দাবায় মুগ্ধতা ছড়ানো মুগ্ধ

0
0

ফুটবলে যেমন মেসি-রোনালদো, বাস্কেটবলে যেমন কিং জেমস, ঠিক তেমনই দাবার জগতে এক অনন্য কিংবদন্তি হলেন ম্যাগনাস কার্লসেন। তাঁকে দাবার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা (GOAT) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দাবার সম্রাটকে পরাজিত করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে বাংলাদেশেরই এক ক্ষুদে প্রতিভাবান দাবাড়ু রায়ান রশিদ মুগ্ধ।
মাত্র ৯ বছর বয়সী মুগ্ধ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দাবাড়ুদের মধ্যে একজন। তাঁর সামনে রয়েছে এক বিস্তীর্ণ ও বর্ণাঢ্য দাবা ক্যারিয়ার। রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুলে সে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। অনূর্ধ্ব-১০ দাবা চ্যাম্পিয়নও বটে। যে বয়সে অনেক শিশুই খেলনা নিয়ে সময় কাটায়, সেই বয়সে মুগ্ধ ৮*৮ স্কয়ারের দাবা বোর্ডে নিজের মেধার ঝলক দেখাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে সে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এশিয়ান স্কুল দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছে।
বর্তমানে যেখানে বেশিরভাগ শিশু মোবাইল গেম ও ডিজিটাল কনটেন্টের প্রতি আসক্ত, সেখানে দাবার মতো মনোযোগ ধৈর্যের খেলা বেছে নেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। মুগ্ধ প্রথমে তার বাবা মামুনুর রশিদের কাছে দাবা শেখে। এরপর থেকে দাবার প্রতি তার অধ্যবসায় দিন দিন আরও গভীর হয়েছে। বর্তমানে তাকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ফিদে মাস্টার নাঈম হক।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দাবার উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করা হলেও প্রত্যাশিত সাফল্য অনেক সময় আসছে না। অথচ, বাংলাদেশের মতো সীমিত রিসোর্স ও দাবার স্বল্পসংস্কৃতির মধ্যেও মুগ্ধ নিজের মেধা ও যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে। তার দাবা ক্যারিয়ার মাত্র তো শুরু; তার স্বপ্ন একদিন গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া।
তার প্রশিক্ষক নাঈম হক জানিয়েছেন, “মুগ্ধ অসাধারণ সম্ভাবনাময় এবং বর্তমান অনেক দাবাড়ুর চেয়েও এগিয়ে।”
চেস ডটকম নামক প্ল্যাটফর্মের একটা নির্দিষ্ট বুলেট দাবা টুর্নামেন্ট খেলার জন্য কোচ নাঈম এর আইডি ব্যবহার করছিল মুগ্ধ। বুলেট ফরম্যাট হচ্ছে দাবার বিশেষ একটি ফরম্যাট, যেখানে প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্য এক মিনিট বরাদ্দ থাকে খেলাটি শেষ করার জন্য। খেলা শুরুর আগে র‌্যান্ডম পেয়ারিং -এর সময় হঠাৎ তার খেলা পড়ে যায় পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনের সাথে। খেলার শুরুতে ম্যাগনাস তার কুইন ব্লেন্ডার করে ফেলে, ঠিক তার পরেই মুগ্ধ গেমটাকে কনভার্ট করে ফেলে এবং অবশেষে নিজের জয় ছিনিয়ে নেয়।

আমরা মুগ্ধের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি এবং আশা করি, তার মতো প্রতিভাবান দাবাড়ুরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাবে, যেন তারা বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে।

প্রকাশকাল: মার্চ ২০২৫