ভূতের ছেলে চ্যাংড়া মিয়া সুস্থ মোটেই নয় এ!
রাত-বিরেতে বেরোয় না সে মানুষজনের ভয়ে!
এইতো গত পরশু রাতে শ্যাওড়া গাছের তলে
পড়ল সে এক ভীষণ রকম বিষম গ্যাঁড়াকলে!
গাবদা-গড়ন গফরা মিয়া পাবদা নিয়ে হাতে
গুনগুনিয়ে হনহনিয়ে আসছিল সেই রাতে।
চ্যাংড়া মিয়া ঘুমাচ্ছিল সেইখানে নিঃসাড়ে;
গফরা এসে হুড়মুড়িয়ে পড়ল যে তার ঘাড়ে!
চাপটা খেয়ে চ্যাপ্টা হয়ে চ্যাংড়া হলো চিঁড়ে;
গাল দুটো তার তুবড়ে গেল, জুলফি গেল ছিঁড়ে!
চোট-টা লেগে ঠোঁটটা গেল, আঙুল ফুলে কলা!
পেঁচগি লেগে মচকে গেল কুঁচকি এবং গলা!
দু-মাস আগে গভীর রাতে চৌধুরীদের বাড়ি
শম্ভু-চোরা করল চুরি, লুটল টাকার কাড়ি।
কিন্তু, বাপু! শেষ সময়ে পড়ল হঠাৎ ধরা!
চৌধুরীরা চোর ধরে আহ! করল যে আধমরা!
কৌতূহলী চ্যাংড়া মিয়া আগেই সেথায় ছিল,
শম্ভু-চোরার শিষ্য ভেবে তারেও ধোলাই দিলো!
চৌধুরীরা বলল ‘এটা শম্ভু ব্যাটার চ্যালা;
ধর ব্যাটারে, মার ঝ্যাঁটারে, কানটা ছিঁড়ে ফ্যালা!
দে জুতিয়ে, মার গুঁতিয়ে এই বয়সেই চুরি!
কান-কাটারে কান ফাটা রে, ভসকিয়ে দে ভুঁড়ি!’
মানুষগুলোর বিবেক তো নেই ভীষণ রকম ত্যাড়া!
ভূত-মানুষে গুলিয়ে ফেলে হায়! কী বিষম প্যারা!
এই দু-দুটো চিপায় পড়ে চ্যাংড়া গেল দমে
আরটু হলেই ভর্তি হতো ভূত-মেন্টালহোমে!
মানুষ মানেই ঘোড়েল ব্যাপার সহজ জিনিস নয় এ!
রাত-বিরেতে বেরোয় না সে তাই মানুষের ভয়ে!
প্রকাশকাল: ডিসেম্বর ২০২৪


