
ফররুখ আহমদ। কেউ বলেন- মুসলিম রেনেসাঁর কবি, কেউ বলেন মানবতার কবি, কেউবা ফুল-পাখিদের কবি বলে ডাকেন। আসলে তিনি ছিলেন ছোট-বড় সবার কবি।
সাল ১৯১৮। তৎকালীন যশোরের মাঝআইল গ্রামে জন্ম কবি ফররুখ আহমদের। কবির পিতা সৈয়দ হাতেম আলী ও মাতা রওশন আখতার।
১৯৪৭। রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে কবি শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে জনপ্রিয় ‘খেলাঘর’ পরিচালনা করেন। এখান থেকেই কবির লেখালেখি শুরু।
ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণে বিশ্বাসী, এজন্য তাকে মুসলিম রেনেসাঁর কবি বলা হয়। সত্যবাদী মানুষ হওয়ায় কবির চাকরি চলে যায়। অর্থাভাব সৃষ্টি হয় কবির পরিবারে। এক ছেলে ডাক্তারি পড়তো, কিন্তু অর্থের অভাবে লেখাপড়া শেষ করতে পারেনি। বিনা চিকিৎসায় এক মেয়ে মারা যায়। তবুও তিনি কখনো অসৎ পথে যাননি।
ফররুখ আহমদের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে সাত সাগরের মাঝি, নতুন সফর, সিরাজাম মুনীরা, মুহুর্তের কবিতা, ধোলাই কাব্য, কাফেলা, হাতেম তায়ী, নতুন লেখা প্রভৃতি।
কবি ছিলেন প্রতিবাদী। সমসাময়িক বিষয়ে প্রচুর লেখালেখি করতেন। নিজের বিয়ে উপলক্ষে লিখেন ‘উপহার’ নামক কবিতা। কবি আল্লামা ইকবালের ইন্তেকালে লিখেন কবিতা ‘স্মরণী’। দাঙ্গা-বিরোধী গুচ্ছকবিতা লিখেন। এছাড়াও তিনি রচনা করেছেন গদ্যনাটিকা ‘রাজরাজড়া’।
ছোটদের জন্য তিনি লিখেছেন অনেক মজার মজার ছড়া কবিতা, গান, গল্প ও নাটক-নাটিকা। পাখির বাসা, হরফের ছড়া, চাঁদের আসর, ছড়ার আসর, ফুলের জলসা, নয়া জামাত, চিড়িয়াখানা, কাফেলা, আলোকলতা, খুশির ছড়া, ছড়াছবির দেশে, পাখির ছড়া, রঙমশাল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ।
১৯৬০ সালে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ লাভ করেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। মজার ব্যাপার কী জানো? ‘পাখির বাসা’ কাব্যের জন্য ইউনেস্কো ও হাতেম তায়ী কাব্যের জন্য আদমজী সহ আরও অনেক পুরস্কার লাভ করেন।
১৯ অক্টোবর ১৯৭৪। ফররুখ আহমদ বিনা চিকিৎসায় ইন্তেকাল করেন। পরিচিত জনেরা কবিকে সরকারি জায়গায় দাফন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সরকারের অবহেলার কারণে জায়গা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ঢাকার শাহজাহানপুরে তাঁর বন্ধু কবি বেনজীর আহমদের পারিবারিক কবরস্থান বেনজীর বাগানে দাফন করা হয়।
বন্ধুরা, কবির সবচেয়ে বড় গুণ ছিলো, তিনি ছিলেন আত্মমর্যাদাবান। ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি কারও কাছে কখনো হাত পাতেননি।
জুন মাসের ১০ তারিখে কবির জন্মবার্ষিকী। এসো আমরা কবির জন্য মন খুলে দোয়া করি।

