শ্রাবণ ধারায়
বৃষ্টি ঝরে শ্রাবণ ধারায়
নিভলো আলোর রেখা
মেঘ জমেছে আকাশ জুড়ে
নেই যে রোদের দেখা।
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ব্যাঙরা ডাকে
ঝিঁঝিরাও একরোখা
সন্ধ্যেবেলায় বৃষ্টি ভিজে
জ্বলছে জোনাক পোকা।
গুরু গুরু ডাকে দেয়া
বিজলী আকাশ চমকায়
গাছগাছালি নুয়ে আসে
বজ্র বাতাস দমকায়।
ভিজে সারা পাখির বাসা
বিরাম বিহীন বৃষ্টি
লেজ দুলিয়ে দোয়েল যে দেয়
ডালে বসে শিসটি।
একটি সারস
একটি সারস মাছের ঘেরে
মাছের লোভে ঘাপটি মেরে
আছে অপেক্ষায়,
সকাল থেকে খায়নি খানা
ওর যে দু’টো ছোট্ট ছানা
ক্ষুধার্ত বাসায়।
ঘেরের মালিক দেখতে পেলে
তাড়াবে ঠিক লাঠি চেলে
ফিরতে হবে খালি,
আশায় বাসায় ছানা দুটি
আসবে মা মাছ নিয়ে পুঁটি
অন্তত এক হালি।
কাকে রে খুঁজিস
বকুল ডালের পাতার ফাঁকে
এসে রে দিস শিস,
এডাল ওডাল করে দোয়েল
কাকে রে খুঁজিস?
যাকে খুঁজিস সে কি আছে
তোর জন্যে আর ঘরে?
ও যে কবে হারিয়ে গেছে
জানিস না তুই ওরে?
ফিরবে না সে আর কখনও
পাবি না তুই ওকে,
শুধু শুধু খুঁজিস কেনো
বারণ করি তোকে।
ও ছিল যে সবার প্রিয়
বুকের প্রাণের ধন,
তোর ডাকে যে শোকে ব্যথায়
উতলা হয় মন।
খাটাশ
ঝোপের মধ্যে একটি খাটাশ
ছিল দারুণ কাল খুশি,
হঠাৎ খুশি চুপসে গেল
লাগলে গায়ে আলকুশি।
দু’হাত দিয়ে চুলকায় গা
আর থাকে সে কাতরাতে,
চুলকানিটা থামাতে সে
ঝাঁপ দেয় নদী সাঁতরাতে।
খবর পেয়ে ডাক্তার এসে
প্রেসক্রিপশন দেয় সাক্ষাতে,
আর কিছু না একটানা সে
ঘুমাবে না সাত রাতে।
প্রকাশকাল: আগস্ট ২০২৪

