ধার নিতে নেই

0
2

২০০৩। নিশি তখন ক্লাস থ্রিতে পড়ে। টিকটিকি ও কুমির যে প্রায় একই পরিবারের সদস্য তা নিশির বোঝা শেষ। সেটা প্রমাণিত হলেই পরের শ্রেণিতে উঠবে। বাবার উপহার দেয়া ডেস্কটপ কম্পিউটার নিয়ে ‘গরু-খোঁজা’র যেন তার অন্ত নেই। প্রতিবেশী বড় ভাই রিমনের সাথে পড়ন্ত বিকেলে দেখা ‘ভাইয়া, এটা কী? এটা দিয়ে USB tether ছাড়া আর কিছু হয়?’
‘নবাব, আমিতো এই ডাটা ক্যাবল দিয়ে শুধু বন্ধুদের থেকে নাটক, মুভি ও পিডিএফ বই বা নোট নিয়ে থাকি। সে যাই হোক, ঘুম থেকে দেরি করে ওঠা অভ্যাসটা সমূলে উৎপাটন করতে পেরেছো, নিশি?’
‘জি, ভাইয়া। আমায় এটা ধার দেয়া যাবে একদিনের জন্য? কিছু ফাইল ট্রান্সফার দ্রুত করতে আরকি?

দুইদিন পর বিকেলে…
নিশির বাবা তখন একটা কাজ নিয়ে নিজ বাসার ড্রয়িং রুমে কার সাথে যেনো মিটিংয়ে ব্যস্ত, মা বাড়িতে নেই। নিশির মন পড়ে রয়েছে পড়ার টেবিলে ঠিক তখন বেজে উঠলো কলিং বেল রিং! রিং!
– নিশি! এগুলো ছেঁড়া ক্যান?
– অ্যা… এটা আগে থেকেই… ছেঁড়া ছিলো না?
ড্রয়িং রুমে উপস্থিত চার ব্যক্তি কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ।
নিশির বাবা তাকে উত্তম-মাধ্যম দিতে লাগলে রিমন বাঁধা দিয়ে বলে, ‘আরে! কী করছেন?’
– এটা রেখে যান। (ক্যাবলের দিকে ইঙ্গিত করে) আপনাকে নতুন একটি কিনে দিবো আমরা।

এরপর নিশি আর কখনো কোনো প্রকার ধার না নেবার প্রতিশ্রুতি নেয়। প্রশ্ন হচ্ছে, নিশি কী আসলেই সরল ছিলো ও তারটি আগে থেকে ছেঁড়া ছিলো নাকি তার গাফলতি বা অজ্ঞতার কারণে সে ছিঁড়ে ফেলে? আর যদি তা ছেঁড়া থেকেই থাকে আগে থেকে, সেটা ব্যবহার বা ধার থেকে বিরত থাকা উচিত ছিলো তার? পাঠকের উত্তর যাই হোক, হয়তো আসলেই ধার নিতে নেই যদি সামর্থ থাকে।
মানতেই হবে ও মনে রাখতেই হবে- দাতার হাত উপরে, গ্রহীতার নিচে ।

প্রকাশকাল: জুলাই ২০২৬