আমার প্রতিটি কাজ নিয়ে মামণি গর্ব করেন। বলেন, এ বয়সে তুলি যতোটা স্মার্ট হয়েছে, আমি ততোটা ছিলাম না। ছাত্রী হিসেবে আমি ছিলাম মাঝারি মানের— তুলি ফার্স্ট গার্ল। কারো সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমার জিভ জড়িয়ে যেতো। তুলির তেমন হয় না— তুলি অনর্গল কথা বলে। কুরআন তিলাওয়াতের সময়ও ওর মাঝে কোনো জড়তা খুঁজে পাওয়া যায় না। শুদ্ধ উচ্চারণে গড়গড় করে আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে যায়। তুলি আমার স্মার্ট মেয়ে।
মামণি মন খুলে আমার প্রশংসা করলেও একটি কাজ নিয়ে মন খারাপ করেন— আমি যে ফুল ছিঁড়ে মালা গাঁথি, পাপড়ি খুলে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিই, মামণি তা পছন্দ করেন না। মামণি বলেন, ফুলকে মানুষের হাতে নয়, গাছের ডালেই মানায় ভালো। এভাবে ফুল ছিঁড়ে তুই শুধু বাগানের সৌন্দর্যকেই নষ্ট করছিস না, পরিবেশকেও নষ্ট করছিস। আমার মেয়ে হয়ে এমন কাজ করে যাবি আর আমি তা চেয়ে চেয়ে দেখবো, তা হবে না। তোকে তোর স্বভাব বদলাতে হবে।
মামণি যখন এসব কথা বলেন আমি তখন আমার ভুল বুঝতে পারি। আর বোঝার সঙ্গে সঙ্গে মামণিকে জড়িয়ে ধরে বলি, আমি আর ফুল ছিঁড়বো না। আমিও তোমার মতো ফুলকে ভালোবাসবো। ফুলের গাছ দেখাশুনা করবো।
আমার কথা শুনে মামণির চোখ ঝলমল করে ওঠে। মামণি বলেন, এসব করবি তুই? তাহলে ভালোই হবে। দুজনা মিলে বাগানের দেখাশুনা করবো। আরো গাছ লাগাবো। আরো ফুল ফুটবে— ফুলে ফুলে বাগানটা ঝলমল করবে। তুই পারবি না গাছে পানি দিতে? মরা পাতা বেছে তুলে ফেলতে? পাতার নিচে পোকা ডিম পেরেছে কি না তা দেখতে?
আমি বলি, পারবো মা, পারবো! পাতার নিচে পোকা ডিম পাড়লে সেই পাতা বোঁটা থেকে ছিঁড়ে ফেলে দেবো। মরা পাতা তুলে বাগানটাকে ঝকঝকে করে ফেলবো। সে বাগান দেখে তুমি নিজেই মুগ্ধ হয়ে যাবে।
: তাই?
মামণি খুশি হোন আমার কথা শুনে। তার বুকের ভেতর থেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে। কিন্তু শেষপর্যন্ত আমার আর ওসব করা হয় না। মামণি বাগানের দেখাশুনা করেন সকাল আর বিকেলবেলা। আর সে সময়টাতে আমি ব্যস্ত থাকি নিজেকে নিয়ে। সকালে যাই স্কুলে— বিকেলে খেলতে বসি। মামণি আমাকে ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে বাগানে চলে যান।
সমস্যা হলো, শুধু বাগানের কাজে হেল্প করার বেলায় নয়, ফুলের বেলাতেও আমি আর আমার কথা রাখতে পারি না। দুদিন যেতে না যেতেই আবার আগের মতো হয়ে যাই— ফুল এনে মালা গাঁথি, পাপড়ি খুলে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিই। আর তা দেখে মামণি দুঃখ পান। মামণি আমাকে বোঝান। তার চোখ দুটো ছলছল করে।
দুই.
আমার মামাতো বোনের নাম সারিকা। এ বোনটি আমার চেয়ে এক বছরের বড়ো। আমি তাই তাকে সারিকা বোনু বলে ডাকি। সারিকা বোনু যখন বেড়াতে আসে আমরা তখন মজা করে খেলি আর ছবি আঁকি। সারিকা বোনুদের বাড়িতে গেলেও সেই একই কাজ করি— খেলাধুলা করি নয়তো রং পেন্সিল নিয়ে আঁকতে বসি।
সারিকা বোনু বলল, তাহলে রং-তুলি নিয়ে এসো। আমরা ছবি আঁকবো।
আমার তখন আঁকাআঁকি করতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। তাই বললাম, আঁকাআঁকি না বোনু। তারচে চলো বাগানে গিয়ে ফুলরানী ফুলরানী খেলি। খুব মজা হবে।
: এটা আবার কেমন খেলা? যে খেলার নাম শুনিনি সে খেলা খেলবো কেমন করে?
