উপরের শিরোনাম দেখে হালকা চমকে উঠলে? সবখানে যেই আফ্রিকাকে গরিব মহাদেশ, অন্ধকার মহাদেশ ইত্যাদি ইত্যাদি ব্যাকডেটেড তকমা দেয়া হচ্ছে, সেখানে আমি উল্টো একে সবচেয়ে ধনী মহাদেশ বানিয়ে দিচ্ছি কী করে? এটা কিন্তু কোনো কথার কথা নয়। আজ আমরা একেবারে হিসেব নিকেশ করেই দেখব, আসলেই আফ্রিকা সবচেয়ে ধনী মহাদেশ কি না, আর আমাদের কাছে যে বিভিন্নভাবে একে গরিব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তার আসল অবস্থা আসলে কী?
শুরু করা যাক এক ইন্টারেস্টিং জিনিস দিয়ে। এর নাম হলো কোবাল্ট। কোবাল্ট শব্দটা নতুন বা অপরিচিত হলেও কোবাল্টের কাজের সাথে আমরা সবাই খুউব ভালোভাবে পরিচিত। এই যে আধুনিক দুনিয়া, কতশত টেকনোলজি, পোর্টেবল নতুন নতুন কতকিছু আসছে, এই সব জিনিস চালাতে একটা কমন জিনিস লাগে। সেটা হলো ব্যাটারি, তাই না? ব্যাটারি ছাড়া মোবাইল চলবে? কিংবা অত্যাধুনিক কোনো ইলেকট্রিক কার? চলবে না। সেই ব্যাটারির একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এই কোবাল্ট। অত্যাধুনিক ডিফেন্স সিস্টেম, চিকিৎসাসহ আরো অনেক কাজেই এই কোবাল্ট একটা আবশ্যক জিনিস। তো এই কোবাল্টের বৈশ্বিক উৎপাদনের অধিকাংশ, প্রায় ৭০ ভাগেরও বেশি আসে আফ্রিকা থেকে। আরো সুনির্দিষ্টভাবে বললে, শুধু মধ্য আফ্রিকার এক দেশ কঙ্গো (ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো) থেকেই এই পরিমাণ আসে। ভাবো তো, যেই কঙ্গোর নাম শুনলে তোমার আমার চোখে কেবল গরিব কিছু মানুষের কথা ভেসে উঠতে চায়, এমনকি অনেকে হয়তো সেই দেশের নামই আজ প্রথম জানলে, সেই গরিব মানুষদের পায়ের নিচে পড়ে থাকা কোবাল্ট ছাড়া তোমার শখের ফোন চলবে না, চলবে না এলন মাস্কের টেসলার ইলেকট্রিক কার, চলবে না ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম!
কোবাল্ট থেকে চলো এবার আমাদের সবার অতি পরিচিত স্বর্ণের দিকে নজর ফেরাই। স্বর্ণের ব্যবহার নিয়ে তো আমরা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু তোমাদের অনেকের না জানা একটা বিষয় বলি। পুরো পৃথিবীর টাকা পয়সার সিস্টেম ৫০ বছর আগেও ছিল এই স্বর্ণের রিজার্ভকে কেন্দ্র করে। মানে কোনো দেশ কেবল তত মূল্যমানের টাকাই ছাপাতে পারবে, যতটুকু স্বর্ণ তার রিজার্ভে আছে। এর বেশি টাকা ছাপাতে পারবে না, করলে দেশের অর্থনীতির জন্য তা বেশ ক্ষতিকর হবে। তো এই স্বর্ণের মজুদ কোথায়? দুনিয়ার স্বর্ণের মজুদের সিংহভাগও এই আফ্রিকা মহাদেশে। আধুনিক কালে স্বর্ণ উত্তোলন করার যত রেকর্ড এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়, কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার উইথওয়াটারস্রেন্ড নামের এক এলাকা থেকেই তার প্রায় এক তৃতীয়াংশ তোলা হয়েছে। ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পারছ, কী পরিমাণ স্বর্ণ সেই জায়গা থেকে উত্তোলন করা হয়েছে? এই খনির কাছে গড়ে উঠেছে বিখ্যাত শহর জোহানেসবার্গ, যার অপর নামই হলো স্বর্ণনগরী। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা না, আফ্রিকার আরো দেশ মালি, ঘানা, তানজানিয়াতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনার খনি।
