কী? ফটোতে পাঁচটি রিং দেখেই নিশ্চয় বুঝে গেছো যে আজ কী নিয়ে গল্প করবো তোমাদের সাথে! হ্যাঁ। আজ কথা হবে অলিম্পিক নিয়ে।
অলিম্পিক গেমসের সাথে বর্তমানে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। তবে এই গেমসের রয়েছে এক প্রাচীন ইতিহাস! সেটা হয়তো আমরা সবাই জানি না। তাহলে চলো, অল্প কথায় হয়ে যাক কিছু গল্প!
অলিম্পিক গেমসের শুরুটা কিন্তু খ্রিষ্টপূর্ব ৭৭৬ অব্দে (B.C.) প্রাচীন গ্রিসের অলিম্পিয়াতে। এটি মূলত দেবতাদের সম্মানে বিভিন্ন নগর ও রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ রাখার উদ্দেশ্যে আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। যা প্রতি ৪ বছর অন্তর আয়োজন করা হতো। প্রধান প্রধান খেলা ছিলো কুস্তি, বক্সিং, দৌড়ের মতো জনপ্রিয় খেলা। কিন্তু ৩৯৪ খ্রিস্টব্দে (A.D.) তৎকালীন রোমান সম্রাট থেওডোসিয়াস এটি বন্ধ করে দেন পৌত্তলিকতার জন্য।
অতঃপর, দীর্ঘ সময় পরে ১৮৯৬ সালে এথেন্সে আধুনিক অলিম্পিক গেমসের শুরু।
অলিম্পিক গেমসের যেমন রয়েছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঘটনা, তেমনই এর রয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা।
অলিম্পিক গেমসের বদৌলতে পৃথিবী পরিচিত হয়েছে এমন কিছু ব্যক্তিদের সাথে, যারা তাদের উচ্চতা নিয়ে গেছে সুউচ্চ স্থানে।
মাইকেল ফেল্পস
এমন একটি নাম, যাকে হয়তো তোমরাই আমার থেকে বেশি জানো। ফেল্পস নিজেকে অলিম্পিক গেমসে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে, তাকে ‘Olympic Legend’ বলা হয়। সর্বকালের সর্বোচ্চ পদক জয়ী সাতারু তিনি। সর্বাধিক ২৩টি স্বর্ণপদক রয়েছে তার। একই আসরে ৮টি পদক জয়, ০.০১ সেকেন্ডে নাটকীয় জয়ের মুহূর্ত, বিশ্বসেরা হয়ে অবসরে যাওয়া, আবার অবসর ভেঙে ফিরে এসে পুনরায় বিশ্বসেরা হয়ে তিনি বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখানোর মাধ্যমে দৃঢ় মনোবলের উদাহরণ তৈরি করেন।
উসাইন বোল্ট
বিশ্বের দ্রুততম মানব। জ্যামাইকান এক কৃষ্ণাঙ্গ, যে কিনা নিজের প্রথম অলিম্পিকেই ১০০, ২০০ এবং ৪০০ মিটারে স্বর্ণ জয় করেন। পরবর্তী আসরগুলোতেও তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় বিভোর থাকতেন।
উসাইনের মাত্র ৯.৫৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার এবং ১৯.১৯ সেকেন্ডে ২০০ মিটার স্প্রিন্টের রেকর্ড আজও অলিম্পিকে অটুট।
এমন জনপ্রিয় নামের আড়ালেও রয়েছে অলিম্পিকের কিছু অন্যরকম শিহরণ জাগানিয়া মুহূর্ত!
অ্যাবেব বিকিলা
১৯৬০ এর রোম অলিম্পিক। ইথিওপিয়ান এক সৈনিক, যে কি না ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেছিল।
তো দৌড় শুরু হওয়ার আগে তাকে যে জুতোজোড়া দেয়া হয়, সেটা তার পায়ে ঠিকঠাক সেট হচ্ছিলো না। তাই তিনি জুতো ছাড়াই দৌড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন!
রোমের পাথর মোড়ানো রাস্তা ও অন্ধকার মাড়িয়ে অবিশ্বাস্য গতিতে তিনি জিতে যান। শুধু জিতে যান বললে ভুল হবে। বিশ্ব রেকর্ড গড়েন!
তিনি বলেন, “আমি চাই বিশ্ব জানুক, আমার দেশ ইথিওপিয়া সাহস ও শক্তির মাধ্যমে জিতেছে।”
ডেরেক রেডমন্ড
বার্সেলোনা অলিম্পিক। ১৯৯২ সাল। বৃটিশ স্প্রিন্টার ডেরেক রেডমন্ড ৪০০ মিটার দৌড়ের জন্য প্রস্তুত। সেমিফাইনাল হওয়ার দরুণ তিনি ব্যাপক সিরিয়াস। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস।
দৌড় শুরু করতে না করতেই পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ট্র্যাকে আছড়ে পড়েন। ব্যাথায় কুঁচকে যাওয়া মুখে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটতে চাইলেন, কিন্তু পারলেন না। দর্শকেরা হাল ছেড়ে দিলেও ডেরেকের হাত ধরলেন তার বাবা। ছেলের কষ্টে তিনি গ্যালারি থেকে নেমে আসেন।
বাবার কাঁধে ভর দিয়ে বাকিটা শেষ করেন ডেরেক। ফিনিশিং লাইন পার করতেই পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে করতালি দেয়। ডেরেক প্রমাণ করে দেয় যে, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়াই প্রকৃত লড়াই।
অলিম্পিকে ইতিহাস ঘাঁটলে এমন ঘটনার অভাব হয়তো হবে না। চাইলেই আমরা হতে পারি অনুপ্রাণিত। আজকের মতো তাহলে এখানেই বিদায়!
প্রকাশকাল- এপ্রিল ২০২৬



