ইনডোরে গাছ ঘরের সৌন্দর্য ও অক্সিজেন বাড়ায়

0
0

পৌষ মাস এলেই শীত জাঁকিয়ে বসে। ফাহিম খেয়াল করল তাদের বারান্দার কয়েকটি গাছ বেশ বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত সে পানি দেয়। কিন্তু বর্ষার মতো তরতাজা হয়ে উঠছে না গাছগুলো। বেশ ধুলো জমে আছে। স্প্রে গান দিয়ে পানি দিলো সে। পাতা থেকে শুকনো ধুলাবালি ঝরে গিয়ে বেশ চক চক করছে পাতা। প্রতিবেশী শরীফ চাচা কাল বলছিলেন, বাড়িতে অক্সিজেনের জোগান বাড়াতে গাছের নাকি কোনো বিকল্প নেই। তবে গাছ লাগাতে হবে মানানসই। গরমের সময় বাড়ি ঠান্ডা রাখতে গাছ লাগান হয় এক ধরনের। শীতল পরশের পাশাপাশি অক্সিজেনের জোগান বাড়াতে লাগানো হয় এসব গাছ। এগুলোকে বলে ইনডোর প্ল্যান্ট। এই ইনডোর প্লান্ট ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। যেসব গাছ ঘরে রাখলে বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয় না, মূলত সেগুলো ইনডোর প্লান্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই গাছগুলো কেবল ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না বরং স্বাস্থ্যের জন্যেও ভালো।
জেনে রাখা ভালো কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট বরং স্বল্প আলো ও ছায়া বেশি পছন্দ করে। কোথায় রাখবে এসব গাছ? দেখতে সুন্দর লাগবে এমন স্থান বাছাই করতে হবে। এবার বলছি এসব গাছের কথা।

মানি প্লান্ট
মানি প্লান্ট খুবই পরিচিত একটি গাছ। এটি ইনডোরে ভালো হয়। মাটিতে বা পানিতেও হয়। এটির আদি নিবাস ফরাসি পলিনেশিয়ার দ্বীপপুঞ্জের মো’ওরিয়া নামক দ্বীপে। প্রজাতিটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে জনপ্রিয় অন্দরমহলের গাছপালার বা ইনডোর প্লান্টের অন্যতম। কিন্তু উত্তর দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া,

দক্ষিণ এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বিশ্বের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। আমাদের দেশেও রমনা পার্ক বা বিভিন্ন পার্কে বিশালাকার মানি প্লান্ট দেখা যায়, যা অন্য একটি গাছ বেয়ে উঠেছে। মানিপ্ল্যান্ট গাছ ঘরের দূষিত গ্যাস বেঞ্জিন, ফর্মাল ডিহাইড, ইথিলিনের মাত্রা অনেকটাই হ্রাস করে।

কাস্ট আয়রন প্ল্যান্ট
কম যত্ন ও স্বল্প আলোতে ভালো থাকে কাস্ট আয়রন প্ল্যান্ট। এটি সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তাই অফিস বা বাড়ির ছায়াযুক্ত স্থানে বা বাথরুমে এটি রাখা যেতে পারে।

স্পাইডার প্ল্যান্ট
অন্ধকার ও স্বল্প আলোর জন্য উপযোগী আরেকটি প্ল্যান্ট হলো স্পাইডার প্ল্যান্ট। এই প্রজাতির গাছ বেশ সহনশীল হওয়ায় ঘরের উজ্জ্বল আলোতে কিংবা অন্ধকার কোণে উভয় জায়গাতেই বেশ মানিয়ে নিতে পারে। যত্নের কথা বলতে গেলে, সপ্তাহে একবার ভালো মানের ছাঁটাই কাঁচি ব্যবহার করে ছাঁটাই করলে ও পানি দিলেই হয়ে যায়। এটি মোটামুটি শক্ত প্রজাতির উদ্ভিদ, তবে এটি কীভাবে যত্ন করতে হয় সে সম্পর্কে কিছুটা ধারণা রাখতে হবে।

