স্মৃতির পাতায় হিমেল ভাইয়া

এই তো সেদিন! আমার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিলো। হিমেল ভাই ইনবক্সে একটি মেসেজ দিয়েছেন। আসসালামু আলাইকুম। আপনি কেমন আছেন কবি? আপনার সাথে কথা ছিলো! ব্যস্ত আছেন নাকি? পরীক্ষা কেমন হচ্ছে?
অনলাইনে না থাকার কারণে সেদিন মেসেজটি দেখতে পারিনি। পরের দিন সালামের জবাব দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বললাম, জ্বি ভাইয়া। আলহামদুলিল্লাহ! আপনি কেমন আছেন? জ্বি ফ্রি আছি। বলেন। উনি আমাকে কবি বলে সম্মোধন করতেন। মাঝে মাঝে কবি ভাইয়া বলেও সম্মোধন করতেন।
লাভ রিয়েক্ট দিয়ে বললেন, কবি পরিবারের সবাই কেমন আছেন? উত্তর শেষ করে আমিও ভাইয়ের পরিবারের খোঁজ নিতে গেলাম। উনি স্যাড রিয়েক্ট দিয়ে বললেন,‘আমার তো আম্মু-আব্বু কেউ নেই ভাইয়া। প্রায় ছয় বছর আগে আমাকে এতিম করে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে চলে গিয়েছেন। তবে আমরা তিন ভাই এক বোন। ভাই-বোনদের মাঝে আমি সব ছোট প্রিয় ভাই। তারা সবাই মহান রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়ায় অনেক ভালো আছে।’
এই কথাটি শুনে বুকটা আঁতকে উঠলো। কেনো সে কথা বলতে গেলাম। আরও অনেক কথা হলো।
তারপর বললেন, কবি আল মাহমুদকে নিয়ে কোনো লেখা থাকলে দেন তো! দিলাম; দেখে বললেন, আপনার লেখার হাত অনেক শক্ত মাশাআল্লাহ্। অনেক দু’আ রইলো। আমিও দু’আ করলাম। উনি বললেন, মাসিক ফুলকুঁড়ির জন্য লেখাটা নিলাম। সিলেক্ট হলে আপনাকে জানাবো। দুই মাস পরে লেখাটি ছাপানো হয় মাসিক ফুলকুঁড়ি পত্রিকায়। আমি পত্রিকা পাওয়ার আগে উনিই জানালেন, আলহামদুলিল্লাহ! কবি আপনার লেখাটি ছাপানো হয়েছে।
এরপর আরও কয়েকবার কথা হয়েছে হিমেল ভাইয়ার সাথে। প্রতিবারই অনেক আদর ও মায়া মেখে; দু’আর স্বরে কথা বলতেন তিনি। উনি সম্ভবত মনে করতেন যে, আমি ঢাকা বা এর আশপাশের জেলায় থাকি। পরে বললাম ভাইয়া! আমার বাসা তো নীলফামারী জেলা। বললেন, ঢাকা আসা হয় কি? বললাম, খুব কম। বছরে দুই একবার যাওয়া হয়। বললেন, এবার কখনও ঢাকা আসলে অবশ্যই দেখা করবেন কিন্তু। বললাম, ঠিক আছে ভাইয়া ইনশাআল্লাহ।
এই কথার পর ঢাকা গিয়েছিলামও বটে। কিন্তু ভাইয়ের সাথে সময়ের স্বল্পতার কারণে সাক্ষাৎ করতে পারিনি। কে জানতো! তার সাথে এভাবে আর দেখা হবে না। কথা হবে না। জানলে কি আর সাক্ষাৎ না করে আসতাম। এই কথা যতবার ভাবছি; ততবার নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। মনে বারবার বাজছে কেনো দেখা করলাম না! কেনো দেখা করলাম না!
হিমেল ভাইয়া অনেক ভালো মনের মানুষ ছিলেন। ইয়া আল্লাহ্, হিমেল ভাইয়ার সকল গুনাহ মাফ করুন। ভাইয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। পরিশেষে প্রিয় হিমেল ভাইয়া, আল্লাহ হয় তো চাননি দুনিয়ার এই সফরে আপনার সাথে সাক্ষাৎ হোক। আল্লাহর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আল্লাহ্ আপনাকে উত্তম সম্মান দান করুন। দেখা হবে জান্নাতের সিঁড়িতে- ইনশাআল্লাহ!

প্রকাশকাল : সেপ্টেম্বর ২০২৬