বনের ভেতরে প্রকাণ্ড গাছের নিচে একটা হাতি ঘুমুচ্ছিলো। সেখান দিয়ে তিড়িং বিড়িং করে একটা খরগোশ ছুটছিলো। হঠাৎ হাতির সাথে খরগোশের ধাক্কা লাগে। এতে হাতির ঘুম ভেঙে যায়।
হাতি ভীষণ রেগে গিয়ে বলে, ‘এতো বড় সাহস। তুই আমার শুঁড় ধরে টেনেছিস। আমি এখন তোকে শুঁড়ে পেঁচিয়ে মারব। শুধু তোকে একলা না, বনের সবক’টা খরগোশকে ধরব। ভেবেছিস কী তুই?’
খরগোশ এ কথা শুনে ভয়ে থরথরিয়ে কাঁপছে। সে কতো ছোট। হাতি কতো বড়। খরগোশ হলো তুলতুলে। হাতি হলো থলথলে।
ছোট খরগোশ সাথে সাথে ভাবল, গায়ের জোরে সে হাতির হাত থেকে বাঁচতে পারবে না। তাকে বাঁচতে হবে বুদ্ধি খাটিয়ে।
খরগোশ তখন পেটুক হাতিটাকে লোভ দেখালো।
– ‘আমি একটা বিরাট কলাবাগানের খবর জানি।’
হাতি কুতকুতে চোখে জানতে চায়, ‘সেটা কোথায়?’
খরগোশ পিটপিট করে বলে, ‘পাহাড় পেরিয়ে সেখানে যেতে হবে। তার জন্যে আমি দড়ির মই নিয়ে আসব। তুমি ওটায় করে নেমে যেতে পারবে। আমি সাতদিন পর মই নিয়ে আসছি।’
হাতি খুশি হয়ে বলে, ‘জলদি যা। মই আন। আমি কলাবাগানে যাব। সেখানে কাঁদি কাঁদি কলা খেয়ে আমার মস্ত পেটটা ভরাব।’
হাতির কবল থেকে ছাড়া পেয়ে খরগোশ ফিরে গেল বাবা-মায়ের কাছে। সেখানে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। কান্না শুনে অন্য খরগোশরাও এসে জড়ো হলো। খরগোশের দল সমস্বরে বলে, ‘তুমি কাঁদছ কেন?’
খরগোশ তখন হাতির বলা কথাটি বলল।
সকল খরগোশ হাতির কথা শুনে আঁতকে ওঠে।
রাগী হাতিটা তো এবার তাদের সবাইকে মেরে ফেলবে।
খরগোশ বলল, ‘আমার মাথায় এক বুদ্ধি এসেছে। হাতিটাকে ওই পাহাড়ের গভীর গর্তে নিয়ে ফেলতে হবে।’
বাকি খরগোশেরা অবাক হয়ে জানতে চায়, ‘তা কী করে সম্ভব?’
খরগোশ বলল, ‘একটা খুব শক্ত আর লম্বা দড়ি দিয়ে হাতিটাকে বাঁধতে হবে। তারপর তাকে সবাই মিলে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাব।’
বাকি খরগোশেরা বলল, ‘ওই রকম দড়ি আমরা পাবো কোথায়?’
খরগোশ জানাল, ‘আমাদের সবাইকে মিলে ওইরকম দড়ি বানাতে হবে। দড়ি তৈরি হবে বুনোপাটের আঁশ দিয়ে।’
খরগোশেরা হাতির হাত থেকে বাঁচতে চায়। তাই সবাই মিলে একজোট হয়ে দড়ি পাকাতে শুরু করল। তাদের খুব উৎসাহ। মিলেমিশে কাজ করছে। একে অন্যকে সাহায্য করছে। ওরা সবাই বুঝতে পেরেছে যে, বিপদের সময় এক থাকতে হয়।
২.
সাতদিন পর হাতিটা খরগোশের জন্য পথের দিকে তাকিয়ে আছে।
খরগোশ এলো দড়ির বোঝা নিয়ে।
হাতি জানতে চায়, ‘এসব কী এনেছিস?’
খরগোশ বলে, ‘কলাবাগানে যাওয়ার পথ তো খুব কঠিন। সে জন্যে তোমাকে পাহাড়ে উঠতে হবে। তবে আমি তোমাকে সেখানে নিয়ে যাবোই। তোমাকে দড়ির মই বেয়ে নামতে হবে। তাই তোমার শরীরে আমরা দড়ির জাল পরিয়ে দেবো। আর ওই দড়ির মই বেয়ে নেমে যেতে তোমার খুব সুবিধে হবে। একেবারে তরতরিয়ে নেমে সোজা চলে যাবে কলাবাগানে। সেখানে ঝুলছে অনেক কলার কাঁদি, আর সারি সারি কলাগাছ তো আছেই।’
লোভী আর বোকা হাতির তর সইছে না। সে আঁকুপাঁকু করে বলে, ‘জলদি কর। এখুনি চল।’
৩.
খরগোশেরা সবাই মিলে তাকে দড়ি দিয়ে খুব শক্ত করে বাঁধল। তারপর হাতি উঠতে লাগল পাহাড়ে। হাতি এখন যাবে কলাবাগানে। খরগোশেরা একসাথে হেঁইয়ো, হেঁইয়ো বলে টান দিলো আর চেঁচাতে লাগল,
দড়ি ধরে মারো টান।
হাতির সাধ খান খান।
খরগোশের দল হাতিটাকে টানতে টানতে নিয়ে চলল। পাহাড়ি পথে চলতে চলতে একসময় হাতিটা গড়িয়ে পড়ল নিচের গভীর খাদে। সে খাদ থেকে হাতিটা আর কখনো উঠতে পারল না। খরগোশরা বিপদের মুখে সবাই মিলে এক হয়েছিল। একে অন্যকে সাহায্য করেছিল। তাই বুনোপাটের আঁশ দিয়ে অমন লম্বা আর শক্ত দড়ি বানাতে পেরেছিল। সেই দড়ির জন্যই সেবার হাতির হাত থেকে তারা বাঁচতে পেরেছিল।
প্রকাশকাল: এপ্রিল ২০২৫