সারিকা বোনু তার সমস্যার কথা জানাল। আমি বললাম, শিখিয়ে দিলেই খেলতে পারবে। প্রথমে তুমি আর আমি দুটো ফুলগাছের সামনে গিয়ে দাঁড়াবো। তারপর ওয়ান টু থ্রি বলার সঙ্গে সঙ্গে নিজ নিজ গাছ থেকে ফুল ছিঁড়ে নিচে ফেলবো। এভাবে পাঁচ মিনিট ফুল ছেঁড়ার পর গুনে দেখবো কে বেশি ফুল ছিঁড়তে পেরেছে। যে বেশি ছিঁড়তে পারবে সে জিতে যাবে। একেবারে সহজ খেলা।
: সহজ তো বুঝলাম। কিন্তু এতে মজা কোথায়?
: মজা আছে। মজার ব্যাপারটা ঘটবে একেবারে শেষে। যে জিতে যাবে তাকে ফুলরানী বলে ডাকা হবে আর তার ওপর ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দেয়া হবে। সম্ভব হলে মালাও পরিয়ে দেয়া হবে। মজার খেলা না?
বিপুল উৎসাহ নিয়ে আমি সারিকা বোনুর দিকে তাকালাম। কিন্তু তার চেহারাতে খুশির আভাস দেখতে পেলাম না। সে জবাব দিল, না, একেবারেই মজার খেলা না। এটা একটা বাজে আর নিষ্ঠুর খেলা।
সারিকা বোনুর জবাব শুনে আমি তো অবাক। জিজ্ঞেস করলাম, খেলাটাকে বাজে আর নিষ্ঠুর বলছো কেন?
সারিকা বোনু খুব শান্ত কণ্ঠে বলল, বলার কারণ আছে। ফুল একটি সুন্দর জিনিস। কোনো সুন্দর জিনিসকে নষ্ট করে খেলা হতে পারে, আমি তা ভাবতেও পারি না। আর ফুলের পাপড়ি ছেঁড়া তো রীতিমতো নিষ্ঠুরতা। না তুলি, আমি এমন খেলা খেলবো না।
আমি বললাম, তুমি একেবারে বড়োদের মতো কথা বলছো! একেবারে মামণির মতো। মামণি বলেন, ফুল ছেঁড়া মানে সৌন্দর্যকে নষ্ট করা! ফুল ছেঁড়া মানে পরিবেশের ক্ষতি করা! ফুলকে মানুষের হাতে নয়, গাছের ডালেই মানায় ভালো। তা তোমরা যা ইচ্ছে তা বলো ভাই। ফুল ছিঁড়ে খেলতে আমার ভালো লাগে— আমি খেলবো। তুমি খেলবে কি না, সে কথা বলো?
সারিকা বোনু সাফ জানিয়ে দিল সে খেলবে না। ইচ্ছে হলে আমি যেন একা একা খেলি, সে কথাও বলল সে। সে কথা শুনে আমারও খুব রাগ হলো। আমিও তাই খুব স্মার্টলি বললাম, আচ্ছা আচ্ছা, একা একাই খেলবো। আমার সঙ্গে তোমাকে খেলতে হবে না। তার চেয়ে তুমি মামণির সঙ্গে বসে টিভি দেখোগে।
তিন.
একা একা খেলার মাঝে কোনো আনন্দ নেই, আমি তা জানি। কিন্তু সারিকা বোনু খেলবে না বলার পর একা একা খেলা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই। তাই আমি একা একা খেলে চললাম। আর সারিকা বোনু ঘুরে ঘুরে ফুল দেখে যেতে লাগল।
মন খারাপ করে একের পর এক ফুল ছিঁড়ে যাচ্ছি, এদিক-ওদিক ছুঁড়ে মারছি, পাপড়ি খুলে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিচ্ছি, সে সময় চোখ পড়ল একটা ফুলের ওপর— লাল টুকটুকে গোলাপ ফুল। সেই ফুলটিকে দেখে আমার মন খুশিতে নেচে উঠল। আমি ভাবলাম, হায় আল্লাহ্, কী সুন্দর ফুল! ফুলটাকে আমি ছিঁড়বো।
এ কথা ভেবে সেই ফুল ছিঁড়ে আনার জন্য দুই ডালের মাঝ দিয়ে হাত বাড়ালাম। সেই হাত গিয়ে পড়ল একটা কাঁটার ওপর, আর প্রচণ্ড ব্যথা পেয়ে আমি চেঁচিয়ে উঠলাম। সঙ্গে সঙ্গে খিকখিক ধরনের একটা হাসির শব্দ ভেসে এলো। সারিকা বোনু পাশেই ছিল। আমি চমকে উঠে তাকে বললাম, ব্যাপার কী বোনু? আমি ব্যথা পেয়ে কাঁদছি আর তুমি মনের সুখে হাসছো! এটা কি ঠিক হচ্ছে?
