রাতুল ও রাহাত দুই ভাই। দু’জনই খুব ঝগড়ুটে। সারাক্ষণ একজন আরেকজনের নামে বিচার-নালিশ দিতে থাকে। একজনের সফলতা আরেকজন দেখতে পারেনা। একবার তাদের বিদ্যালয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রাতুল ক্রিকেট ও রাহাত ফুটবলে নাম দিয়েছিল। রাতুল ক্রিকেটে ও রাহাত ফুটবলে পারদর্শী ছিল। তাই তারা অনুমান করেছিলো যে তারা দুজন এই দুটো প্রতিযোগিতায় ভালো ফল আনতে পারবে। তারা দুজনই তাদের বাবা-মাকে স্কুলে আসতে বলেছিলো তাদের খেলা দেখতে। রাতুল চেয়েছিলো তার বাবা-মা খেলা দেখুক এবং রাহাত চেয়েছিলো বাবা-মা তার খেলা দেখুক। দুটো খেলার সময় এক এবং জায়গা ভিন্ন বলে তাদের বাবা-মা বুঝতে পারছিলো না যে তারা কী সিদ্ধান্ত নিবেন। একদিকে রাতুলের খেলা দেখতে গেলে রাহাত মন খারাপ করবে এবং রাহাতের খেলা দেখতে গেলে রাতুল মন খারাপ করবে। অবশেষে তাদের বাবা-মা তাদের শান্ত করে গোপনে সিদ্ধান্ত নিলেন যে মা যাবেন রাহাতের খেলা দেখতে আর বাবা যাবেন রাতুলের খেলা দেখতে। যেই কথা সেই কাজ। বাবা-মা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা দেখতে গেলেন। এদিকে রাতুল দর্শকদের সারিতে দেখলো মা নেই এবং রাহাত দেখলো বাবা নেই। তারা উভয়ই এ দৃশ্য দেখে ক্ষেপে গেল। রাতুল তার মাকে গোপনে গিয়ে বললো রাহাত বাড়ি থেকে তার প্রিয় বুটস না পরে অন্য বুটস নিয়ে এসেছে। তার মা যেনো সেটি এনে দেয়। এটি ছাড়া রাহাত জিততে পারবে না। অন্যদিকে, রাহাত তার বাবাকে গিয়ে বলল রাতুল বাড়ি থেকে তার প্রিয় গ্লোভস না পরে অন্য গ্লোভস নিয়ে এসেছে। তার বাবা যেন সেটি এনে দেয়। এটি ছাড়া রাতুল জিততে পারবে না। তাদের দুজনের কথা শুনে বাবা-মা উভয়ই চলে গেল বাড়িতে তাদের খেলার সরঞ্জাম নিতে। তারা বাড়িতে গিয়ে একজন আরেকজনকে দেখে অবাক হয়ে গেল এবং পরে জানলো যে তাদের সাথে তাদের ছেলেরা কী করেছে। অপরদিকে রাতুল, রাহাতের খেলা শুরু হয়ে গেল। তাদের প্রিয় সরঞ্জাম ছাড়া তারা উভয়ই ভালো খেলেছে এবং তাদের দল ম্যাচ জিতেছে। রাতুল হাফ সেঞ্চুরি করে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছে এবং রাহাত দুটি গোল করে দলকে জয় এনে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে তারা দর্শকদের সারিতে গিয়ে দেখল তাদের কারও খেলা তাদের বাবা-মা দেখেনি। এ দৃশ্য দেখে তারা একে অপরের প্রতি আরও ফুঁসে উঠলো। তারা ম্যাচ সেরার ট্রফি নিয়ে বাড়িতে গিয়ে ঝগড়া শুরু করলো। তাদের বাবা-মা তাদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে উল্টো প্রশ্নের সম্মুখীন হলো যে তারা কেনো ছেলেদের খেলা দেখেনি। তারপর তাদের মা-বাবা উত্তরে তাদের হিংসা, ঝগড়ার ব্যাপারটা তুলে ধরলেন। রাতুল ও রাহাতের সত্যিই ইচ্ছে ছিল তাদের বাবা-মা তাদের খেলা দেখুক। কিন্তু তাদের হিংসার স্বভাবের কারণে তাদের ইচ্ছে পূরণ হয়নি।
প্রকাশকাল: জুন ২০২৬



