সোনালি দিনের বর্ষা

0
3

সোনালি দিনের বর্ষা আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে,
সে যে প্রাণ সখা- বলো দেখি ভাই, কেমনে ফেরাব তাকে।
সেই জানালাটি, পাশ ঘেঁষে তার বসেছি কত-না দিন,
মুড়ি খেতে খেতে দেখেছি বৃষ্টি-প্রাণে সে বাজায় বীণ।
ভেসেছে উঠোন, ঝরা পাতাগুলো কোথায় গিয়েছে ভেসে,
দেখেছি কেমনে শত স্রোতধারা জলাশয়ে গিয়ে মেশে।
দেখেছি ডাহুক সহসা লুকোয় বেতস ঝোপের মাঝে,
সাঁঝের আগেই নেমেছে আঁধার- মন বসেনি তো কাজে।
শ্যামল-কোমল যে রূপ দেখেছি আমার মায়ের মুখে,
সেরূপ দেখেছি বৃষ্টিতে ভেজা তাজা প্রকৃতির বুকে।
সেই ঢেউ ভরা বড় বিলটাকে কখনো ভুলেছি নাকি!
দেখেছি ভেলায় ভেসে যেতে যেতে কত জলচর পাখি।

বর্ষা আমাকে গ্রামে গেলে দেবে শাপলা-হিজল ফুল,
ভেজা বাতাসের স্নিগ্ধতা দেবে- নেই কিছু তার তুল।
উঠোনের ধারে নৌকা থামবে- পানি বেড়ে যাবে কত!
এসে যাবে খালা, এসে যাবে চাচি- সাথে ভাইবোন যত।
দুপুরে পুকুরে দাপুর দুপুর চলবে সাঁতার কাটা,
হবে আমাদের হইহুল্লোড়, হবে এক সাথে হাঁটা।
হবে গুঁড়ি কোটা, খাবো নানা পিঠা এই আউশের দিনে,
বর্ষা আমার প্রিয় মৌসুম, চলে না তো তাকে বিনে।
জানি খালা-চাচি আসবে না কেউ, তারা গেছে পরপারে,
মাও নেই বেঁচে, কে বানাবে পিঠা, আমি ভাবি বারে বারে।
এইসব কথা কল্পনা শুধু, ভালো করে সেতো জানি,
হৃদয়ের পটে ভেসে ওঠে তবু বর্ষার স্মৃতিখানি।

প্রকাশকাল: জুলাই ২০২৫