একটা স্বাধীনতার জন্য

প্রতিটি মানুষ চায় স্বাধীনতা। স্বাধীনভাবে মানুষ বেঁচে থাকতে চায়। স্বাধীনভাবে মর্যাদার সাথে পরিচালিত হতে চায়। তাইতো স্বাধীনতা সবার কাছে অনেক প্রিয়। স্বাধীনতা ছাড়া কেউ বেঁচে থাকতে পারে না। কোনো মানুষ পরাধীন থাকতে চায় না। জীবন বাজি রেখে এগিয়ে আসতে চায় প্রতিটি মানুষ। সবার প্রত্যাশা শুধু একটু স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতার জন্যই জীবন বিলিয়ে দেয় মানুষ। সহ্য করে অনেক দুঃখ কষ্ট। তারপর অনেক ত্যাগ আর প্রতীক্ষার পর আসে স্বাধীনতা। মুক্ত হয় দেশ। পৃথিবীতে যত দেশ স্বাধীন হয়েছে তার বিনিময়ে দিতে হয়েছে অনেক রক্ত। যেমন ধরো আমাদের দেশের নতুন স্বাধীনতা। এজন্যও তো দিতে হয়েছে রক্ত। তোমাদের মতো কত ছোট বন্ধুরা, রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে।
স্বাধীনতার ইতিহাস যেমন করুণ, তেমনি সংগ্রাম মুখরও। দেশের সকল স্বাধীনতাপাগল মানুষকে এ কাজে এগিয়ে আসতে হয়। এ কাজে কাউকে পিছিয়ে থাকলে চলে না। তাইতো কবিরা লিখেন-

বিজয় দিবস বিজয় দিবস
স্বাধীন আকাশ আনো
স্বাধীনতা সুখের খবর
তুমিই কেবল জানো।

স্বাধীনতা আনা অনেক কঠিন কাজ। আবার এ কাজ করা বা স্বাধীনতা আনা যত কঠিন তা টিকিয়ে রাখাও অনেক কঠিন। স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার দায়িত্বও সকলের। মানুষ যখন স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্ব ভুলে যায় তখন সে দেশ স্বাধীনতা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে না।
স্বাধীনতা যেমন আনন্দের তেমনি শপথের। এ আনন্দ যুদ্ধজয়ের আনন্দ। এর শপথ হলো স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার শপথ। কিন্তু আমরা কি সে শপথ রক্ষা করতে পেরেছি?

স্বাধীনতা স্বাধীনতা এই তো দেশের মান
বহু প্রাণের বিনিময়ে জুড়ায় যে পরান।
স্বাধীনতার রক্তে রাঙা প্রিয় একটি নাম
স্বাধীনতা ন্যায়ের পথে দেশজাতির সম্মান।

আমরাও একসময় পরাধীন ছিলাম, বন্দি ছিলাম। এজন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। যাকে আমরা বলি মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস লড়াই করে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমরা বিজয় লাভ করি। এজন্য আমরা আনন্দিত, গর্বিত। আমরা এতে অর্জন করি একটি স্বাধীন দেশ। অর্জন করি একটি লাল সবুজের পতাকা। গড়ে ওঠে একটি স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ।
এতো রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশ রক্ষা করতে হলে আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। অন্যের জন্য ভাবতে হয়। অন্যের সেবা করতে হয়। তোমার ভাইয়ের প্রয়োজনটা মিটিয়ে তারপর নিজের কথা ভাবতে হবে। কিন্তু আমরা কি তা পেরেছি? না পারিনি। এজন্যই তো জুলাই বিপ্লবে নতুন করে দেশ স্বাধীন করতে হয়েছে। কত শত শত মানুষ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আনাসের মতো শিশুকিশোরদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে নতুন করে দেশ স্বাধীন করতে হয়েছে। আমরা বিজয় পেয়েছি, নতুন বিজয়।

এ বিজয় আমাদের স্বপ্নের বিজয়। বিজয় লাভ করেছি বলে আজ আমরা দুনিয়ার বুকে স্বাধীন জাতি। মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছি। আমরা বলতে পারছি আমাদের দেশ ছোট, কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা অনেক বড়। কারণ এই ছোট্ট জাতিটার ভাষা বাংলাই তো আন্তর্জাতিক ভাষার মর্যাদা লাভ করেছে। এজন্য আমরা আনন্দিত, গর্বিত। এখন আমাদের আর পেছনে পড়ে থাকার সময় নেই। সময় এসেছে দায়িত্ব পালনের। স্বার্থপরতা, স্বেচ্ছাচারিতা ও লোভ লালসার আর সময় নেই। শৃঙ্খলার সাথে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। জাগিয়ে তুলতে হবে আত্মমর্যাদাবোধ। জাতির ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং প্রত্যয় এর আলোকে গড়ে তুলতে হবে নিজেদের।

সব আকাশে বিলিয়ে দিই আজ
স্বাধীনতার গান
বিজয় গানে মুখরিত
স্বপ্ন ভরা প্রাণ।

প্রকাশকাল: মার্চ ২০২৫