সারিকা বোনু বলল, আমি তো হাসিনি! হাসির শব্দ শুনে আমি ভেবেছি তুমি হেসেছো।
সারিকা বোনু হাসেনি শুনে আমি তো অবাক! সে হাসেনি, আমি হাসিনি, তাহলে হেসেছে কে? তবে যে-ই হেসে থাক, সে আশেপাশেই আছে।
আশেপাশে কে আছে তা দেখার জন্য আমি এদিক-ওদিক তাকালাম কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। তখন জিজ্ঞেস করলাম, কে হেসেছো? সামনে এসে দেখা দাও।
: আমি হেসেছি। আর আমি তোমার সামনেই আছি।
কে যেন কথাটা বলল কিন্তু তাকে আমি দেখতে পেলাম না। তাই জিজ্ঞেস করলাম, কে কথা বলছো? কাউকে দেখতে পাচ্ছি না তো!
এবার জবাব এলো, একটু মাথা তুলে তাকাও না ভাই। তাকালেই আমাকে দেখতে পাবে। আমি রজনিগন্ধা। ধবধবে সাদা এক সুঘ্রাণঅলা ফুল।
এবার উপর দিকে তাকাতেই আমি ফুলটিকে দেখতে পেলাম— সত্যি সত্যিই আমার মাথার ওপর একটি ধবধবে সাদা ফুল ফুটে রয়েছে। এ ফুলের নাম রজনীগন্ধা, আমি তা জানি।
আমি রজনীগন্ধাকে জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে তুমিই হেসেছো?
রজনীগন্ধা বলল, হ্যাঁ, তুলি। আমিই হেসেছি।
: কেন, রজনীগন্ধা? হঠাৎ তুমি হেসে উঠলে কেন?
জিজ্ঞেস করলাম আমি। রজনীগন্ধা বলল, তোমাকে ব্যথা পেয়ে চেঁচিয়ে উঠতে দেখে আমার এতো মজা লেগেছে যে, আমি আর হাসি চেপে রাখতে পারিনি। এখনও হাসি পাচ্ছে— হি…হি…হি…। আচ্ছা তুলি, আমার হাসি তোমার ভালো লাগেনি?
আমি বললাম, না, একটুও ভালো লাগেনি। আমি ব্যথা পেয়ে কেঁদেছি আর তুমি মজা পেয়ে হেসেছো। এ কি ভালো লাগার কথা? শোনো রজনীগন্ধা, কাউকে ব্যথা পেতে দেখে খিকখিক করে হাসতে হয় না।
: কেন?
: কারণ ওটা নিষ্ঠুরতা। ভালো কাজ নয়।
রজনীগন্ধা বলল, ওহ, তাই বুঝি— হাসাটা ভালো কাজ নয়? আর কাউকে মেরে ফেলা, সেটা কী? সেটা বুঝি ভালো কাজ?
বললাম, না না, সেটা তো আরো খারাপ কাজ। কোনো ভালো মানুষ কাউকে মেরে ফেলতে পারে না।
: তাহলে তুমি কি ভালো মানুষ নও?
আমি বললাম, অবশ্যই আমি ভালো মানুষ। আমি কাউকে মারি না। কিন্তু তুমি এ কথা বলছো কেন?
রজনীগন্ধা বলল, বলছি এ কারণে যে, তোমাকে আমাদের খুব নিষ্ঠুর মনে হয়। তুমি সবসময় ফুলদের সঙ্গে নিষ্ঠুরতা করো। খারাপ ব্যবহার করতে একটুও বাধে না তোমার।
আমি বললাম, কিছুক্ষণ আগে তুমিও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছো। কাঁটার খোঁচা খেয়ে আমি কেঁদেছি আর তুমি হেসেছো।
: হাসবে না কেন? গোলাপ চামেলি রঙ্গন আর কনকচাঁপারা হেলেদুলে হাসবে— আর ওদের সাথে মিলে আমিও হাসবো। কাঁটার খোঁচা খেয়ে তুমি যতো কাঁদবে, আমরা ততো হাসবো। হাসতে হাসতে হাওয়ায় দোল খাবো। তখন বুঝবে মজা।
রজনীগন্ধা নয়, এবার কথাগুলো বলল অন্য কোনো ফুল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি আবার কে আমাদের মাঝে নাক গলাতে এলে?
: আমি ঝুমকো। গোলাপ চামেলি রঙ্গন আর রজনীগন্ধার বন্ধু।
: তাই?