অবাক লাগছে? কিন্তু এ তো সবে শুরু। দুনিয়ার সবচেয়ে কোন ধাতু বেশি মূল্যবান? মাথা চুলকাতে চুলকাতে চকমকে হীরের কথা মনে আসছে নিশ্চয়ই? তুমি কি জানো এই হীরা কোথা থেকে আসে? হীরা কিন্তু কোনো ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হয় না। এটা খনি থেকে আসে। খনি মানে কী জানো? আমাদের পৃথিবীর মাটির নিচে অনেক জায়গায় অনেক সম্পদ, যেমন হীরা, স্বর্ণ, লোহা, তেল, গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি লুকানো বা রিজার্ভ আছে, যা মানুষের জন্য আল্লাহর নেয়ামত। এই সম্পদ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। যখন কোনো জায়গায় এরকম কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ পাওয়া যায়, তখন ঐ জায়গাকে আমরা খনি হিসেবে চিনে থাকি। হীরা এরকম খনি থেকেই পাওয়া যায়। উপরে যে কোবাল্ট আর স্বর্ণের কথা বললাম, সেগুলোও এভাবে খনি থেকেই পাওয়া যায়। তো এই হীরারও অর্ধেকের কাছাকাছি আসে আফ্রিকার এক দেশ বতসোয়ানা থেকে। আফ্রিকার বাইরের বিভিন্ন দেশেও হীরা পাওয়া যায়। যেমন বর্তমানে সবচেয়ে বেশি হীরা সংগ্রহ হয় রাশিয়া থেকে। কিন্তু হীরার কোয়ালিটি বা মান বিবেচনা করতে গেলে আফ্রিকায় পাওয়া হীরা অনেক বেশি উন্নত। তাই এগুলোর দামও অনেক বেশি। একটু উদাহরণ দিয়ে বলি, ২০২২ সালে রাশিয়া থেকে পাওয়া প্রতি ক্যারেট হীরার দাম যেখানে ছিল ৮৫ ডলার, সেখানে বতসোয়ানা থেকে পাওয়া হীরার দাম ছিল ১৯২ ডলার, মানে ডাবলেরও বেশি। শুধু বতসোয়ানাই নয়, হীরা উৎপাদনের শীর্ষ দেশগুলোর অধিকাংশই আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। বুঝতে পারছ, আফ্রিকার সম্পদের পরিমাণ আসলে কেমন?
এরপরে আসা যাক প্লাটিনামের কথায়। এটার নামও তোমরা অনেকে শুনেছ। গয়না তৈরি ছাড়াও গাড়ি, ইলেক্ট্রনিক্সের বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে, রসায়নের গবেষণায়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন কাজেও এর বেশ ব্যবহার আছে। এটিও সবচেয়ে মূল্যবান ধাতুগুলোর একটি। আর এই ধাতুরও অধিকাংশ আসে আফ্রিকা থেকে। বিশেষত দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। ২০২৪ সালে পুরো পৃথিবীতে যেখানে ১৭০,০০০ কেজি প্লাটিনাম উত্তোলন করা হয়েছে, তার ১২০,০০০ কেজি, মানে ৭০% এরও বেশি নেয়া হয়েছে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।
এভাবে বলতে থাকলে আরো অনেক কিছুর কথা বলা যাবে। সংক্ষেপে আর একটু করে বলে এই রীতিমতো অকল্পনীয় সম্পদের ফিরিস্তি আপাতত তুলে রাখব। এই আধুনিক যুগের প্রাণ হলো বিদ্যুৎ; আর বিদ্যুৎ পরিবহন সিস্টেমের প্রাণ হলো কপার বা তামা। এই তামার উৎপাদনে ২য় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো-কিনশাসা (আফ্রিকায় দুইটা কঙ্গো নামের দেশ আছে; এরমধ্যে যেটির রাজধানী কিনশাসা, সেটি)। আরেক কম পরিচিত, দুর্লভ, এবং