চড়ুই। আমারও তোমাদের মতো ছানা আছে। আমি তাদের জন্য খাবার খুঁজতে খুঁজতে এখানে এসে পৌঁছেছি। তোমাদের গাছের এই পোকাগুলো আমার ছানারা খুব পছন্দ করে।’
ছানারা বললো,‘তুমি কত সুন্দর! তুমি কী সুন্দর দ্রুত ডানা ঝাপটে উড়ে এলে!’
চড়ুইটি বললো,‘আল্লাহ তায়ালা আমাকে এই সুন্দর ডানা দিয়েছেন, যাতে আমি যেখানে খুশি উড়তে পারি এবং নিজেদের জন্য খাবার জোগাড় করতে পারি।’
ছানারা যখন চড়ুইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলো, তখন হঠাৎ গাছটি কেঁপে উঠলো। ভয়ে ছানারা আবার নিজেদের ডানা দিয়ে মাথা ঢেকে ফেললো।
ততক্ষণে একটি বড় প্রাণী গাছে উঠে এলো। তার থাবাগুলো বেশ শক্তিশালী, কান দুটি চওড়া আর শরীরটি ছাই-রঙা পশমে ঢাকা। তাকে দেখতে বেশ মিষ্টি আর দয়ালু মনে হচ্ছিলো।
সে ছানাদের দিকে তাকিয়ে বললো,‘ভয় পেয়ো না, তোমরা তো আমার খাবার নও।’
ছানারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,‘আমরা তো লুকিয়ে ছিলাম, তুমি আমাদের দেখলে কীভাবে?’
কোয়ালাটি হেসে বললো,‘তোমরা তো শুধু মাথা লুকিয়েছিলে, কিন্তু শরীর তো বাইরেই ছিলো! মিষ্টি ছানারা, আমার নাম কোয়ালা। আমি এক ধরনের গাছ-ভাল্লুক। আমি তোমাদের প্রতিবেশী, পাশের গাছেই আমার পরিবার নিয়ে থাকি।’

ছানারা বললো,‘তুমি কত ভাগ্যবান! তুমি যেখানে খুশি যেতে পারো।’
কোয়ালা বললো,‘কিন্তু আমাদের মতো যাদের ডানা নেই, তারা তো তোমাদের মতোই পাখি হতে চায়। আমরা নীল আকাশে উড়তে চাই। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওড়ার মতো বড় উপহার দিয়েছেন। বড় হওয়ার জন্য ধৈর্য ধরো, তাড়াহুড়ো করো না। তোমরাও একদিন তোমাদের বাবা-মায়ের মতো আকাশে উড়তে পারবে।’

এমন সময় কোয়ালা দেখলো, একটি ঈগল পাখি ছানাগুলোকে শিকার করার জন্য তেড়ে আসছে। কোয়ালা চিৎকার করে বললো, ‘বিপদ! বিপদ!’ এবং দ্রুত ছানাদের বাসার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। সে তার ধারালো থাবা দিয়ে ঈগলটিকে আঘাত করতে লাগলো যাতে তাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া যায়। এমন ভয়ানক দৃশ্য দেখে চড়ুইটি দ্রুত উড়ে গিয়ে মা ও বাবা কবুতরকে খবর দিলো, ‘তোমাদের ছানারা বিপদে পড়েছে, তাড়াতাড়ি এসো!’ মা কবুতর এবং কোয়ালা মিলে অনেক কষ্টের পর শিকারি পাখিটিকে তাড়িয়ে দিলো। কোয়ালা কিছুটা আহত হয়েছিলো, কিন্তু প্রতিবেশীর সন্তানদের বাঁচাতে পেরে খুবই খুশি ছিলো।

মা কবুতর চড়ুই পাখিটিকে এবং কোয়ালাকে তাদের ছানাদের জীবন বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ জানালো এরপর কোয়ালার সাহসিকতার গল্প পুরো জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়লো এবং সবাই তাকে ‘সাহসী কোয়ালা’ বলে ডাকতে লাগলো।

আমাদের গল্প শেষ হলো, ঈগল তার কুটিল উদ্দেশ্য সফল করতে পারলো না। সবশেষে বলতে হয়, সাহসী কোয়ালার সততা আর বীরত্বই জয়ী হলো।

প্রকাশকাল: সেপ্টেম্বর ২০২৬