ডিজিটাল সিটিজেনশিপ

0
2

প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা কি কখনো ভেবেছো, আমরা শুধু স্কুল, বাসা বা মাঠের নাগরিক নই। আমরা এখন ডিজিটাল জগতেরও নাগরিক। যেই জগতে আমরা মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার ব্যবহার করি, ইন্টারনেটে ঘুরি, ভিডিও দেখি, গেমস খেলি, বন্ধুদের সাথে চ্যাট করার পাশাপাশি মাঝে মাঝে ক্লাসও করি। আমাদের বাস্তব দুনিয়ার সিটিজেনশিপের মতো ডিজিটাল সিটিজেনশিপেও আমাদের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। এই ডিজিটাল দুনিয়ায় ভালোভাবে থাকতে হলে আমাদের দরকার ডিজিটাল সিটিজেনশিপ সম্পর্কে ধারণা। চলো, শুরুতেই জেনে নেই ডিজিটাল সিটিজেনশিপ বলতে কী বোঝায়?
যদি সহজভাবে বলি, যেমন আমরা স্কুলে নিয়ম মেনে চলি, কাউকে কষ্ট দিই না, সবার সাথে ভালো ব্যবহার করি, তেমনই অনলাইনের এই ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাদের ডিজিটাল সিটিজেনশিপেরও কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলা দরকার। যাতে আমরা গুড ডিজিটাল সিটিজেন বা ভালো ডিজিটাল নাগরিক হয়ে উঠতে পারি।
ভদ্রভাবে কথা বলা যেমন বাস্তব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ডিজিটাল দুনিয়ায়ও ভদ্রভাবে কথা বলা দরকার। তোমার নাম, ঠিকানা, স্কুলের নাম, ফোন নম্বর এসব ব্যক্তিগত তথ্য অপরিচিত কাউকে দেয়া বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই, কোনোভাবেই ব্যক্তিগত কোনো তথ্য অনলাইনে পরিচিত হওয়া কারো সাথে শেয়ার করবে না। ইদানিং অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে ভুল তথ্য খুব দ্রুততম সময়েই ছড়িয়ে পড়ে। আর তাই যে কোনো তথ্য পেতে চাইলে বিশ্বস্ত মাধ্যম ব্যবহার করো। অথবা কোনো তথ্য পেলে সেটি যাচাই করো। প্রয়োজনে বড়োদের সহায়তা নিতে পারো। বন্ধুদের সাথে কোনো ছবি, ভিডিও থাকলে সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার ক্ষেত্রে তোমার সেই বন্ধুর অনুমতি নাও। এমনও তো হতে পারে তোমার সেই বন্ধু চায় না তার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ুক, আর তাই অনুমতি নেয়া প্রয়োজন। ইন্টারনেটের জগতে একবার প্রবেশ করলে সময় কীভাবে জানি পার হয়েই যায়, আর তাই সময় ব্যবস্থাপনা শেখা ও তা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুক বা এর মতো কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় যখন তোমার মনে হবে মাত্র ৫ মিনিট ব্যবহার করেই বের হয়ে যাবো তখন দেখবে তোমার সেই ৫ মিনিট কিন্তু বাস্তবে ৩০ মিনিট কিছু ক্ষেত্রে ১ ঘণ্টাও হয়ে যেতে পারে। যার ফলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় অবশ্যই সময় ব্যবস্থাপনার দিকে খেয়াল রাখবে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় তুমি শুধু ব্যবহারকারীই নও; বরং তুমি হয়তো খেয়াল করেছো, তোমার সিদ্ধান্ত, তোমার করা একটি পোস্ট বা তোমার ইন্টারনেটের ব্যবহার দিয়েই কিন্তু এই ডিজিটাল দুনিয়া তৈরি হয়। যার ফলে তুমি এমন একজন ডিজিটাল সিটিজেন হতে চেষ্টা করবে যাতে সবাই তোমায় বিশ্বাস করে, যেন তুমি অন্যদেরও নিরাপদে থাকতে সাহায্য করতে পারো। আমরা অনেক সময় ডিজিটাল দুনিয়ায় অন্যকে বুলিং করে থাকি। যাকে সাইবার বুলিং বলা হয়ে থাকে। এই সাইবার বুলিং যেমন একজন গুড ডিজিটাল সিটিজেনের বৈশিষ্ট্য নয় তেমনি এটি একটি অপরাধও বটে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় তোমার নেয়া ছোট্ট একটা ভালো সিদ্ধান্ত, একটা ভালো ব্যবহার বা একটা বন্ধুকে সাহায্য করার মাধ্যমে তুমি আমি আমরা মিলে গড়ে তুলতে পারি একটি সুস্থ ও সুন্দর ডিজিটাল দুনিয়া। আজ তাহলে এ পর্যন্তই, আর হ্যাঁ, তোমার ডিজিটাল দুনিয়ায় আমাকে বন্ধু বানাতে ভুলো না কিন্তু।

প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৫