ইলেকট্রনিক্সের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি ধাতু হলো ট্যান্টালাম, কম জায়গায় অনেক বিদ্যুৎ ধরে রাখা, কিংবা অনেক উচ্চ তাপ সংরক্ষণে এই ধাতু অনন্য। এই ধাতুরই উৎপাদনেরও প্রায় ৮০% উৎস আফ্রিকা, যেখানে আফ্রিকার এক দেশ রুয়ান্ডা বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৪৬% সাপ্লাই করে। এছাড়া তেল, কয়লা, জিংক, টাইটেনিয়াম, লোহা ইত্যাদিও রীতিমতো অঢেল পরিমাণে জমে আছে আফ্রিকার সেই কালো মানুষদের পায়ের নিচে। তোমরা ম্যাপটা দেখেছ, যেখানে আফ্রিকার কোন দেশে কোন খনিজ বেশি পাওয়া যায়, সেটি দেয়া আছে। এই ম্যাপে দেশের নামের জায়গায় ঐ দেশে অধিক প্রাপ্ত খনিজটির নাম দিয়ে দেয়া হয়েছে।
এতক্ষণ ধরে আমরা আফ্রিকার কিছু খনিজ সম্পদের ব্যাপারে জানলাম, যা আমাদের প্রায় সবারই অজানা ছিল। আমাদের আজকের দিনের আধুনিক গাড়ি, মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, প্লেন ইত্যাদি বানানোতে অনেক ধরনের পদার্থ লাগে। এই পদার্থগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খনি থেকে পাওয়া যায়। কিন্তু আফ্রিকার এই সাপ্লাই যদি না থাকে, তাহলে আমাদেরকে ‘সবার হাতে হাতে মোবাইলের যুগ’ থেকে সেই ২/৩ যুগের আগের ‘পুরো গ্রাম মিলে একটা ফোনের যুগে’ ফিরে যেতে হবে। কারণ এত ডিভাইস বানানোর জন্য পদার্থ যা লাগে, তার অধিকাংশই যে আফ্রিকা থেকে আসে! এতক্ষণে নিশ্চয়ই তোমার আর আফ্রিকাকে আগের মতো গরিব মনে হচ্ছে না, তাই না?
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এতকিছু থাকার পরেও আফ্রিকা যে গরিব, এটাও মিথ্যা নয়। আয়তন ও জনসংখ্যায় পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম এ মহাদেশের মাথাপিছু আয় মহাদেশগুলোর মধ্যে সবার চেয়ে কম। জীবনমানের দিক থেকেও এটি সবার চেয়ে পিছিয়ে। অবশ্য আফ্রিকা নিয়ে আলাপ করতে গেলে এমনভাবে কথা বলি, যেন আফ্রিকা যেন একটা দেশ। কিন্তু ব্যাপারটা তো মোটেও এমন না। আফ্রিকা মহাদেশে সবচেয়ে বেশি দেশ রয়েছে, যার সংখ্যা ৫৪টি। এই ৫৪টি দেশের অবস্থা তো আর একইরকম হওয়ার কথা না, তাই না? এই যেমন আমাদের এশিয়া মহাদেশের কথাই ধরো, এখানে চীন, জাপান, সিঙ্গাপুরের মতো বিশাল অর্থনীতির দেশ যেমন আছে, একইসাথে আছে বাংলাদেশ, মায়ানমার, মঙ্গোলিয়ার মতো দুর্বল অর্থনীতির দেশ। আফ্রিকার দেশগুলোর মাথাপিছু আয়ের তালিকায় নজর বুলালে যে দেশটির নাম সেখানে সবার উপরে আছে, তার নাম হলো সিশেলস, ৫৪তম। সিরিয়ালে এরপরের দেশ হলো মরিশাস, যার ক্রম ৬৩। সারাবিশ্বের এভারেজ মাথাপিছু আয় হিসাব করলে যা দাঁড়ায়, আফ্রিকার কেবল এই দুটি দেশের অবস্থা তার চাইতে ভালো। বাকি বেশিরভাগের অবস্থান তলানীর দিকে। আরো ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, উপরে যেই সম্পদের কথা আমরা জানলাম, এই ২ দেশ কিন্তু সেরকম সম্পদের কারণে ধনী নয়। তাদের কারণ অন্য। তাহলে এত প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ দেশগুলোর অবস্থা এত খারাপ কেন?
