টানা ২১ বছর ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে সার্ভিস দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ইংলিশ পেসার এবং সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারী পেস বোলার জেমস এন্ডারসন। লর্ডস মাঠেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক ঘটেছিল জিমির। সেই লর্ডসেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ার জীবনের ইতি টানলেন তিনি। পেছনে রেখে আসলেন এক বর্ণাঢ্য টেস্ট ক্যারিয়ার। টেস্ট ক্রিকেটের বোলার হিসেবে লঙ্কান মুত্তিয়া মুরালিধরন (৮০০) এবং শেন ওয়ার্ন (৭০৮) এর পর তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং পেসার হিসেবে সর্বোচ্চ (৭০৪) উইকেট শিকারী জিমি। পেসার হিসেবে এন্ডারসনের পর সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন তাঁরই স্বদেশি স্টুয়ার্ট ব্রড। ব্রডের উইকেট সংখ্যা ৬০৪। ঠিক বরাবর ১০০ উইকেট দূরে। বলা যায় পেস বোলারদের জন্য এক অনতিক্রম্য রেকর্ডই রেখে গেলেন এন্ডারসন। বর্তমানে টি-২০’র আগ্রাসী প্রভাব, খেলোয়াড়দের টেস্ট খেলতে অনীহা এবং সর্বোপরি ক্লান্তির কারণে টানা টেস্ট ক্রিকেট খেলাও প্রায় অসম্ভব। জিমি এন্ডারসন আরেকটি রেকর্ডও করে গেছেন। তা হলো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮৮টি টেস্ট খেলার রেকর্ড। তাঁর সামনে আছেন শুধু ভারতীয় লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকার। তিনিই একমাত্র ২০০টি টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করেন। যদিও ধারণা করা হয়েছিল জিমি টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙবেন কিন্তু অবসরের ঘোষণায় তা আর হয়ে উঠলো না।
জেমস এন্ডারসনের অভিষেক ঘটে ২০০২ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটের মাধ্যমে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এরপর টেস্ট অভিষেক। আধুনিক হালের টি-২০ খেলেন ১৯টি। তবে সেটার সমাপ্তি ঘটে ২০০৯ সালে। এন্ডারসনের ওয়ানডে রেকর্ডও বেশ ভালো। যদিও ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে ভরাডুবির পর ইসিবি তাদের ক্রিকেটের খোলনলচে বদলে ফেলে। তারই ধারাবাহিকতায় এন্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডসহ বেশকিছু সিনিয়র ক্রিকেটার বাদ পড়েন।
বয়স ৪১ হলেও এন্ডারসনের ফিটনেসে কোনো ঘাটতি ছিলো না। কিন্তু একটা সময় তো থামতে হয়। তাছাড়া পরিবারকেও সময় দেয়া প্রয়োজন। মূলত এন্ডারসনের বিদায়ের মাধ্যমে ইংলিশ ক্রিকেটের এক প্রজন্মের অবসান হলো।

প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২৪