ইংলিশ আইভি
ইংলিশ আইভি সৌন্দর্যবর্ধক ও শক্ত প্রজাতির উদ্ভিদ। এটি সুযোগ পেলেই লতাপাতা মেলে এদিক সেদিক বেয়ে যায়। দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় ছোট কাটিং দিলেই এটি বাড়তে থাকে। তবে এটি এমন পাত্রে রাখতে হবে যেখান থেকে সহজে ছাঁটাই করা যাবে। ইংলিশ আইভি উজ্জ্বল ও পরোক্ষ সূর্যালোক পছন্দ করে, তবে এটি কম আলোতেও বড় হতে পারে।

লাকি ব্যাম্বো
লাকি ব্যাম্বো সৌন্দর্যবর্ধনকারী উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অন্যতম। এটি দেখতে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ছোট সংস্করণের মতো হওয়ায় নাম দেওয়া হয়েছে লাকি ব্যাম্বো। তবে এটি আসলে এক ধরনের ওয়াটার লিলি প্রজাতির উদ্ভিদ যা ড্রাকেনা স্যান্ডেরিয়ানা নামে পরিচিত। এটি অনেক শক্ত ধরনের। এটি কম আলোতে বড় হয় এবং মাটিতে বা সরাসরি পানিতেও লাগানো যায়।
পিস লিলি
কম রক্ষণাবেক্ষণ ও সূর্যালোকের অভাবেও সৌন্দর্য ছড়াতে পারে এটি। তবে ফুল পেতে চাইলে উজ্জ্বল, পরোক্ষ আলোর প্রয়োজন পড়বে পিস লিলির। যত্নের ক্ষেত্রে নিয়মিত পানি, আর্দ্র মাটি রাখা বাঞ্ছনীয়। পাতা মুছে রাখতে পারলে ভালো হবে, এটি শুধুমাত্র উদ্ভিদ সুন্দরই রাখে না, আলো শোষণ করতেও সহায়তা করে।

 

ড্রাকেনা/ ড্রাসিনা
এটিকে মূলত বিভিন্ন উপকারের জন্য ঘরোয়া উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ছায়াপ্রবণ স্থানের জন্য বৃহত্তর জাতের উদ্ভিদ হিসেবে ড্রাকেনা/ড্রাসেনা রাখা যেতে পারে। এই গাছের যত্ন নেওয়া বেশ সহজ। এটি ছোট আকার থেকে বড় গাছের মতো হয়ে থাকে। অন্যান্য গাছের তুলনায় কম পানির প্রয়োজন হয়।

স্নেক প্ল্যান্ট
গাছটি বাতাসের টক্সিন শুষে নেয়। বাতাসের ক্ষতিকারক উপাদান শোষণ করে গাছটি। রাতেও অক্সিজেন সরবরাহ করে এই গাছ।

আরেকা পাম
ঘরের মধ্যে অক্সিজেন পরিমাণ বাড়াতে পারে। দেখতে বেত গাছের মতো। ঘরে বেশ সুন্দর লাগে।

জারবেরা ডেইজি
এটি রঙিন ফুলের গাছ। দেখতে ভারি সুন্দর। এটি বায়ুবাহিত দূষণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা টবে অযত্নে বেড়ে ওঠে। তবে এই গাছ খুব কাজের। বাজারে বিক্রি হয় এর ডাল। এগুলো সাজসজ্জায় কাজে লাগে। এই গাছ বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে।

তুলসী
তুলসীর গুণের শেষ নেই। এটি বারান্দায় ছাদে প্রচুর পরিমাণে হয়। শীতে কাশি থেকে রক্ষা পেতে তুলসীর জুড়ি নেই। তুলসী কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস শোষণ করে।

প্রকাশকাল: জানুয়ারি ২০২৫