টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি শিরোপা জিতল টিম ইন্ডিয়া। এর আগে ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারত। সেই জয়ের ১৭ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত। মাঝে অবশ্য ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০১৩ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে টিম ইন্ডিয়া। সেই নিরিখে বলা যায়, ভারত ১৩ বছর পরে ফের কোনো বিশ্বকাপ জিতলো এবং ১১ বছর পরে আইসিসি ট্রফি জিতলো।
ফাইনাল খেলার বিবরণ: বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় ভারত। প্রথমে ব্যাট করে বিরাট কোহলির হাফ সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৬ রান করে ভারত। বিরাট কোহলি ৫৯ বলে ৭৬ রান করেন। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৫ ওভার শেষে জয়ের জন্য ৩০ বলে ৩০ রানের সমীকরণ নামিয়ে আনে। কিন্তু শেষ ৫ ওভারে ভারতীয় বোলারদের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের সামনে ২২ রানের বেশি নিতে পারেনি প্রোটিয়ারা। ফলে প্রথমবারের মতো আইসিসি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারলো না দক্ষিণ আফ্রিকা। এ নিয়ে তাদের আক্ষেপ থাকবেই। কেননা কাপটা তাদেরও হতে পারতো। কিন্তু অসাধারণ একটি ক্যাচ খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রোপের উপর দাঁড়িয়ে অসাধারণ দক্ষতায় ক্যাচটি লুফে নেন ভারতের সূর্যকুমার। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বিরাট কোহলি ও জসপ্রীত বুমরাহ।
খুব কাছে গিয়েও শিরোপা দখলে নেয়া হলো না দক্ষিণ আফ্রিকার। বার্বাডোজে তাদের হার ৭ রানে। টসে হেরে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৭৬ রান করে ভারত। জবাবে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানে থামে প্রোটিয়াদের ইনিংস।
মাহেন্দ্র সিং ধোনির পর রোহিতও বিশ্বকাপ উপহার দিলেন দেশবাসীকে। ‘চোকার্স’ শব্দটা ফাইনালেও পিছু ছাড়ল না দক্ষিণ আফ্রিকার। সাত সাতবারের চেষ্টায় ফাইনালে আসা প্রোটিয়াদের প্রথমবারেই শিরোপা জয়ের সুযোগ বেশ ভালোমতোই ছিলো। ৩০ বলে ৩০ রান, হাতে ৬ উইকেট! এমন সমীকরণে কেবল প্রোটিয়ারাই হারতে পারে।
রান তাড়ায় নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি প্রোটিয়াদের। ২.৩ ওভারে মাত্র ১২ রানে জোড়া উইকেট হারিয়ে বসে তারা। দ্বিতীয় ওভারেই রেজা হেনড্রিকসকে ফেরান বুমরাহ; ৫ বলে ৪ রানে আউট হন তিনি। পরের ওভারে অধিনায়ক মার্করামকে (৫) তুলে নেন আর্শদ্বীপ সিং।
সেই চাপ থেকে বিপর্যয়ে থাকা দলকে উদ্ধার করেন ডি কক ও ট্রিস্টান স্টাবস। ৩৭ বলে ৫৮ রানের জুটি আসে দু’জনের থেকে। তবে স্টাবস স্ট্যাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে ৮.৫ ওভারে ফেরেন অক্ষরের বলে। ২১ বলে ৩১ রানে শেষ হয় তাঁর ইনিংস। ১৩ ওভার শেষে সংগ্রহ ১০৯/৪।
সেখান থেকে পরের দুই ওভারে ঝড় তোলেন ক্লাসেন ও ডেভিড মিলার। এরপর বুমরাহ টেনে ধরেন রানের গতি। ১৯তম ওভারে মাত্র ৪ রান আসলে বিপদ আরো বাড়ে। ২ বলে যখন ৯ রান প্রয়োজন, তখন রাবাদা ৩ বলে ৪ রানে ফিরলে এক বল হাতে রেখেই হার নিশ্চিত হয়ে যায় প্রোটিয়াদের। হার্দিক পান্ডিয়া ৩, জসপ্রীত বুমরাহ ও আর্শদ্বীপ নেন জোড়া উইকেট করে।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে চাপে পড়ে ভারতও। ৩ বলের ব্যবধানে হারায় ২ উইকেট। ধাক্কা সামলে ওঠার আগে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ক্লাসেনের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন সূর্যকুমার যাদব (৩)। ৪.৩ ওভারে সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩৪/৩। যেই কোহলি আসর জুড়ে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন, তিনিই ফাইনালে পথ দেখালেন ভারতকে। ১৯তম ওভারে তিনি ফেরেন ৫৯ বলে ৭৬ রানে।
প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২৪