এটার জন্য একটু পেছনে যেতে হবে। ১৫০০ সালের আশেপাশে পশ্চিম ইউরোপে শিল্প বিপ্লব শুরু হয়। পশ্চিম ইউরোপ হলো আজকের ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, জার্মানি প্রভৃতি দেশ। শিল্প বিপ্লব মানে কী? মানে হলো এতদিন যেখানে কাপড় চোপড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জিনিস হাতে বানানো হতো, এবার সেগুলো কম সময়ে, কম পরিশ্রমে ও কম খরচে বানানোর জন্য যন্ত্র তৈরি হলো। এর ফলে সেখানকার সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। তারা জাহাজে করে ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। এই ছড়িয়ে পড়ার অংশ হিসেবে তারা অনেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দিকের উপকূলীয় অংশেও বসবাস শুরু করে। এই ইউরোপিয়ানদের হাতে ছিল তখনকার আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, যা আফ্রিকানদের উপরে খবরদারি করতে এবং তাদের উপরে যা ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে বেশ কাজে লাগলো। এই সুযোগে আফ্রিকানদের নিয়ে এই ইউরোপিয়ানরা শুরু করলো দাস ব্যবসা। তাদের অস্ত্রের মুখে তুলে এরা নিয়ে বিক্রি করে দিতো আটলান্টিকের পশ্চিম পাড়ের উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায়। এই অপকর্ম করতে করতেই তারা সন্ধান পেয়ে যায় আফ্রিকার মহামূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের, যার কথা আমরা শুরুর দিকে বলছিলাম। ধীরে ধীরে যুদ্ধ বা সমঝোতা, বিভিন্ন উপায়ে বিশাল মহাদেশ আফ্রিকাকে এই ইউরোপিয়ান দেশগুলো ভাগাভাগি করে নেয়। এই কাজে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, পর্তুগাল, জার্মানি। এরা আফ্রিকানদের সাথে যেই বর্বরতা প্রদর্শন করে, তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। কোটি কোটি আফ্রিকান নির্যাতনে, ক্ষুধা, দারিদ্র্যের কারণে মারা যায়। আর দাস হয়ে কত মানুষ যে ঘর হারা হয়েছে, দীর্ঘ অমানবিক নৌযাত্রায় কষ্টে মৃত্যুবরণ করেছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।
ধীরে ধীরে সময়, সভ্যতা এগিয়ে যেতে যেতে একসময় আফ্রিকার দেশগুলোও স্বাধীন হতে থাকে। কিন্তু এসময় এই ইউরোপীয় মোড়লরা স্বাধীনতার চুক্তি এমনভাবে করে, যাতে এই প্রাকৃতিক সম্পদের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকে। ফলে নিজেদের সম্পদের বেলায়ও আফ্রিকানরা আগের মতো কেবল তার শ্রমিকই থেকে গেলো। আফ্রিকা ছাড়ার পরেও তারা সেখানে বিভিন্ন ধরনের জাতিগত বিবাদ, অন্তর্কোন্দল, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি টিকিয়ে রেখেছে এখনো, যেন স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসনসহ সবকিছুকে তারা এমনভাবে রেখে এসেছে, যেন আফ্রিকানরা দীর্ঘদিনেও এই সমস্যা থেকে বের হতে না পারে। ফলে ধনী আফ্রিকার অধিবাসী আফ্রিকানরা গরিবই হয়ে রইলো।
বন্ধুরা, আফ্রিকা নিয়ে আমাদের গল্পের আপাতত এখানেই সমাপ্তি। সুবিশাল আফ্রিকার এই অবস্থা আমাদের অনেক কিছুই শিক্ষা দেয়। আফ্রিকায় ইউরোপীয়রা তথাকথিত উন্নত সভ্যতার ছদ্মবেশে গিয়েছিল। কিন্তু পরে স্থানীয়দের দাস বানিয়ে করেছে দূরদেশে বিক্রি, লুণ্ঠন করেছে অসীম প্রাকৃতিক সম্পদ, নষ্ট করেছে সম্প্রীতি, বীজ বুনে এসেছে দুর্নীতিসহ অসংখ্য সামাজিক ব্যাধির। আজকের ইউরোপের এই উন্নতি, এই মহা মহা বুলির পেছনে বিশ্বব্যাপী লুটপাট, ডাকাতি আর অজস্র অজস্র অপকর্মের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যার শিকার হয়েছিল আমাদের এই বাংলা অঞ্চলও। এগুলোকে তারা ভালোমানুষির ছদ্মবেশে লুকিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু আমাদের তো সত্য জানতেই হবে। এই সত্য জানার আমন্ত্রণ জানিয়ে এবারের মতো শেষ করি। আল্লাহ হাফেজ!
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২৫



