একনজরে বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফের বর্ণাঢ্য জীবন

পরিচিতি :
বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ
বি.এস সি; বি.এড; এম.এ (ডবল)
পিতা: মৃত আলহাজ্জ ড. জোনাব আলি
মাতা: মৃত আলহাজ্জ মরিয়মেন্নেসা
সহধর্মিনী: মৃত সুলতানা আয়েশা রউফ
জন্ম: ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৪ খ্রি. ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের গোশটা গ্রাম

শিক্ষাজীবন :
ম্যাট্রিকুলেশন- ১৯৫১ সালে সরকারি জেলা স্কুল, ময়মনসিংহ থেকে প্রথম বিভাগে।
আইএসসি- আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ থেকে প্রথম বিভাগে।
বি.এসসি- আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ থেকে প্রথম শ্রেণি।
বি.এড- টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ময়মনসিংহ থেকে বিশেষ কৃতিত্বসহ ।
এম.এ (শিক্ষা)- টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ময়মনসিংহ ।
এম.এ (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক)- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এলএলবি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

কর্মজীবন :
১৯৬২ সালে তৎকালীন ঢাকা হাইকোর্ট বার এ যোগদান।
১৯৭০ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন
২৯ জানুয়ারি ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
১৯৮৭ সালে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৩(৪) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রতিরোধমূলক আটক সংক্রান্ত মামলার পর্যালোচনার জন্য পরামর্শক বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
২৫ ডিসেম্বর, ১৯৯০ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং অত্যন্ত সফলভাবে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করেন। যা দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে এক উদাহরণ হয়ে আছে।
এছাড়াও, ১৯৯৩-১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত সকল সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং ভোটারদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন।
১৯৯৩-১৯৯৪ সালে দুটি মডেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর একটি দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, ময়মনসিংহ জেলা এবং অন্যটি টঙ্গী পৌরসভা নির্বাচন, ঢাকা। এই নির্বাচনে ভোটারদের নিজেদের দায়িত্বে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ভোটার পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য তারা নিজেরাই প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোনো পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা হয়নি; বরং ভোটাররাই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। এশিয়া ফাউন্ডেশন এই প্রকল্পের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। ১৯৯৪ সালে নির্বাচন কমিশনে ভোটার নিবন্ধন এবং তথ্যভাণ্ডারের (ডাটাবেজ) ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) প্রদানের প্রক্রিয়া চালু করেন এবং সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও বাংলাদেশ সংসদে পাশ করান।
১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদ ত্যাগ করে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে আবার কাজ শুরু করেন।
জুন ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আপীল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সালে ৬৫ বছর বয়সে অবসরজনিত বয়সসীমা অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্ট থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

সামাজিক কার্যক্রম :
চেয়ারম্যান, হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ, হামদর্দ ফাউন্ডেশন এবং হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।
কেন্দ্রীয় সভাপতি, ফুলকুঁড়ি আসর (একটি জাতীয় শিশুকিশোর সংগঠন)
চেয়ারম্যান, আল-বারাকা ফাউন্ডেশন, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে কাজ করছে এবং ঢাকায় একটি জেনারেল হাসপাতাল ও একটি কিডনি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছে।
চেয়ারম্যান, হলি মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল এজেন্ডা কাউন্সিল (CNA)
চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদ বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ব্যুরো (BHRB)
গভর্নর, বোর্ড অব গভর্র্নরস বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি (একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়)
সদস্য, আইন অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সভাপতি, তিব্বিয়া হাবিবিয়া কলেজ, ঢাকা।
সভাপতি, ময়মনসিংহ হোমিওপ্যাথিক ডিগ্রি কলেজ ও হাসপাতাল।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক-
ক) ন্যাশনাল হাফেজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ
খ) কারী অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ
সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি, যা বাংলাদেশের ৫২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য কাজ করেছে।
সদস্য, শরিয়াহ কাউন্সিল,
ক) ইসলামিক প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি
খ) মেঘনা ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

মৃত্যুবরণ :
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ খ্রি. রবিবার সকাল ৯.৫০টায় ঢাকার ইনসাফ বারাকা কিডনি ও জেনারেল হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে এই মহৎ মানুষটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে, ১ কন্যা, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু আইন ও বিচার বিভাগই নয়, দেশ হারালো একজন প্রকৃত অভিভাবক, একজন দিকনির্দেশক, একজন সত্যনিষ্ঠ সংগঠক।

প্রকাশকাল: এপ্রিল ২০২৫