সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী আমাদের মেয়েরা

0
174
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী আমাদের মেয়েরা

সম্প্রতি নেপালে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৪। এরই মাধ্যমে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ৭টি আসরের মধ্যে টানা দ্বিতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। ২০২২ সালে স্বাগতিক নেপালকে হারিয়েই বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ছিনিয়ে এনেছিল। আবারও সেই একই প্রতিপক্ষ এবং একই ভেন্যুতে সাবিনা খাতুনের দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতলো। নেপালের দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে সাফের ফাইনালে তারা নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে অর্জন করে নেয় শিরোপা।

ফাইনাল ম্যাচের বিবরণী:
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ-নেপালের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। সোনার হরিণ গোলের জন্য মরিয়া দুই দলই বিরতির পর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ দারুণভাবে জমিয়ে তোলে। সে ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৫১তম মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে লিড নেন মনিকা চাকমা। ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার এ গর্ব টিকে ছিল কেবল ৩ মিনিট। নেপালের হয়ে আমিশা কার্কির গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকেরা। মধ্যমাঠ থেকে দারুণ থ্রু পাস ঠেলেন সতীর্থ আমিশাকে। সেখানে বাংলাদেশের ডিফেন্স পরাস্ত হয়। আগুয়ান গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে পরাস্ত করেন আমিশা। ফলে ১-১ সমতা নিয়ে জমে ওঠে সাফের ফাইনাল। স্বাগতিক প্রায় ১৫ হাজার দর্শকের উচ্ছ্বাস সেই রোমাঞ্চ যেন আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। ৭১ ও ৭৬ মিনিটে পরপর দুটি প্রতি-আক্রমণে ব্যর্থতা নিয়ে ফেরে নেপালি মেয়েরা।

১-১ গোলে সমতায় থাকাবস্থায় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে যখন   ফাইনাল ম্যাচ জমে উঠেছিল, ঠিক তখনই ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ৮মিনিট আগে বাংলাদেশ ম্যাচে আবারও লিড নেয়। বাঁ প্রান্তে থ্রো ইন পায় বাংলাদেশ। মাসুরার থ্রো থেকে বল পান ঋতুপর্ণা চাকমা। দূর থেকে কোণাকুণি এক জোরালো শটে ঋতুপর্ণা গোল করে এগিয়ে নেন বাংলাদেশকে। নেপালের গোলরক্ষক বল হাতে লাগালেও সেটি সেকেন্ড বারের ভেতরের অংশে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। দারুণ গোল পেয়ে উৎসবে মাতে বাংলাদেশ।
বাকি সময়ে আর কেউ গোল করতে পারেনি। ফলে ২-১ গোলের অসাধারণ জয়ে টানা ২য় বার সাফ শিরোপা জিতে নিল বাংলাদেশ।
একই ভেন্যু, একই প্রতিপক্ষ। পার্থক্য শুধু স্কোরলাইনে। ২০২২ সালে বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শিরোপা জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে, আর এবার ২-১। দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিরোপা ধরে রাখার অতীত রেকর্ড নেই। ২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশের পুরুষ দল আর শিরোপা জিততে পারেনি। নারী দল সেই দিক থেকে রেকর্ডই করল। টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সাবিনা, ঋতুপর্ণা-রা।

দেশভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ এবং অর্জন :
ভারত : অংশগ্রহণ- ৭ বার, বিজয়ী-৫বার (২০১০, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৯)
নেপাল (আয়োজক) : অংশগ্রহণ- ৭বার, রানার্সআপ- ৫বার
বাংলাদেশ : অংশগ্রহণ- ৭বার, বিজয়ী- ২বার (২০২২, ২০২৪)
শ্রীলঙ্কা: অংশগ্রহণ- ৭বার, সেমি ফাইনালিস্ট- ৩বার, (২০১২, ২০১৪, ২০১৯)
পাকিস্তান : অংশগ্রহণ- ৫বার, সেমিফাইনালিস্ট ১বার (২০১০)
মালদ্বীপ : অংশগ্রহণ- ৭বার, সেমি ফাইনালিস্ট- ১বার (২০১৬)
ভুটান : অংশগ্রহণ- ৭বার, সেমিফাইনালিস্ট- ১বার (২০২২)

একনজরে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশপের ৭ম আসর :
স্বাগতিক দেশ: নেপাল
শহর: কাঠমান্ডু
আয়োজনের সময়কাল: ১৭-৩০ অক্টোবর ২০২৪
অংশগ্রহণকারী দল: ৭টি
চ্যাম্পিয়ন: বাংলাদেশ
রানার আপ: নেপাল
মোট ম্যাচ: ১২টি
গোল সংখ্যা: ৬২টি
শীর্ষ গোলদাতা: শ্রীলংকার দেকি লাজোম (৮টি)
সেরা খেলোয়াড় : ঋতুপর্ণা চাকমা (বাংলাদেশ)
সেরা গোলরক্ষক: রূপনা চাকমা (বাংলাদেশ)
ফেয়ার প্লে পুরষ্কার: ভুটান। ০