‘ঘুমিয়ে পড়ে রিনিমনি, রাতটা যখন হয়,
নড়ে তখন খেলনাগুলো, আর কি গো চুপ রয়!
টেডি ডাকে ওরে রোবট, বলটা নিয়ে ছোট,
গাড়ি বলে ‘চলো চলো, পাকিও না ঘোট!’
রিনি, সাত বছরের এক কল্পনাপ্রিয় মেয়ে। তার ঘরভর্তি খেলনা, তার মধ্যে রয়েছে রোবট, পুতুল, টেডি, ট্রেন, গাড়ি, আর রঙিন বল। কিন্তু রিনি জানে না, সে ঘুমিয়ে গেলে তার খেলনারা বেঁচে ওঠে। তারা হাঁটে, কথা বলে, হাসে, ঝগড়া করে, আবার মাঝে মাঝে ছোটখাটো দুঃসাহসিক অভিযানেও যায়।
সেদিন রাতে একটা নতুন প্ল্যান করল ঘরভর্তি খেলনারা। ওই দিন তাদের পুতুল রানির জন্মদিন! আর তাই আজ সবাই মিলে যাবে খেলনার রাজ্যে সেই উৎসবে।
রোবট টুলু বলল, সবাই তৈরি তো? আজ কিন্তু বড় মিশন আমাদের!
‘টেডি টানে গামছা রঙের জাদুর গেটের দড়ি,
গাড়ি এবং ট্রেন বলেছে, নাগরদোলায় চড়ি!
চোখের পাতায় ঘুরতে থাকে ঘরখানায় এক পাক,
দিচ্ছে পাড়ি খেলনারা আজ, সঙ্গে হাওয়ার ঝাঁক।’
রিনির ঘরে থাকা খেলনারা এক জাদুকরী পোর্টাল খুলে বসে খাটের নিচে। জাদুকরী এক দরজা খুলে যায় খাটের নিচে।
চকচকে আলোয় ভেসে ওঠে খেলনার রাজ্যটা। সেখানে বেলুনে ভর দিয়ে ওড়ে পুতুল, রোবটেরা নাচে, ট্রেনের লাইনে দারুণ খেলা চলে। রিনির খেলনারা সেই রাজ্যের নাগরিক। পুতুল রানির জন্মদিন উপলক্ষে একেবারে সবার মধ্যে সাজ সাজ রব। রোবট, পুতুল, টেডি সাজসজ্জায় ব্যস্ত রঙিন কাগজ দিয়ে। খেলনার রাজ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ।
কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল, পুতুল রানি নিখোঁজ! তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। কোত্থাও না! সবাই তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন।
পুতুল রানি হারিয়ে গেছে! সবাই হায় হায় করে ওঠে। সবাই খুঁজতে শুরু করেছে। ছোট ছোট চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেছে অজানা আশঙ্কায়।
রানি কোথায়, নেই কো রানি, রোবট করে হায় হায়,
টেডি বলে, ‘খুঁজতে হবে, এছাড়া তো নেই উপায়।’
বল বলল, ‘এসো না ভাই, ছাদে খুঁজি চলো,
ট্রেন-গাড়িটা সাথে নেব, আর যাবে কেউ বলো!’
সবার মধ্যে দারুণ হুলুস্থুল। রানি সকালে বলেছিল, সে বাইরে যেতে চায়। খেলনারা সাধারণত বাইরে যায় না। মানুষের জগৎ তাদের জন্য বিপজ্জনক, তাই।
কিন্তু রানি সাতপাঁচ না ভেবে বাইরে গেছে। হয়তো রিমির স্কুল ব্যাগে আটকে পড়েছে, অথবা টেবিলের নিচে একা একা বসে আছে ভয় পেয়ে।
এই অবস্থায় খেলনারা সিদ্ধান্ত নিল— তারাও বের হবে বাস্তব জগতে। যেটা একেবারে নিষিদ্ধ… কিন্তু বন্ধুকে উদ্ধার করতে তারা যা করা দরকার, সব করবে। সারা ঘর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে খেলনারা ঘুরে বেড়াচ্ছে রানি পুতুলের খোঁজে।
ঘুমের ভেতর শুনল রিনি খেলনা বুঝি কাঁদে,
আবার ভাবে স্বপ্ন বুঝি, কাঁদবে কি কেউ সাধে?
আলতো পায়ে উঠে গিয়ে খাটের নিচে দেখে,
বলল, ‘তোমরা করছটা কী? সঙ্গে আছে কে কে?’
রিমি ঘুমের মধ্যে হালকা একটা শব্দ শুনতে পায়। তার খেলনারা ফিসফিস করে কী যেন বলছে! সে খাটের নিচে তাকিয়ে দেখে, ছোট্ট এক দরজা, আলো ঝলমলে, আর তার পুতুলরা কেউ নেই ঘরে!
রিমি তখনই বুঝে নেয়, নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে।
সে হাতে নেয় টর্চলাইট, আর একটা কৌতূহলী হাসি নিয়ে খাটের নিচে ঢুকে পড়ে।
রিমি খাটের নিচে খুঁজে পায় আলো আর খেলনার যাত্রাপথ। সেও খেলনাদের সঙ্গে অভিযান শুরু করে। সেও যেন ওদের মতোই একটা খেলনা। সে খুঁজে পায় পুতুল রানিকে। আলনার পেছনে একা একা বসে রয়েছে।
পুতুল কৈফিয়ত দিয়ে বলে, সে রঙ নিতে এসেছিল, কিন্তু হঠাৎ অন্ধকারে হারিয়ে যায়।
এরপর খেলনারা ও রিমি একসঙ্গে ফিরে যায় খেলনার রাজ্যে।
শেষমেশ শুরু হয় দারুণ এক জন্মদিন পার্টি!
একসময় রিমি সবাইকে বিদায় বলে। সবাই তাকে ভালোবাসা জানায়।
রিমি বিছানায় ফিরে দারুণ এক ভালোলাগা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আর খেলনারা আবার চুপচাপ হয়ে যায়।
ঘুমিয়ে পড়ে রিনি তখন,
মুখ ভরা তার হাসি,
খেলনারা কয়, আমরা তোমায়
ভীষণ ভালোবাসি।
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৫



