লাল ফড়িঙের ইশকুল

0
10

কী অপূর্ব এই গ্রাম! সবুজ প্রকৃতি। আকাশে হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। কী যে ভালোলাগে গ্রামটাকে! লাল ফড়িঙ স্কুলে যাবার পথে এভাবেই কথা শুরু করে তনুর সঙ্গে।
আচ্ছা তনু, তুমি রোজ রোজ বই হাতে নিয়ে ইশকুলে যাও কেন। তোমার কি ব্যাগ নেই? শহরের ছেলে-মেয়েরা ব্যাগে করে স্কুলে বই নিয়ে যায়। গাড়িতে চড়ে কী মজাটাই না করে! পিঁপিপ করে বেজে ওঠে গাড়ি। হাতে করে বই নিতে তোমার কষ্ট হয় না বুঝি? তাছাড়া তোমার বইগুলোতে কোনো মলাট নেই। কলমের আঁকাআঁকি বইয়ের কোথাও কোথাও আবার ছেঁড়া। তবে তোমার চুলের লাল ফিতাটা না খুব মানিয়েছে তোমায়। ঠিক আমার পাখার রঙের মতো। কে কিনে দিলো চুলের ফিতা?
তনু ঘাড় ঘুরিয়ে উত্তর দেয়- কেন, আমার বাবা কিনে দিয়েছে। আমার বাবা সারাদিন মাঠে কাজ করে। গরু দিয়ে জমিতে হালচাষ করে। আমার মা দুপুরবেলা মাটির বাসনে করে বাবার জন্য ভাত নিয়ে যায়। আচ্ছা, মাটির বাসন চেন তুমি? তোমাকে একদিন আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাব। মাকে বলে রাখবো তোমার জন্য তালের পিঠা বানিয়ে রাখতে। তালের পিঠা খেতে খুব মজা।
খুব মজা, ঘ্রাণটা তোমার খুব ভালো লাগবে। এবার বলো তো, সকালবেলা আমার সাথে ইশকুলের পথ ধরে যেতে তোমার কেমন লাগে? আমার স্কুল দেখেছ তুমি? স্কুলে একটা পতাকা আছে। বাতাসে দোল খেতে খেতে পতাকাটি ওড়ে। লাল-সবুজ পতাকা। তুমি দেখলে প্রায় দিনই পতাকার পাশে উড়ে বেড়াবে। আর তোমাকে উড়তে দেখলে আমি আর আমার বান্ধবী শিউলি খুব মজা পাবো। তোমাকে ওর খুব ভালো লাগবে।
তনুর কথা শুনে ফড়িঙ ঝিরিং ঝিরিং নেচে উঠে বললো, তাই নাকি? তাহলে আমি তোমার বান্ধবী শিউলির সঙ্গে পরিচিত হবো। জানো, আমার না খুব ইচ্ছে জাগে তোমাদের সাথে পড়ালেখা করতে। কবিতা আবৃত্তি করতে। সুন্দর করে উচ্চারণ করে পড়তে। শোনাও না তনু একটি কবিতা।
তনু আবৃত্তি করে-

‘‘একটি ফড়িঙ গঙ্গা ফড়িঙ সবুজ গায়ের রঙ
দেখলে চোখে ঝিলিক লাগে আজগুবি তার ঢঙ।
ঝিরিং ঝিরিং আওয়াজ করে তিরতিরানো সুর
এই বুঝি এই উড়োজাহাজ চলছে অচিনপুর।
চারটি ডানা ঘাসের মতো ছয়টি যে তার পা
বন বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায় আয় না দেখে যা।”

বাহ তনু বাহ! খুব সুন্দর হয়েছে। তোমার আবৃত্তি আমার খুব ভালো লেগেছে। তোমাদের বইয়ের কবিতাটি যিনি লিখেছেন তিনি খুব ভালো লিখেছেন।
হ্যাঁ ফড়িং। গল্প করতে করতে তুমি তো আমার স্কুলের কাছেই চলে এসেছো। এবার আমি যাই তাহলে। তুমি ইচ্ছে করলে থাকতে পারো। ওই যে দেখ। কী সুন্দর মোরগ ফুল ফুটে আছে। তুমি চাইলে সেখানে গিয়ে উড়ে বেড়াতে পারো। আমার স্কুল ছুটি হলে তোমাকে ডাকবো। আমার বান্ধবীদের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেব।

তনুর কথামতো লাল ফড়িং বাগানের দিকে উড়ে যায়। তনু পা বাড়ায় ক্লাশের দিকে। এরই মধ্যে পার হয়ে গেল দুই ঘণ্টা। তনুর ফেরার নাম নেই। তনুকে ফিরতে না দেখে ফড়িঙের মন খারাপ হয়ে যায়। সে ভাবে, তনুর ক্লাশে গিয়ে ঢুঁ মেরে আসলে কেমন হয়?
যেই ভাবা সেই কাজ। সে বাগান থেকে ক্লাশের দিকে উড়াল দেয়। ক্লাশে ঢুকতেই দেখে খালেদা ম্যাডাম নামতা পড়াচ্ছেন- ১০ x ১ = ১০…
লাল ফড়িঙ জানালার লোহার শিকের উপর বসলো। তনুদের সঙ্গে সেও সুর করে নামতা পড়তে লাগলো। ক্লাশের কেউ ফড়িঙটাকে না দেখলেও তনু ঠিকই দেখে ফেললো। চোখে চোখ পড়তেই ফড়িঙটি তিড়িং করে নেচে উঠলো। ফড়িঙটাকে নাচতে দেখে কী যে ভালো লাগলো তনুর! তনু ভাবছে, ফড়িঙদেরও যদি এমন স্কুল থাকতো। তাহলে কী মজাই না হতো।

প্রকাশকাল- মার্চ ২০২৬