আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছো? আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক বেশি ভালো আছো। আমরা নিজেরা ভালো থাকার সাথে সাথে আমাদের চারপাশের সবাইকে ভালো রাখার চেষ্টাও কিন্তু চালিয়ে যেতে হবে। সামনে শীতকাল আসছে। চাইলে এখন থেকেই শুরু করতে পারো শীতের প্রস্তুতি। আমাদের কিছু বন্ধু যাদের শীতের কাপড় নেই তাদের জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারো। যাতে আসরের বন্ধুরা মিলে শীত শুরুর সাথে সাথেই পৌঁছে দিতে পারো শীতের উষ্ণ উপহার। আর কথা না বাড়িয়ে আজকের বিষয়ে যাওয়া যাক। কি? আজকের শিরোনামও একটু কঠিন মনে হচ্ছে? চিন্তার কিছু নেই। চলো তাহলে শুরু করা যাক।
আচ্ছা এমন কি কখনো হয়েছে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছো বা কোথাও বসে আছো আর অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির শব্দ শুনতে পেয়েছো? এটা কি খেয়াল করছো যে একটা সময় শব্দের তীক্ষ্মতা বেড়ে গিয়েছিলো আবার কমে গিয়েছিলো। যদি রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখে থাকো তাহলে নিশ্চয়ই খেয়াল করেছো, যখন অ্যাম্বুলেন্স আমাদের দিকে আসে তখন শব্দের তীক্ষ্মতা বেড়ে যায় আর যখন দূরে চলে যায় তখন কমে যায়। যদিও অ্যাম্বুলেন্সে যে সাইরেন লাগানো আছে তা থেকে একই তীক্ষ্মতার শব্দ তৈরি হচ্ছে। মাথায় কি কখনো প্রশ্ন এসেছে কেনো এমনটি হচ্ছে? একই ঘটনা তোমরা রেলস্টেশনে দাঁড়ানো অবস্থা হয়তো লক্ষ করেছো। যখন ট্রেন সাইরেন বাজিয়ে স্টেশনে আসে তখন শব্দের তীক্ষ্মতা বেড়ে যায়, আর স্টেশন থেকে চলে যায় তখন এর উল্টো ঘটনা ঘটে।
১৮৪২ সালে এ ঘটনা প্রথম ব্যাখ্যা করেন অস্ট্রিয়ার পদার্থবিজ্ঞানী ডপলার। তাই এর নাম ডপলার ইফেক্ট। ১৮৪৫ সালে বিজ্ঞানী বাইস ব্যালট একটি চলন্ত ট্রেনে ডপলার ইফেক্টের পরীক্ষা করেন। একদল ট্রাম্পেট বাদক চলন্ত রেল গাড়ি থেকে ট্রাম্পেট বাজাতে থাকে আর তিনি প্লাাটফর্মে দাঁড়িয়ে শব্দের তীক্ষ্মতার পরিবর্তন লক্ষ করেন।
প্রত্যেক শব্দের একটি কম্পাংক থাকে। এর উপরই নির্ভর করে শব্দ তীক্ষ্ম নাকি মোটা হবে। আমরা আগের এক পর্বে দেখেছিলাম ছেলেদের গলার কম্পাংক কম তাই স্বর মোটা আর মেয়েদের কম্পাংক বেশি তাই স্বর তীক্ষ্ম বা চিকন। অর্থাৎ যখন অ্যাম্বুলেন্স সাইরেন বাজাতে বাজাতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসে তখন শব্দের কম্পাংক বেড়ে গিয়ে বেশি তীক্ষ্ম হয়ে আমাদের কানে আসে। আবার যখন আমাদের থেকে দূরে সরে যায় কম্পাংক কমার কারণে শব্দ কম তীক্ষ্ম মনে হয়। এটা আমরা একটু সহজভাবে ব্যাখ্যা করবো। কম্পাংকের সাথে তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সম্পর্ক রয়েছে। তরঙ্গদৈর্ঘ্য বাড়লে কম্পাংক কমে আর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমলে কম্পাংক বৃদ্ধি পায়। অ্যাম্বুলেন্স যখন একটা নির্দিষ্ট গতিতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসে তখন গতির কারণে এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কমে যায়, অর্থাৎ কম্পাংক বেড়ে যায়। ফলে শব্দ তীক্ষ্ম শুনা যায়। ঠিক তার উল্টো ব্যাপার ঘটে যখন অ্যাম্বুলেন্স আমাদের থেকে দূরে সরে যায়। তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেড়ে গিয়ে কম্পাংক কমে যায়। শব্দ আমাদের কাছে কম তীক্ষ্ম মনে হয়। যদি আমরা শব্দের উৎসের দিকে দৌড়ে যাই তাহলেও ডপলার ইফেক্ট হবে। আবার উৎস ও শ্রোতা উভয়ে একে অপরের সাপেক্ষে গতিশীল থাকে তাহলেও ঘটবে।
ডপলার ইফেক্ট বা কম্পাংকের এই পরিবর্তন শুধু শব্দের ক্ষেত্রে নয়। সকল তরঙ্গের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আলোর এই ডপলার ইফেক্ট দেখে নক্ষত্রের গতি পরিমাপ করা হয়ে থাকে। ডপলার ইফেক্ট আরো অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যেমন – রাডার, চিকিৎসাক্ষেত্র, এচঝ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ইত্যাদি। এই ছিলো ডপলার ইফেক্ট নিয়ে। আজ এ পর্যন্তই। আল্লাহ হাফিজ।
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৪