ঝুমকো নামের সেই ফুলটা বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, তাই। আমরা সবাই সবার বন্ধু। আমরা মানুষদের মতো দেখেশুনে বেছে বেছে বন্ধুত্ব করি না। অতোটা স্বার্থপর আমরা নই।
আমি দেখলাম গোলাপ থেকে একটু দূরে একটি লাল ফুল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে। এ ফুলকেই যে সবাই ঝুমকো বলে আমি তা জানি। সেই ঝুমকোকে বললাম, কথা শুনে মনে হচ্ছে তোমরা সবাই সবাইকে খুব ভালোবাসো। কাউকে দুঃখ দিতে চাও না। কিন্তু আমাকে ব্যথা পেতে দেখে তোমরা যে হেসে উঠেছো, আমি তাতে দুঃখ পেয়েছি। প্লিজ, এমন নিষ্ঠুরের মতো কাজ করো না।
ঝুমকো জবাব দেয়ার আগেই চন্দ্রমল্লিকা বলল, আমরা হেসেছি, তাতেই তুমি দুঃখ পেয়েছো! আমাদের নিষ্ঠুর বলে গালমন্দ করছো। আর তুমি যে রোজ রোজ বাগানে এসে আমাদের বোঁটা থেকে ছিঁড়ে নিয়ে যাও, পাপড়ি খুলে হাওয়ায় ভাসিয়ে দাও, পা দিয়ে পিষে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দাও, তাতে আমাদের কষ্ট হয় না? আমরা ব্যথা পাই না?
: ব্যথা পাও? ফুলেরা আবার ব্যথা পায় নাকি?
: হ্যাঁ রে ভাই, খুউব ব্যথা পাই। ব্যথা পেয়ে আমরা চিৎকার করে কাঁদি। আমাদের ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু তুমি তা শোনো না। বরং নেচে নেচে গেয়ে গেয়ে আমাদের পিষে মারো। মালা গেঁথে ডলে-মুচড়ে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দাও! তুমি এমন করো কেন, তুলি? তুমি কি ফুলদের ভালোবাসো না? একটুও মায়া হয় না আমাদের জন্যে?
নিজেদের কথা বলতে গিয়ে চন্দ্রমল্লিকা ডুকরে কেঁদে উঠল। ওকে কাঁদতে দেখে অন্য ফুলরাও কান্নায় ভেঙে পড়ল।
বাগানের চারদিক থেকে যখন কান্নার শব্দ ভেসে আসতে লাগল, আমার নিজেরও তখন কান্না পেল। আমি বুঝতে পারলাম, এতোদিন আমি ফুলদের সঙ্গে অন্যায় করেছি। ওদের সঙ্গে অমন করা ঠিক হয়নি। এ জন্যে আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত। মামণি যেমন চান, তেমনভাবে বদলে যেতে হবে আমাকে।
ফুলরা তখনো ডুকরে ডুকরে কাঁদছিল। সেই কান্নার মাঝেই আমি বললাম, কেঁদো না চন্দ্রমল্লিকা। সেঁজুতি, রজনীগন্ধা আর সন্ধ্যামালতি— তোমরাও কেঁদো না। আমি কথা দিচ্ছি, আমি আর তোমাদের সঙ্গে অমন করবো না।
: করবে না তো?
কান্না থামিয়ে জিজ্ঞেস করল ছোট্ট এক নয়নতারা। আমি বললাম, না, একেবারেই করবো না।
: কিন্তু তোমাকে আমরা কেমন করে বিশ্বাস করবো, বলো? এতোদিন তুমি আমাদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছো। এমন করেছো কেন?
নয়নতারার প্রশ্নের জবাবে আমি বললাম, আসলে কী হয়েছিল জানো? অন্য প্রাণীদের মতো ফুলদেরও যে প্রাণ আছে, সুখ-দুঃখ বোঝার অনুভূতি আছে, আমি তা বুঝতে পারিনি। মামণি বোঝাতে চেয়েছেন, কিন্তু আমি বুঝতে চাইনি। আজ বুঝতে পেরে মন থেকে তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমাকে ক্ষমা করে দিয়ে তোমাদের বন্ধু করে নাও। বলো, নেবে বন্ধু করে?
নয়নতারা বলল, তুমি যদি সত্যি সত্যিই নিজেকে শুধরে নাও, আমাদের ভালোবাসো, তাহলে তোমাকেও আমরা ভালোবাসবো। বন্ধু করে নেবো। আমরা তো বন্ধু হয়েই থাকতে চাই।
ফুলদের ভালোবাসলেই ফুলরা আমাকে ভালোবাসবে, বন্ধুু করে নেবে, এ কথা শুনে আমার এতো ভালো লাগল যে, আনন্দে আমি দু হাতে চোখ ঢেকে কেঁদে ফেললাম।



